ঢাকাWednesday , 10 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ বনাম বইয়ের সুবাস: দর্শকদের ভাবাচ্ছে ঈদ নাটক ‘বই পোকা’


June 10, 2026 8:45 am
Link Copied!


কোরবানির ঈদে ওটিটি আর ইউটিউব জুড়ে যখন ট্রেন্ডি ও কমেডি নাটকের জোয়ার, তখন একদম ভিন্ন স্রোতের এক গল্প নিয়ে হাজির হয়ে দর্শকদের আলাদা করে নজর কেড়েছে বিশেষ নাটক ‘বই পোকা’। গত ২ জুন ইউটিউবের ‘ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট’ চ্যানেলে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় নাটকটি পার করেছে মিলিয়নেরও বেশি ভিউয়ের ঘর। তবে ভিউয়ের চেয়েও বড় কথা, দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা আর হাজারো ইতিবাচক মন্তব্য প্রমাণ করছে— দর্শকরা এখনো রুচিশীল ও চিন্তাশীল গল্পের জন্য তৃষ্ণার্ত। আকবর হায়দার মুন্নার গল্প ভাবনায় নাটকটি রচনা করেছেন লিমন আহমেদ এবং পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা তপু খান।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবন এখন রিলস, লাইভ, লাইক আর কমেন্ট শেয়ারের ভার্চুয়াল খাঁচায় বন্দী। এই করাল গ্রাস থেকে বাদ যাচ্ছে না মধ্যবয়সী বাবা-মায়েরাও। ‘বই পোকা’ নাটকে ঠিক এই চেনা কিন্তু ক্ষতিকর বাস্তবতার দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে। গল্পে দেখা যায়, বই পড়তে ভালোবাসে এমন দুজন তরুণ-তরুণীর দেখা হয় বই কিনতে গিয়ে। এরপর বই আদান-প্রদানের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত সুন্দর আত্মিক ঘনিষ্ঠতা।

খায়রুল বাশার ও সাদনিমা
সমাজের স্রোতের বিপরীতে চলা এই দুই তরুণের জীবনের ক্রাইসিস বা সংকটগুলোও এক বিন্দুতে গিয়ে মেলে। কারণ, তাদের দুজনেরই বাবা-মা তীব্রভাবে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’য় আক্রান্ত! ভার্চুয়াল জগতের লাইক-কমেন্টের নেশায় বুঁদ হয়ে প্রবীণ এই মানুষগুলো যেন বাস্তব জীবন আর পারিবারিক সম্পর্কগুলোকেই ভুলতে বসেছেন।

মোবাইল আসক্তিতে ডুবে থাকা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই করুণ ও বাস্তব চিত্রগুলো নাটকে অত্যন্ত চমৎকার ও সূক্ষ্মভাবে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দেখে হাসির ছলে দর্শক নিজের অজান্তেই এক বড় ধরনের আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি হচ্ছেন।

নাটকের দৃশ্য
নাটকটির মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মন্দ প্রভাব ও এর প্রতি মানুষের আসক্তির নেতিবাচক দিকটি ফুটিয়ে তোলা।

নির্মাতা তপু খানের মতে, নাটকটি নির্মাণের সময় থেকেই তাদের বিশ্বাস ছিল এটি দর্শকদের ভালো লাগবে।

গল্পকার আকবর হায়দার মুন্নাও একই সুরে বলেন, “বর্তমানে আমাদের সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ফ্যান্টাসিটা বাড়াবাড়ি রকমের, যা পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো নষ্ট করছে। পাশাপাশি মানুষ এখন বই ও সাহিত্য পড়তে চায় না। এই প্রথাগত বিষয়গুলোকে নাড়া দিতেই মূলত এই গল্পের ভাবনা, আর দর্শকের এমন চমৎকার সাড়া তাদের সেই উদ্দেশ্যে এক দারুণ তৃপ্তি এনে দিয়েছে।”

নাটকটিতে প্রধান দুটি চরিত্রে জুটি বেঁধে অনবদ্য অভিনয় করেছেন এই প্রজন্মের প্রিয় মুখ খায়রুল বাসার এবং সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান।
আজিজুল হাকিম ও মুনীরা ইউসুফ মেমী
পর্দায় তাদের সাবলীল কেমিস্ট্রি এবং হৃদয়ছোঁয়া সংলাপ দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। এই নাটকে কাজ করে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী সাদনিমা জানান, চরিত্রটির তিনি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন এবং এই কাজের অভিজ্ঞতা তার দীর্ঘদিনের স্মৃতির পাতায় জমা থাকবে।

নাটকের অভিনেতা খায়রুল বাসার বলেন, “একটা ভিন্নধর্মের গল্পের নাটক ‘বই পোকা’। এর সংলাপগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তপু ভাইকে ধন্যবাদ এমন একটা নাটকের জন্য।”

প্রধান দুই চরিত্রের পাশাপাশি নাটকটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী। আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা এবং রোজি সিদ্দিকীর মতো জাঁদরেল অভিনেতারা নাটকটির গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া একটি বিশেষ চরিত্রে তারিক আনাম খানের উপস্থিতি নাটকটিকে এক অনন্য পূর্ণতা দিয়েছে।

তারিক আনাম খানকে দেখা যাবে একজন প্রখ্যাত লেখক চরিত্রে
ভার্চুয়াল দুনিয়ার মোহে যখন আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই ‘বই পোকা’ নাটকটি এসে দর্শকদের মনে করিয়ে দিল— স্ক্রিনের আলো সাময়িক, কিন্তু বইয়ের পাতার সুবাস চিরন্তন। সমাজকে নাড়া দেওয়া এই গল্পটি যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি অনেকের বিশ্বাস— সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বই থেকে দূরে সরে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের আবারও বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এক বড় ভূমিকা রাখবে ‘বই পোকা’।

বইপোকা





Source link

🔴 LIVE ```html ```