লালমনিরহাট জেলার সীমান্তের চারটি স্থান দিয়ে ৩২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবি ২৮ জনকে ভারতীয় অংশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হলেও চারজন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
লালমনিরহাট জেলার পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে রয়েছে সীমান্ত এলাকা। জেলায় বিজিবি-১৫, বিজিবি-৫১ ও বিজিবি-৬১; এই তিনটি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে।
বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন দিঘলটারী ও দুর্গাপুর বিওপি এলাকা দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাদের অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়। সাতজনকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। অপর চারজন বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে বিজিবি-৫১ (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) এর বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ২১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
বিজিবি রংপুর সেক্টর জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ দেশের প্রচলিত ও বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় হস্তান্তরের পরিবর্তে গভীর রাতে সীমান্তের বিভিন্ন কাঁটাতারবিহীন এলাকা এবং সীমান্ত ফেন্সের গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম সীমান্ত ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিদ্যমান সমঝোতা, প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত আচরণের পরিপন্থী।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
রংপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতায় শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের একাধিক প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।