ঢাকাSaturday , 6 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

ফ্রিল্যান্সারদের ৭.৫ শতাংশ উৎসে কর বিতর্ক: সিদ্ধান্তে স্বস্তি, বাস্তবায়নে ধোঁয়াশা


June 6, 2026 10:35 am
Link Copied!


দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয়ের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনার ঝড়। সরকারের পক্ষ থেকে এই কর প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তির বার্তা ছড়ালেও, এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, ব্যাংকিং চর্চা এবং নীতিগত ব্যাখ্যার অস্পষ্টতা এখন নতুন এক বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং খাতের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, বৈদেশিক প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত আয়ের ওপর উৎসে কর আরোপ তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে তরুণ ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতারা মনে করেন, এ ধরনের কর কাঠামো তাদের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং আয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জটিলতা তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বে কাটা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে অনেকেই ধারণা করছেন, বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ ও ডিজিটাল রেমিট্যান্স আরও গতিশীল হতে পারে।

তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফ্রিল্যান্সার অভিযোগ করেছেন, সরকারি ঘোষণার পরও কিছু ব্যাংক এখনও ‘ইনওয়ার্ড কমার্শিয়াল রেমিট্যান্স’ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অর্থ কেটে নিচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে— একই নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যাংকিং পর্যায়ে একক ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না?

সম্প্রতি বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গ্রাহকের হিসাব থেকে কর কর্তনের পরিমাণ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কেটে নেওয়া হয়েছে, যা নীতিগত ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত সরকারিভাবে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান।

পোস্টে তিনি একটি ব্যাংক লেনদেনের স্ক্রিনশটও যুক্ত করেন, যেখানে দেখা যায়, ২৩ হাজার টাকার বেশি রেমিট্যান্স জমা হওয়ার পর তার ওপর থেকে নির্দিষ্ট হারে ‘ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স’ কেটে নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ফ্রিল্যান্সার বা প্রবাসী রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর কাটার কোনও সুস্পষ্ট বিধান নেই। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর থেকে কর কর্তনের কোনও বিধান নেই। এ তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।’ এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর কর্তনের ভিত্তি আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং বিষয়টি নিয়ে প্রচলিত কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে।

এনবিআরের এই ব্যাখ্যা নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে, যদি আইনগত ভিত্তিই না থাকে, তাহলে অতীতে ব্যাংকগুলো কীভাবে এবং কোনও নির্দেশনার ভিত্তিতে এই কর কেটেছে?

এদিকে বেসরকারি খাতের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আইটি ফ্রিল্যান্সিং খাতে উৎসে কর কর্তন আপাতত বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে পূর্বে কেটে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সরাসরি নীতিগত ব্যাখ্যা না দিয়ে জানিয়েছে, কর নির্ধারণ ও উৎসে কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এখতিয়ারভুক্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কর-সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ বিষয়ে এনবিআরই ভালো বলতে পারবে। ফলে ব্যাংকগুলো সাধারণত এনবিআরের নির্দেশনার ভিত্তিতেই কর কর্তন বা সমন্বয় করে থাকে। তবে বাস্তব প্রয়োগে নির্দেশনার অস্পষ্টতা এবং ব্যাখ্যার ভিন্নতা প্রায়ই জটিলতা তৈরি করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো পরিস্থিতি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় দুর্বল দিককে সামনে এনেছে– নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক ব্যাখ্যা এবং ব্যাংকিং বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি। দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং খাতে যদি করনীতি স্পষ্ট, একক এবং প্রযুক্তিনির্ভর না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আস্থা সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সারদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু কর প্রত্যাহারের ঘোষণা নয়, এর সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। তাদের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্পষ্টতা না থাকলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

সব মিলিয়ে, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত একদিকে ডিজিটাল খাতের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনলেও, এর বাস্তবায়ন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে বিষয়টি আর শুধু কর নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ আস্থা, নীতি-স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।





Source link

🔴 LIVE