বিশ্বকাপের আগে চোটের কারণে মেসির ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা ছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবেন কিনা সেটাও নিশ্চিত ছিল না। শেষ ম্যাচের আগেই জানা গিয়েছিল তিনি এই ম্যাচে খেলবেন। ফিরেই যে স্বমহিমায় নিজেকে মেলে ধরেছেন কাতার বিশ্বকাপ জয়ী! মাঠে ফিরে গোল করেছেন তিনি। বদলি হিসেবে নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই জালের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার গোল ও এক অ্যাসিস্টে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্নে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ৬-৪ গোলে জয়ের ম্যাচে পেশির সমস্যার কারণে মাঠ ছাড়ার পর থেকে সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেসে ফেরানো হচ্ছে।
মেসির পাশাপাশি শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি পরীক্ষামূলক একাদশ নিয়ে মাঠে নামেন। তবে বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসরে খেলতে যাওয়া মেসি মাত্র ২০ মিনিটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রমাণ করেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।
অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আইসল্যান্ড। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি মিকায়েল এগিল এলের্তসন।
সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মূল্য দ্রুতই দিতে হয় তাদের। ৮ মিনিটে আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগ বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে স্ট্রাসবুর্গের ডিফেন্ডার ভ্যালেন্তিন বারকো জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন।
মেসির অনুপস্থিতিতে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি নিকো পাজ। প্রথমার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
বিরতির পর পাঁচটি পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামেন ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজ। তবে মার্তিনেজ দুটি সহজ সুযোগ পেয়েও বল পোস্টে মেরে হতাশ করেন।
দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটে যখন মেসি মাঠে নামেন। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলও করেন। যা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৯৯তম ম্যাচে তার ১১৭তম গোল।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলেও ছিল মেসির অবদান। ৮৬ মিনিটে তার বাড়ানো পাস থেকে রদ্রিগো দে পল বল পেয়ে থিয়াগো আলমাদার জন্য সুযোগ তৈরি করেন। তার পর গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন আলমাদা।