নব্বই দশকের জনপ্রিয় তিন খলনায়ক রাজীব, ডিপজল ও মিশা সওদাগর। তবে তিনজনের একজন রাজীব প্রয়াত হয়েছেন দুই দশকের বেশি সময় আগে। এদিকে ডিপজল এখন আর আগের মতো অভিনয়ে নেই। মিশা সওদাগর একটু একটু করে দখলে নিয়েছেন শীর্ষ অভিনেতার জায়গা।
অনেকেরই অজানা, এই তিন অভিনেতা নায়ক হিসেবেই প্রথম ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। নায়ক চরিত্রে তাদের প্রত্যেকেরই এক-দুটো করে সিনেমা আছে। জেনে নেওয়া যাক কে কোন সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন…

রাজীব
১৯৮১ সালে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ ছবিতে প্রথম রাজীব নায়ক হয়ে অভিনয় করেন। তবে তিনি তারকাখ্যাতি পান কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকনসোনা’ ছবিতে অভিনয় করে। এছাড়া ‘দাবি’ নামের আরেকটি ছবিতেও নায়ক ছিলেন তিনি। আশির দশকের শেষদিকে ভিলেন হিসেবে যাত্রা করেন রাজীব।
নব্বই দশকের শুরুতে ‘দাঙ্গা’ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে তিনি দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। এ সিনেমাতে তার ‘আমি মাইন্ড করলাম’ সংলাপটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
২০০৪ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে এই অভিনেতা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৯৫২ সালে ১ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
রাজীব অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড, ‘প্রেম পিয়াসী, ‘সত্যের মৃত্যু নেই, ‘স্বপ্নের পৃথিবী, ‘আজকের সন্ত্রাসী, ‘দেনমোহর, ‘বাবার আদেশ, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত, ‘ভাত দে’ ও ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’।

ডিপজল
১৯৮৯ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘টাকার পাহাড়’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় ডিপজলের। পরবর্তীতে ‘হাবিলদার’ শিরোনামের আরও একটি সিনেমাতে নায়ক হিসেবে দেখা যায় তাকে। এরপর অভিনয় থেকে দূরে সরে যান তিনি।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘তেজী’ সিনেমায় ডিপজল ‘খলনায়ক’ হয়ে ফের সিনেমায় আসেন। এরপর ‘আম্মাজান’, ‘ঢাকাইয়া মাস্তান’, ‘ভয়ংকর বিষু’, ‘কুখ্যাত খুনী’, ‘কঠিন বাস্তব’ ও ‘ইতিহাস’সহ আরও অনেক ব্যবসাসফল সিনেমায় তিনি খলচরিত্রে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান।

মিশা সওদাগর
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হন মিশা সওদাগর। ১৯৯০ সালে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ এবং ‘অমরসঙ্গী’ নামের দুটি চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তবে ছবি দুটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি।
পরবর্তীতে তমিজ উদ্দিন রিজভীর ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমাতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
তার অভিনীত উল্ল্যেখযোগ্য সিনেমা হলো-‘আজ গায়ে হলুদ’, ‘স্বপ্নের পুরুষ’, ‘প্রতিবাদী মাস্টার’, ‘লালু কসাই’, কঠিন প্রেম’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘জান কোরবান’, হিটম্যান’, ‘বীর’, ‘বরবাদ’ ও ‘ইনসাফ’।