‘পোড়ামন’-এ অভিনয় দিয়েই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাইমন সাদিক। ঢালিউডের অন্যতম হিট ছবির এ নায়ক ক্যারিয়ারে খুব বেশি ট্র্যাক বদলাননি। বড়পর্দায় নিজের রোমান্টিক হিরোর ইমেজ নিয়েই ছিলেন।
রেহানা মরিয়ম নূর নির্মাণ করে কান থেকে শুরু করে ঢালিউডের বড়পর্দায় নন্দিত হওয়া নির্মাতা আব্দুল্লা মোহাম্মদ সাদ এর নতুন নির্মাণ অ্যানি’তে তাকে দেখে সকলেই চমকে গেছেন। চিরাচরিত বাণিজ্যিক ধারার নায়কের খোলস ভেঙে সাদের মতো একজন ভিন্নধারার নির্মাতার ডার্ক, মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাসে সাইমনকে এভাবে আবিষ্কার করা যাবে—তা হয়তো দর্শক ও সমালোচকদের কল্পনারও বাইরে ছিল।
নির্মাতার এই চমকই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রেলারেও সাইমনের চরিত্র নির্বাচন ও পারফরম্যান্স নিয়ে দর্শকের কৌতূহল বাড়ছে।
সোমবার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই অভিনেতা। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, কিভাবে এই সংযোগ ঘটলো। সে দায় থেকে নিজেই জানালেন, কীভাবে তিনি এই প্রজেক্টে যুক্ত হলেন এবং পুরো জার্নিটা কেমন ছিল।
শুরুতেই সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “গতকাল ট্রেইলার প্রকাশের পর থেকে আমার অনেক ভাই-বন্ধুরা ফোনে আমাকে তাদের ভালোলাগার কথা জানাচ্ছেন,যা আমাকে অনেক দিন পরে শিল্পী হিসেবে আবেগে ভাসিয়েছে। ধন্যবাদ সবাইকে।”
ফেসবুকে তার স্ট্যাটাস অনুযায়ী,পুরো যাত্রা শুরু হয় একটা ফোন কল থেকে। প্রাথমিক একটি কাজের আলোচনা থেকে ধীরে ধীরে সামনে আসে নির্মাতার ভাবনা। গল্প শোনার পর আগ্রহ তৈরি হলেও সাইমনের সাথে মুখোমুখি হয়ে ফের চিত্রনাট্যে হাত বসান সাদ। পরিমার্জনার জন্য নির্মাতা প্রায় ১৫–২০ দিন সময় নেন। তারপর একাধিক বৈঠক, রিহার্সাল এবং টিম আলোচনার মাধ্যমে এগোয় প্রস্তুতি।
শুটিং অভিজ্ঞতাকে সাইমন সাদিক বলেন, “সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আমার সকল সহশিল্পী ইয়াশ,তুষি,সারিকা সহ ৬ জন ছোট ছোট বাচ্চা সবার একটাই লক্ষ্য ছিলো পরিচালক কে ফলো করা। সাদ ভাই সেই জায়গায় সম্পূর্ণ সফল।”
ট্রেলার থেকে আভাস পাওয়া যায়, অ্যানি একটি ডিস্টোপিয়ান অর্থাৎ ধ্বংসোন্মুখ ও অন্ধকার এক ভবিষ্যতের গল্প, যেখানে ‘রেড ডিজিজ’ নামের একটি রহস্যময় ভাইরাসের থাবায় অবরুদ্ধ পুরো সমাজ। তবে এটি কোনো সাধারণ মহামারি নয়, ট্রেলারের ভাষায় এটি একটি ‘হেট ভাইরাস’ বা ঘৃণার ভাইরাস, যা মানুষের ভেতরে এক ধরনের মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে।
এই চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘লাকি সিক্স’ নামের এক পরিবার—যাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যানি, বেনি, জেনি, এপ্রিল, মে এবং তাদের একমাত্র ছোট ভাই জুন। এই অদ্ভুত ও বৈরী পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকার লড়াই এবং ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরই যেন গল্পটির মূল চালিকাশক্তি।
ভিজ্যুয়াল বা নির্মাণশৈলীর দিক থেকে সাদ তাঁর নিজস্ব সিগনেচার স্টাইল বজায় রেখেছেন। পুরো ট্রেলার জুড়েই ব্লু অ্যান্ড ডার্ক প্যালেট অর্থাৎ নীলচে ও অন্ধকার রঙের আবহ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক ধরনের ঠান্ডা অস্বস্তি ও বদ্ধ পরিবেশের ভয় তৈরি করে।
প্রতিটি ফ্রেম, লন্ঠনের আলো কিংবা ইমার্জেন্সি লাইটের ব্যবহার রহস্যের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে আবহ সংগীতে বড় কোনো বাদ্যযন্ত্রের বদলে মানুষের দীর্ঘশ্বাস, দরজায় আঘাত, বাচ্চার কান্না আর সংলাপের মধ্যবর্তী নীরবতাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা পুরো আবহকে দারুণ রিয়েলিস্টিক করে তুলেছে।
প্রধান চরিত্রে নাজিফা তুষির উপস্থিতি ছিল বেশ জোরালো ও ইনটেন্স। তবে ট্রেলারটির সবচেয়ে বড় চমক ছিল ঢালিউডের জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ধারার নায়ক সাইমন সাদিক।
ওটিটির জন্য তৈরি সাদের প্রথম এই মিনি সিরিজটি মুক্তির আগেই দেশের বাইরে সম্মানজনক আন্তর্জাতিক উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে। জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প’-এর ‘স্পটলাইট: উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘অ্যানি’।