ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান থেকে শুরু করে ইয়েলোকেক (আকরিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ঘনীভূত ইউরেনিয়াম গুঁড়ো) উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায় সৌদি আরব। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।
সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সম্পদ উন্নয়নে তিনটি পথে এগোচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফসফেট সার উৎপাদনে ফসফরিক অ্যাসিড তৈরির উপজাত হিসেবে ইউরেনিয়াম আহরণ। মদিনার জাবাল সাইয়িদে চিহ্নিত ইউরেনিয়াম সম্পদ উন্নয়ন এবং প্রচলিত ইউরেনিয়াম মজুতের সন্ধানে ভূতাত্ত্বিক জরিপ বাড়ানো। জাবাল সাইয়িদে প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টন আকরিক রয়েছে। সেখানে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি বিরল মৃত্তিকা উপাদানেরও উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে।
প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, সৌদির কর্মসূচি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এবং গোপনে বা অঘোষিত কোনও স্থাপনায় কার্যক্রম চালানো হবে না। আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতার মাধ্যমেই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই। জুলাইয়ে সই হওয়া ৩০ বছরের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে তিনি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রিক বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে রিয়াদের ঘোষিত পরিকল্পনা পুরো পারমাণবিক জ্বালানি চক্র পর্যন্ত বিস্তৃত।
সৌদি আরব আইএইএ’র অতিরিক্ত প্রটোকলে সই করবে না। তবে এর পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করছে রিয়াদ। এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, রূপান্তর ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে আইএইএ।
ইউরেনিয়াম শুধু উত্তোলন নয়, পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও সক্ষমতা বাড়াতে চায় সৌদি আরব। এ লক্ষ্যে জাবাল সাইয়িদে পরিশোধন কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ফসফেট সম্পদ থেকে ইউরেনিয়াম আহরণে ফ্রান্সের ওরানোর সঙ্গে কাজ করছে দেশটি।
সূত্র: এন্টারপ্রাইজ এএম