ঢাকাFriday , 12 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষার ২ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা


June 12, 2026 1:15 am
Link Copied!


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে পাঠ্যক্রম সংস্কার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে রেকর্ড ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতসহ শিক্ষায় মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। ফলে জিডিপির তুলনায় শিক্ষা ব্যয় (মানবসম্পদ উন্নয়নসহ) আগের ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে শিক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছালেও তা এখনও ইউনেসকোর নির্ধারিত ৪ থেকে ৬ শতাংশ মানদণ্ডের অনেক নিচে। আঞ্চলিক অনেক দেশের তুলনায়ও এ হার কম।

প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বাজেট উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ধীরে ধীরে শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘সরকার দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সনদের সমমান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং পাঠদান কার্যক্রমের উৎকর্ষ সাধন আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের শিক্ষার্থীরা হবে বাংলাদেশের গর্ব এবং বিশ্বের দায়িত্বশীল নাগরিক। এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তারা শিখবে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শান্তির সংস্কৃতি।’

অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘আনন্দের সঙ্গে শেখা’কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ কারিগর, প্রকৌশলী, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী বা ক্রীড়াবিদ হিসেবে সমান মর্যাদার সঙ্গে পেশা বেছে নিতে পারে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ

মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতসহ শিক্ষায় মোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। ফলে জিডিপির তুলনায় শিক্ষা ব্যয় ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই দুই মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেট বরাদ্দ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ১১১ কোটি টাকা।

দুই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

শিক্ষা খাতে প্রধান উদ্যোগ

স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা

নারীশিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা

দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে।

তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে। ভাষার তালিকায় থাকবে জাপানি, কোরিয়ান, মান্দারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা। এসব ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ পাবে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা

শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

মধ্যাহ্নভোজ ও শিক্ষার্থী কল্যাণ

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু এবং ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের জন্য উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা

প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হবে।

শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ

শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, শিক্ষানবিশ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে স্টার্টআপ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম উৎসাহিত করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন

অর্থমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসায় বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হবে।





Source link

🔴 LIVE html