একসময় স্কুল ছেড়ে কারখানায় দিনে ১.২০ ডলারে কাজ করা ৫৬ বছর বয়সী ঝোউ চুনফেই চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব অর্জন করেছেন। তিনি দেশটির গ্লাস উৎপাদনকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজি’র প্রতিষ্ঠাতা।
গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬ তালিকা অনুযায়ী, ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১ হাজার ৪২০ কোটি পাউন্ড) আনুমানিক সম্পদের মালিক হয়ে এই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেন ঝোউ। গত এক বছরে তার সম্পদ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাকে হ্যান্সোহ ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা ঝোং হুইজুয়ানের (১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান) চেয়ে সামান্য এগিয়ে রেখেছে। এর আগে ২০১৫ সালেও শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পেয়েছিলেন ঝোউ। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান হুরুন জানায়, পারিবারিক সম্পদ থেকে পৃথক করে কেবল নারীদের একক সম্পদের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৯ সাল থেকে তারা এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
১৯৭০ সালে হুনান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ঝোউ চুনফেইর বিলিয়নেয়ার হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল চরম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। কিশোর বয়সে পড়ালেখা ছেড়ে শেনঝেনে পাড়ি জমিয়ে একটি ওয়াচ-গ্লাস কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে নিজে গ্লাস প্রসেসিং ওয়ার্কশপ গড়ে তুলে উন্নত স্ক্রিন-প্রিন্টিং ও কার্ভড-গ্লাস তৈরির প্রযুক্তি শেখেন। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের কভার গ্লাস সরবরাহের কাজ পাওয়ার পর তার লেন্স টেকনোলজির ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেকের কাছাকাছি রাজস্ব এসেছিল অ্যাপল থেকে। ২০১৫ সালে শেনঝেন শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত হয়ে লেন্স টেকনোলজি ঝোউকে ধনী নারীর তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অ্যাপলের বিক্রি সংক্রান্ত উদ্বেগে ২০১৮ সালে লেন্স টেকনোলজির শেয়ার দর পড়ে গেলেও পরবর্তীতে তারা স্মার্টফোনের বাইরে ইলেকট্রিক যানবাহন, এআই হার্ডওয়্যার ও রোবোটিক্সে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। সম্প্রসারণের জন্য তহবিল তুলতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকং শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত হয় লেন্স টেকনোলজি। ২০২৬ সালের পুজিয়াং ইনোভেশন ফোরামে ঝোউ বলেন, এআই যুগে উৎপাদকদের কেবল কম্পিউটিং পাওয়ার ও অ্যালগরিদমের ওপর মনোযোগ দিলেই হবে না, বরং পুরো সিস্টেমজুড়ে ধারাবাহিক উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে।
ঝোউ চুনফেইর এই অবস্থান প্রতিফলিত হয় বেইজিংয়ে ১৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানার্থে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে, যেখানে তিনি অ্যাপলের সিইও টিম কুক এবং টেসলার সিইও ইলন মাস্কের মাঝামাঝি আসনে বসা ছিলেন।
হুরুনের মতে, চীনের শীর্ষ ৫০ জন ধনী নারীর মধ্যে ৬৫ শতাংশই স্বাবলম্বী। যৌথ সম্পদের হিসাবে হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টে ঝোউ চুনফেই ও তার স্বামী ৩৩ তম স্থানে রয়েছেন। আর ৬৭০ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদ নিয়ে সামগ্রিক তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইয়িমিন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট