ঢাকাWednesday , 15 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমার একমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী—আর্জেন্টিনাই চ্যাম্পিয়ন হবে: শ্রাবণ্য তৌহিদা


July 15, 2026 9:10 pm
Link Copied!


অভিনয়ে শুরু হয়েছিল ক্যারিয়ার। উপস্থাপনায় হলেন থিতু। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল টেলিভিশন পর্দায় শ্রাবণ্য আছেন বিশ্লেষণে কিংবা সূত্রধর হিসেবে। চিকিৎসক হিসেবে যেমন তাঁর সুনাম, তেমনই ক্রীড়া উপস্থাপক হিসেবেও তিনি দর্শকদের ভীষণ প্রিয়। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেলিভিশন পর্দায় তাঁর সরব উপস্থিতি দর্শকদের দিচ্ছে বাড়তি আনন্দ। মাঠের খেলা আর পর্দার পেছনের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপ এখন সেমিফাইনালে। ফ্রান্সকে হারিয়ে স্পেন ফাইনালে উঠে গেছে—ম্যাচটি আপনি কীভাবে দেখেছেন?
ম্যাচটা আমি খুবই উপভোগ করেছি। দুর্দান্ত একটা ম্যাচ ছিল!

সেমিফাইনালে স্পেনের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? ফাইনালে তাদের কতটা এগিয়ে রাখছেন?
স্পেনের পারফরম্যান্স এক কথায় অসাধারণ ছিল! আমার স্পেনের খেলা খুবই ভালো লেগেছে। আসলে গতি আর আক্রমণের জন্য ফ্রান্স বরাবরই সেরা দলগুলোর একটি, কিন্তু ফ্রান্সকে কীভাবে বোতলবন্দী করে রাখা যায়—স্পেন গতকাল ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।

এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ফুটবলের ছন্দময় খেলায় কৌশল এবং ট্যাকটিকস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, স্পেন তা প্রমাণ করেছে। তারা যেভাবে ছক এঁকেছিল, ঠিক সেভাবেই ফ্রান্সকে আটকে দিয়েছে। এমবাপ্পে তার স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতেই পারেনি, কারণ তার কাছে বলই পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। আর যতটুকু বল সে পেয়েছে, তা গোল করার জন্য যথেষ্ট ছিল না; কোনো স্পেসই সে পায়নি।

স্পেন তাদের ‘টিকি-টাকা’ ফুটবল দর্শনের জন্য বিখ্যাত, তবে ফাইনালে তারা এই টিকি-টাকার যে আধুনিক সংস্করণ দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল—তার খেলা সবসময়ই চমৎকার। এত অল্প বয়সে বার্সেলোনার হয়ে তার অর্জন এবং এখন বিশ্বকাপে তার অবদান দারুণ। যদিও অনেকে বলছেন সে এখনও তার সেরাটা দেয়নি, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে নেপথ্যে ইয়ামালই ছিল স্পেনের মূল প্লে-মেকার। নকআউট পর্ব থেকে শুরু করে কালকের ম্যাচ পর্যন্ত সে যেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে, তা দুর্দান্ত। আমার চোখে সে ছিল ম্যাচের ‘আনসাং হিরো’।

শ্রাবণ্য তৌহিদা
আজ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই। এই ম্যাচ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের লড়াইটা সবসময়ই একটা হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। দুই দলই সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দেবে। ইংল্যান্ড এবার অসাধারণ খেলছে। শুরুটা কিছুটা মন্থর হলেও ম্যাচ বাই ম্যাচ তারা নিজেদের দারুণভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। হ্যারি কেনের মতো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের পাশাপাশি জুড বেলিংহাম এবং অন্য তরুণ খেলোয়াড়দের কেমিস্ট্রি ও বন্ডিং মাঠের ভেতর দারুণ কাজ করছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। তবে আমার প্রেডিকশন হলো—আর্জেন্টিনাই জিতবে, যদিও তাদের অনেক কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলের মধ্যে কাকে ফাইনালে দেখতে চান? কেন?
আমি অবশ্যই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে দেখতে চাই। এর কারণ হলো, আর্জেন্টিনা এবার নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচে যেভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি থেকে যেভাবে তারা কামব্যাক করেছে, তাতে তাদের স্নায়ু অনেক বেশি শক্ত হয়ে গেছে।

