ঢাকাWednesday , 3 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

ধর্ষণ ও হত্যার বিচার লম্বা হওয়া মানেই অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া: শফিকুর রহমান

uttorbongo bd
June 1, 2026 9:10 pm
Link Copied!


জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারীদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া, দুষ্কৃতকারীর পক্ষ নেওয়া।’

সোমবার (১ জুন) বিকেলে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন জামায়াতের আমির। সেখান থেকে তিনি রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে যান। মিরপুরে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কর্নেল আবদুল বাতেন এমপিসহ ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতারা।

হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৯ মে রামিসা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিন দিবাগত রাতেই আমি হজের সফর শুরু করি। ওই সময়ই খবর পাই, এ ধরনের একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করেছিলাম, আমরা সবাই সেখানে যাব, তাদের সান্ত্বনা দেব এবং তাদের কষ্টের অংশীদার হবো।

তিনি বলেন, পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের প্রিয় সংগঠন সোচ্চার প্রতিবাদ মিছিল-মিটিং করেছে এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে। এই নরপশুর বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে আমরা কর্মসূচি পালন করেছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী, তাদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই তাদের সহযোগিতা করা, অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া, দুষ্কৃতকারীর পক্ষ নেওয়া।’

তিনি আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনও আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ান। আমি আহ্বান জানাব, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনও ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না, যদি তার বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব। আমরা সেই আসামি হতে চাই না।

তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার বলেছি, এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না। কিন্তু হয়েই চলছে, বন্ধ হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো—বিচারের নামে অবিচার, বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা। এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনও আস্থা নেই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই, এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। স্বাধীনতা নিয়ে তারা ন্যায়বিচার করুক। আমরা এটিই দাবি করব।

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দাবি জানাই, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনও আলামতের প্রয়োজন নেই, আলামত স্পষ্ট। অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী কোনওভাবেই রেহাই পেতে পারে না। এ দুজনকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখন ধানাই-পানাই করে আরও কারও নাম বলতে পারে, বিচারকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে। এটি একটি চক্রান্ত। রামিসার বিচার নিয়ে কোনও তামাশা করা হোক, আমরা তা চাই না।’

আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘ওই দিনেই শুধু রামিসার জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে। রামিসার মা-বাবা দুজনেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দুজনকে আল্লাহ সুস্থতার নেয়ামত এনায়েত করুন। আর রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন।’

এ ঘটনায় ব্যথিত হয়ে ধর্ষক-খুনির প্রতি ধিক্কার ও নিন্দা জ্ঞাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান আমিরে জামায়াত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বলব, নীরবে শুধু ধিক্কার ও নিন্দা নয়, আসুন এ ব্যাপারে সোচ্চার ও সরব হই। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা এ নিয়ে রাজপথে আছি, সংসদে থাকবো এবং রাজপথে আপনাদের সঙ্গে থাকবো। এ দেশ আমাদের। দেশকে, সভ্যতাকে, সংস্কৃতিকে এবং মানবতাকে জাগিয়ে তোলা ও বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।’





Source link