ঢাকাSaturday , 6 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘জোড়াতালি’ দিয়ে কত দিন ‘ঠিকঠাক’ থাকবে তেলের বাজার


June 6, 2026 10:40 am
Link Copied!


গ্রীষ্মকালীন গাড়ি চালানোর মরসুম শুরু হতেই দুটি বড় প্রশ্ন বিশ্ববাজারে ঘুরপাক খাচ্ছে—বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সংকট যতটা ভয়াবহ হওয়ার কথা ছিল, ততটা কেন হচ্ছে না? আর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ঠিক কত দিন পর আরও তীব্র রূপ নেবে?

বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং ক্রমবর্ধমান ঘাটতির একটি স্থায়ী ঝুঁকি লেগেই রয়েছে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে হয়, সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে। অথচ গত মার্চ ও এপ্রিলে যুদ্ধের তীব্রতার কারণে এই দাম সাময়িকভাবে ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বাজার থেকে ক্রমাগত তেল হারিয়ে গেলেও কাঁচা তেলের প্রকৃত দামও আগের সেই সর্বোচ্চ চূড়ার তুলনায় বেশ নিচেই রয়েছে।

বিশ্ববাজারে ফিউচার্স ও ফিজিক্যাল তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার পেছনে বেশ কিছু সমন্বিত কারণ বা শক্তি কাজ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এসব কারণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাককুয়ারি বুধবার এক নোটে জানিয়েছে, আগের বিশাল মজুদের কারণে বিশ্ব এখন পর্যন্ত তেল ও জ্বালানি পণ্যের সরাসরি ঘাটতি এড়াতে পেরেছে।

চীন আগে থেকেই তেলের বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে এবং বর্তমানে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।

সৌদি আরব হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্রানজিট বৃদ্ধি করেছে। এ ছাড়া সীমিত কিছু জাহাজ গোপনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আসা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এশিয়ার শোধনাগারগুলো সংঘাতের শুরুতেই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তেল পরিশোধন কমিয়ে দেয়, যার ফলে তেলের ব্যবহার কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র নিজের কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ করছে এবং রফতানি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে অন্যান্য দেশও তাদের নিজস্ব মজুদ বাজারে ছাড়ছে।

অনেক দেশের সরকার বাসা থেকে কাজের মতো জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি চড়া দামের কারণে অনেকেই ভ্রমণ কমিয়ে দিয়েছেন।

পুরো সংঘাতজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য, বিশেষ করে সম্প্রতি একটি চুক্তি কাছাকাছি রয়েছে বলে তার দেওয়া আভাস ফিউচার্স মার্কেটে তেলের দাম কমিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।

বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল উৎপাদন পুনরায় সচল না করা পর্যন্ত এই পদক্ষেপগুলো কেবল সাময়িক জোড়াতালি মাত্র। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজারে তেলের মোট ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম মিজুহো সিকিউরিটিজ ইউএসএ-এর রবার্ট ইয়গার বুধবার এক নোটে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বাজারে ১১ থেকে ১৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্য কোনও জায়গার মজুদ থেকে তেল খালাস করা হচ্ছে।

সরবরাহ বা ব্যবহারের এই পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি স্বচ্ছ না হলেও আগামী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে যে ধারণা করা হচ্ছে, তা বেশ অন্ধকার। ম্যাককুয়ারি-র অনুমান, বাজার আর বড়জোর এক বা দুই মাস ‘ঠিকঠাক’ থাকবে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে একপর্যায়ে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য মেলাতে হবে সবচেয়ে কঠিন উপায়ে। অর্থাৎ দাম এতোটাই আকাশচুম্বী হবে এবং সরবরাহ এতোটাই দুর্লভ হবে যে, বাধ্য হয়ে তেলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে হবে।

ম্যাককুয়ারি তাদের নোটে সতর্ক করে বলেছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবার পর্যন্ত যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছাবে। আর এই যুদ্ধ যদি ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তবে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ধরে রাখতে তেলের দাম হয়তো ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে।





Source link

🔴 LIVE