তাছাড়া দলে লিওনেল মেসির মতো এক্স-ফ্যাক্টর তো আছেই। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের সাথে গত ম্যাচে যেভাবে ২-০ তে এগিয়ে থাকার পর গোল খেয়ে সমতায় ফিরতে হলো এবং সেখান থেকে স্নায়ুযুদ্ধ জয় করে তারা কামব্যাক করল—এরপর আর কিছু বলার থাকে না। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে ৩টি গোল দেওয়ার মতো রোমাঞ্চকর ম্যাচ যারা পার করে এসেছে, আমার বিশ্বাস তারা ফাইনালে খেলবে এবং চ্যাম্পিয়নও হবে।

ইংল্যান্ড অবশ্যই অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ, তাদের সাথে কঠিন লড়াই হবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার এই লড়াকু মানসিকতা এবং দলগত বন্ডিংয়ের কারণেই আমি তাদের ফাইনালে দেখতে চাই।

শ্রাবণ্য তৌহিদা
আপনার পছন্দের দল কোনটি? সেই দলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা কীভাবে?
আমার সবচেয়ে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা! এরপর অবশ্য স্পেন আর নরওয়েকে ভালো লাগে। তবে আর্জেন্টিনাকে কেউ বিট করতে পারবে না, একদম ছোটবেলা থেকেই এটি আমার প্রিয় দল। আমাদের দেশে সাধারণত আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসাটা বংশানুক্রমিকভাবে বা জন্মগতভাবে চলে আসে। আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা হলেও, ব্যক্তিগতভাবে আমি আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়েছি লিওনেল মেসির খেলা দেখে।

মেসিকে ‘গোট’ (GOAT – Greatest Of All Time) বলা হয় এবং তিনি আসলেই তা-ই। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মাঠের অর্জন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যেভাবে তিনি সমানতালে পারফর্ম করে যাচ্ছেন, তা অতিমানবীয়। তিনি প্লে-মেকার হিসেবে মাঠের সব দায়িত্ব একাই সামলাতে পারেন। মেসি ছাড়াও বর্তমান দলে এনজো ফার্নান্দেজ, আলভারেজ, ম্যাক অ্যালিস্টারদের খেলাও আমাকে মুগ্ধ করে।

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল ফ্যানদের লড়াইটাকে কিভাবে দেখেন? অনেক সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটছে
আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের যে ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথ, তা সারা বিশ্বজুড়েই সমাদৃত। কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে নোংরা ও কুৎসিত উপায়ে এই কাদা-ছোড়াছুড়ি চলে, তা আমি একদমই সমর্থন করি না। এই রেষারেষি থেকে মারামারি, এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবরও আমরা শুনেছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দিনশেষে এটা একটা খেলা। খেলার একটা জয়-পরাজয় থাকবেই, সেটাকে স্পোর্টিংলি মেনে নিতে হবে। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে খেলাকে ভালোবাসতাম, তবে এই নোংরা আক্রমণগুলো হতো না। দুঃখজনকভাবে অনেকে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আপনি যদি আপনার আবেগকে সংযত করতে না পারেন, তবে সেই শিক্ষার তো কোনো মূল্য নেই।

আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের নামে ব্রাজিলকে ‘চোরের দল’ বলা কিংবা ফিফাকে দোষারোপ করা—এসব যারা করেন, তারা আসলে ফুটবল খেলাটাই বোঝেন না। আমি একজন উপস্থাপক হিসেবে সবসময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে খেলা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। এই কৃত্রিম বিতর্কগুলো খুবই ঠুনকো ও হাস্যকর মনে হয় আমার কাছে।

