বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক, সুরকার ও শিল্পী সানজয়ের।
বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে ফুটবল উন্মাদনায় মাতিয়েছেন তিনি। তবে সেই বিশ্বমঞ্চের ব্যস্ততার মাঝেও দেশের মানুষের ভালোবাসার টানেই ফিরছেন বাংলাদেশে। আর দেশে ফেরার আগেই ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন বাংলার লোকগান ‘কার জন্য’।
দেশের অন্যতম অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক থেকে প্রকাশিত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মাখন মিয়া। জুয়েল মোরশেদ ও রিয়াজ আলীর কথায় নির্মিত গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সানজয়। এতে ঐতিহ্যবাহী লোক ও বাউলসংগীতের আবহকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন এক সংগীতধারা উপস্থাপন করা হয়েছে।
গানটির মিউজিক ভিডিওতেও রয়েছে ভিন্নধর্মী নির্মাণ। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহলের মধ্যে সংগীতের মাধ্যমে মুক্তি ও আত্মঅন্বেষণের গল্প উঠে এসেছে এতে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি করেছেন রিদি শেখ। নৃত্য পরিবেশন করেছেন শানজিদা জাহান পুষ্প।
কাইনেটিক মিউজিকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি নতুন গান প্রকাশ নয়; বরং বাংলার লোকঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সংগীতভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরা। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে লোকসংগীতকে আধুনিক আঙ্গিকে পৌঁছে দিতেই এই প্রয়াস।
বাংলা ট্রিবিউনকে সানজয় বলেন, “সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে এসেছিলাম। তখনই গানটা করা হয়েছে। শুটিংও সেসময় করা। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিনে দেশে কনসার্ট করছি। শুধুমাত্র এ জন্যই আসছি এবার।”
তিনি জানান, আগামী ১৮ জুলাই দেশে পৌঁছাবেন। পরদিন ১৯ জুলাই রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে আয়োজিত ফ্যানফেস্টে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত হোমকামিং কনসার্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ পরিবেশনা। এরপর উপস্থিত দর্শকরা জায়ান্ট স্ক্রিনে একসঙ্গে উপভোগ করবেন বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড ফাইনাল।
সানজয় দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংকে ঘিরে নোরা ফাতেহির সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচারণামূলক কনসার্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে মাখন মিয়া ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’, ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র প্রথম মৌসুমের জনপ্রিয় গান ‘লীলাবালি’ এবং শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সংস অব বেঙ্গল’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে সুপরিচিত। ‘কার জন্য’ গানে মাখন মিয়ার মাটির ঘ্রাণমাখা কণ্ঠ এবং সানজয়ের আধুনিক সংগীতায়োজনের মেলবন্ধন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
একদিকে বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চ, অন্যদিকে বাংলার লোকসংগীতের শেকড়—দুই ভুবনকে এক সুতোয় গেঁথে দেশে ফিরছেন সানজয়। আর সেই ফেরাটা কেবল একটি কনসার্টের জন্য নয়, নিজের মাটি, নিজের ভাষা ও নিজের সংগীতের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরিরও এক উপলক্ষ।