কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামীরও মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনিরাম বলদিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ (৭১) ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০)। কয়েক দশক আগে হাত ধরে একসঙ্গে পথচলা শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। একসঙ্গে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তারা। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় আবু সাঈদের প্রতিবেশী মোকছেদুর রহমানের বাড়ির বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরের টিনের বেড়া বিদ্যুতায়িত হয়। বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। দুপুরে রাবেয়া বেগম ওই ঘরের পাশ দিয়ে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যান। এ সময় ভেজা মাটিতে পিছলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে টিনের বেড়ায় হাত দিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেন। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন। তার চিৎকারে বাড়িতে থাকা স্বামী সাঈদ স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে টিন থেকে ছাড়াতে চেষ্টা করেন। এতে উভয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন। তাদের এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উলিপুর জোনাল অফিসের প্রকৌশলী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বাড়ির বেড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মাঝেমধ্যে বিশেষ করে ঝড়বৃষ্টির পর বাড়িতে থাকা বিদ্যুতের তার পরীক্ষা করা উচিত। বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বিদ্যুৎ অফিসে কিংবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা মেরামত করানো উচিত। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।’
ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’