শ্রাবণ্য তৌহিদা
ইংল্যান্ডও এবার দারুণ ছন্দে আছে। আপনার চোখে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াইটা কোথায় হবে?
ইংল্যান্ড ভার্সেস আর্জেন্টিনার সবচেয়ে দ্বৈরথটা হবে আমার মতে হচ্ছে জুড বেলিংহাম এবং কেইনের সাথে বেসিক্যালি মেসির যে যুদ্ধটা। এক্ষেত্রে আসলে আরও যদি বলি যে, ইংলিশ অ্যাটাকিং সাইড ভার্সেস বলা যায় যে ডিফেন্স হচ্ছে আর্জেন্টিনার। কারণ আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে একটু উইক পয়েন্ট আমরা যদি খুঁজে বের করি তাহলে খুঁজে বের করতে পারি। বাট মেসি থাকলে আসলে মেসির সাথে আলভারেজ, ফার্নান্দেজ এবং সেই সাথে হচ্ছে ম্যাক অ্যালিস্টাররা যেভাবে গত ম্যাচেও দেখেছি সাহায্য করেছে, একসাথে খেলেছে, সেই জায়গাটা আমার মনে হয় মেসির টিমই এগিয়ে থাকবে। কারণ মেসি আসলে খাদের কিনারা থেকে যেভাবে উঠে এসেছে সেটা তাদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। এই জায়গাটায় আসলে মেন্টাল স্ট্রেন্থ এবং স্নায়ুচাপটা মেসিদের এগিয়ে রাখব আমি। আর আসলে জুড বেলিংহাম আর কেইনকে বড় করেই বলছি, কারণ এই দুইজন আসলে দারুণ ছন্দে আছে। তারা আসলে একসাথে গোল করে, একসাথে আসলে জায়গা চেঞ্জ করে করে অনেক সুন্দর একটা পারফরম্যান্স দেয়। তো এই জায়গাটায় তারা অবশ্যই হার্ড টাইম দিতে পারে আর্জেন্টিনাকে।

তো আমার কাছে তারপরও গাট ফিলিংস বলে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে। বিকজ দে হ্যাভ লিওনেল মেসি। লিওনেল মেসির সাথে এক্স-ফ্যাক্টর থাকে। তাকে যদি রাস্তা তৈরি করেও না দেওয়া হয়, মাঠের মধ্যে তাকে যদি করা মার্কিংও করা হয়, আসলে ওই যে ইন্টেলেকচুয়াল ফুটবলার হিসেবে, গোট হিসেবে সে মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েই একটার না একটা ওয়ে আউট বের করে ফেলে। সো আই থিংক আর্জেন্টিনা উইল বি চ্যাম্পিয়ন ওয়ান্স এগেইন। কারণ লিওনেল মেসির এটা লাস্ট ড্যান্স এবং ডেফিনেটলি তার পুরো টিম চাইবে সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তাকে চ্যাম্পিয়ন করতে। এটা হচ্ছে আমার মন বলছে। বাট অভিয়াসলি সারপ্রাইজিং কিছু হবে না যদি স্পেনও জিতে যায়। কারণ স্পেন ফ্রান্সের সাথে যে খেলাটা দিয়েছে সেটা তো অফকোর্স একদম সলিড এবং অনেক ক্যালকুলেটিভ, ম্যাথমেটিক্যাল, একেবারে নৈপুণ্য এবং কৌশলের একটা খেলা দিয়েছে। সো লেটস সি হোয়াট হ্যাপেন।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। এই অভিজ্ঞতা কেমন?
শ্রাবণ্য তৌহিদা:বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করাটা আমার জন্য সবসময়ই অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। চার বছর পর পর এই মহোৎসব আসে, তাই উত্তেজনাটাও থাকে অন্যরকম। আমাদের দেশে ফুটবল নিয়ে দর্শকদের যে বিপুল উন্মাদনা, তার অংশ হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। দর্শক হিসেবে খেলা দেখার চেয়ে একজন প্রফেশনাল হিসেবে যখন ক্যামেরা ও পর্দার সামনে দাঁড়াতে হয়, তখন দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তবে দর্শকদের ভালোবাসা এই অভিজ্ঞতাকে সবসময়ই চমৎকার করে তোলে।

শ্রাবণ্য তৌহিদা
ক্রিকেটভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য দর্শকেরা আপনাকে বেশি চেনেন। ফুটবলভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা কতটা আলাদা ও চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?
দর্শকেরা আমাকে ক্রিকেটের শো-তেই বেশি দেখে অভ্যস্ত, তবে স্পোর্টস লাভ করি বলেই স্পোর্টস শো করতে আমার বেশি ভালো লাগে। বিশ্বকাপ ফুটবল চার বছর পর পর আসে, তাই এই অভিজ্ঞতা সবসময়ই স্পেশাল।

ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের উপস্থাপনা কিছুটা আলাদা ও চ্যালেঞ্জিং। কারণ ফুটবলের গতি অনেক বেশি এবং এখানে ম্যাচের প্রবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তবে এতদিন ধরে উপস্থাপনা করতে করতে এই চ্যালেঞ্জগুলো এখন আমার কাছে কোনো বাড়তি চাপ মনে হয় না। আমি প্রতিটি মুহূর্ত খুব উপভোগ করি।

