জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা এমন একজন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি, তিনি স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ। এই শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলে, নকল আর চলবে না। এবার শিক্ষার্থীরা আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছে, এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের হাঁটু ও বুকসমান পানিতে আপনি ডুবিয়ে ডুবিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। আপনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুটা সৃজনশীলে ভুল দিয়ে রেখেছেন। প্রশ্নপত্রে ভুল থাকলে পরীক্ষার্থীদের কী ধরনের মানসিক অবস্থা তৈরি হয়, একবার চিন্তা করুন।’
এসব শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলন করার ফলে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হতে পেরেছেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আপনি যাদের ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’
শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয় উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কিছুদিন পর পর একটা জিনিস ইচ্ছে হলে আপনারা সেটা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেন। অথচ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না। তারা বিদেশে পড়াশোনা করে। পরের সন্তানদের রাস্তায় রেখে রাজনীতি করাবেন, পরের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করাবেন, পরের সন্তানদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্টকরবেন আর নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াবেন; এই বাংলাদেশে আপনাদের আর এক্সপেরিমেন্ট করতে দেবো না।’
শিক্ষামন্ত্রীর অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করবো। তা না হলে এই শিক্ষার্থীরা যদি রাস্তায় নেমে শক্ত অবস্থায় নেন, আপনার পাটাতন যে শক্ত নয়; এই অর্ধবেলার আন্দোলনে সেটা বোঝা গেছে।’
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলের চাঁদাবাজির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। তার চাঁদাবাজির কারণে মুচলেকা দিতে হয়েছে। বাপ হচ্ছে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজি- থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা। এই হচ্ছে তাদের অবস্থা।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার ও মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী প্রমুখ।