ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হারের পর প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে টরন্টোতে প্রায় নিখুঁত একটি ম্যাচ খেললো সেনেগাল। দশ জনের ইরাককে বিধ্বস্ত করে নকআউটের আশা টিকিয়ে রাখলো পাপে থিয়াওয়ের দল— তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘আই’-তে তৃতীয় স্থানে থেকেও তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এলো তারা। তবে শেষ ৩২-এ যাওয়া নিশ্চিত করতে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে সেনেগালকে।
এই বিশাল জয়ের ফলে তৃতীয় স্থানের দলগুলোর তালিকায় স্কটল্যান্ড নেমে গেছে নবম স্থানে— যেখানে নকআউটে যাওয়ার সুযোগ পাবে কেবল শীর্ষ আটটি দল।
চার মিনিটে এগিয়ে, নয় মিনিটেই দশ জনের ইরাক
শুরুতেই ঝড় তোলে সেনেগাল। মাত্র চার মিনিটে কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেডার সুন্দরল্যান্ড মিডফিল্ডার হাবিব দিয়াররার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়— ১-০।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ইরাকের জন্য। ১৩ মিনিটে বক্সের কিনারে সাদিও মানেকে টেনে ধরার অভিযোগে রেবিন সুলাকাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি অ্যান্থনি টেলর— ভিএআর রিভিউয়ের পর এটিকে স্পষ্ট গোলের সুযোগ নষ্ট করা বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মানে সেই ফ্রি-কিক থেকে গোলরক্ষক বাসিলকে পরীক্ষা করলেও গোল আসেনি।
গোল ব্যবধান বাড়ানোর প্রয়োজনে থাকা সেনেগাল প্রথমার্ধে আর কোনও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, দশ জনের ইরাকের বিপক্ষে সুবিধা থাকলেও।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলবন্যা, বদলিদের মহিমা
দ্বিতীয়ার্ধে খুলে যায় সেনেগালের আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার জিদান ইকবালের বল হারানোর সুযোগে লামিন কামারার কাট-ব্যাক থেকে সহজ ফিনিশে গোল করেন ইসমাইলা সার— ২-০।
মাত্র তিন মিনিট পরেই বদলি নামার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কার্লড শটে টপ কর্নারে গোল করেন পাপে গেয়ে— ৩-০। ৭১ মিনিটে আবারও একটি বিস্ফোরক শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভিয়ারিয়ালের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত আরেক বদলি ইলিমান এনদিয়ায়ে গোল করে ৫-০ ব্যবধানে সিল করে দেন জয়।
গোল ব্যবধানের লড়াই অব্যাহত
এই বিশাল জয়ে সেনেগালের গোল ব্যবধান উন্নত হলো, যা তৃতীয় স্থানের দলগুলোর মধ্যে নকআউটে যাওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাকি গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে পাপে থিয়াওয়ের দলকে।