ম্যাচের আগে ও পরে ফুটবল বিশ্লেষণভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
ম্যাচের আগে ও পরে ফুটবল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করার জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়। আমার প্রস্তুতিটা মূলত শুরু হয় একদম ‘পেন অ্যান্ড পেপার’ দিয়ে কাগজে-কলমে নোট করার মাধ্যমে। খেলা দেখার সময় আমি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো টুকে রাখি।

কখনও কখনও সকালে আমার হাসপাতালের ডিউটি থাকে, যার কারণে রাতের খেলা সরাসরি দেখতে না পারলে পরের দিন সকালে হাইলাইটস এবং রেকর্ড করা অংশ অবশ্যই দেখে নিই। শো-তে যাওয়ার আগে ম্যাচটা নিজের চোখে দেখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ খেলা দেখলেই আমি বুঝতে পারি কোন পয়েন্টগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত আর কোনগুলো বাদ দেওয়া যাবে।

এরপর আমি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামকরা স্পোর্টস জার্নালগুলো পড়াশোনা করি। ইএসপিএন (ESPN) সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্পোর্টস চ্যানেলের বিশ্লেষকেরা কী বলছেন, তা লক্ষ্য করি। সমস্ত তথ্য মাথায় গুছিয়ে নেওয়ার পর আমি নিজের মতো করে শো উপস্থাপন করি; আমি কোনো স্ক্রিপ্ট দেখে শো করতে পছন্দ করি না। এছাড়া বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের নামের সঠিক উচ্চারণ  নিশ্চিত করার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকি।

শ্রাবণ্য তৌহিদা
দীর্ঘদিন উপস্থাপনায় আছেন। কেমন উপভোগ করছেন এখন? এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা কোনটি?

শ্রাবণ্য তৌহিদা: উপস্থাপনা আমি অনেক বেশি উপভোগ করি। সত্যি বলতে, এটা এখন আসলে আমার আরেকটি পেশা হয়ে গিয়েছে। কাজটিকে আমি এতটাই ভালোবাসি যে উপস্থাপনা করার সময় কোনো রকম বাড়তি চাপ বা প্রেশার অনুভব করি না। আমি বিশ্বাস করি, যাদের পর্যাপ্ত নলেজ (জ্ঞান) আছে এবং আইকিউ শার্প, তারা উপস্থাপনায় অনেক ভালো করবে।

দীর্ঘদিনের এই পথচলায় স্মরণীয় অভিজ্ঞতা আসলে অনেকগুলো আছে। যেমন ক্রিকেটের কথা যদি বলি, বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম—সেটি আমার জন্য দারুণ একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল। এরপর সাকিব আল হাসানের অসংখ্যবার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথেও একটা বিজ্ঞাপনে (টিভিসি) কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।

আর ফুটবল সংশ্লিষ্ট স্মৃতির কথা বললে—কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, সেই জমকালো ইভেন্টটি আমি হোস্ট করেছিলাম! তাঁর সাথে কথা বলার ও পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। আমি তাঁকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করছিলাম এবং যেহেতু তিনি ইংরেজিতে সরাসরি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না, তাই সেখানে একজন অনুবাদক ছিলেন, যিনি রোনালদিনহোর উত্তরগুলো অনুবাদ করে দিচ্ছিলেন। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি সেরা ও স্মরণীয় স্মৃতি।

তবে সবকিছুর বাইরে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে এবং হৃদয় ছুঁয়ে যায় তখন, যখন দূর-দূরান্ত কিংবা দেশের একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কোনো সাধারণ মানুষ বা কোনো তরুণী ফোন করে বলে, “আপু, আমি আপনার মতো হতে চাই, আপনার মতো মাল্টিটাস্কার হতে চাই।” এই যে মানুষের ভালোবাসা এবং কারও অনুপ্রেরণা হতে পারা—এটাই আমার কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা এবং ভালো লাগার জায়গা।

ভবিষ্যতে নিজেকে উপস্থাপনার কোন জায়গায় দেখতে চান? আর বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আপনার ভবিষ্যদ্বাণী কী—চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল?

শ্রাবণ্য তৌহিদা:ভবিষ্যতে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস শো-গুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখতে চাই। পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়িয়ে দর্শকদের আরও ভালো কিছু উপহার দেওয়াই আমার লক্ষ্য।

আর বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আমার একমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী—আর্জেন্টিনাই চ্যাম্পিয়ন হবে!





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html