পারস্য উপসাগরে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসান এবং ভঙ্গুর অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টাও নতুন করে হুমকিতে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে ইরানের ওপর আবারও নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে পাল্টা জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। দুই পক্ষের এই তুমুল লড়াইয়ের মাঝে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই তিন আরব দেশ এখন বড় ঝুঁকিতে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালিতে সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের একের পর এক হামলা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির দিন শেষ হয়েছে। গত বুধবার ভোরেও ওমান উপকূলে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর এলাকায় প্রথম দফা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবারের হামলা ছিল আরও ব্যাপক ও বিধ্বংসী। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর বাহরাইনে অন্তত দুইবার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজিয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হওয়া কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে তাৎক্ষণিকভাবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ইরানি ড্রোন ও মিসাইলগুলো তারা সক্রিয়ভাবে প্রতিহত বা ইন্টারসেপ্ট করছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ‘স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখতেই’ এই পদক্ষেপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। ইরানের এই অঞ্চলে হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা ‘আরও গুঁড়িয়ে দিতেই’ বৃহস্পতিবারের এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সামরিক দফতর।
এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর দেশটির পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা বুশেহরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চাবাহার, কোনারক, বন্দর আব্বাস এবং সিরিকেও ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।