ঢাকাWednesday , 10 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

সংকটে শুধু বেতন নয়, অফিসের কাছে কর্মীরা এখন যেটি সবচেয়ে বেশি চান


June 10, 2026 10:10 am
Link Copied!


আকস্মিক আর্থিক সংকট, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব—জীবনের কঠিন সময়ে শুধু বেতন বা চাকরির নিরাপত্তাই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক সহযোগিতা ও মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করেন অধিকাংশ কর্মী। বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে এখন কর্মীদের এই প্রত্যাশা দ্রুত বাড়ছে বলে উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক গবেষণায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত -এর ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৭৫ শতাংশেরও বেশি কর্মী জীবনের সংকটময় মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহানুভূতিশীল ও কার্যকর সহায়তা প্রত্যাশা করেন। গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, কর্মক্ষেত্রে এখন শুধু পেশাগত উন্নয়ন বা আর্থিক সুবিধা নয়, মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ কর্মপরিবেশও কর্মীদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে মেটলাইফ বাংলাদেশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মীদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মীরা এখন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু চাকরি বা বেতনের সীমায় দেখছেন না; বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে প্রতিষ্ঠান কতটা পাশে দাঁড়ায়, সেটিকেও মূল্যায়নের বড় মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন।

আর্থিক সংকটই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক আর্থিক চাপ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয় বর্তমানে কর্মীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৩ শতাংশ কর্মী বলেছেন, হঠাৎ সৃষ্ট আর্থিক সংকটের সময় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা তাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক কর্মী আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। ফলে বেতন ছাড়াও জরুরি সহায়তা, স্বাস্থ্যবিমা, স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা কিংবা আর্থিক পরামর্শসেবা এখন কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কর্মক্ষেত্রে বাড়তি চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যহীনতা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে মানসিক স্বাস্থ্য এখন কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে ২৪ শতাংশ কর্মী পরিবারের সদস্যদের দেখভালের দায়িত্বকে এবং ২১ শতাংশ কর্মী গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতার সময় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—কর্মীদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী মনে করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে নিজেদের কর্মস্থলকে ইতিবাচকভাবে সুপারিশ করতে আগ্রহী।

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও ঘোষণার সঙ্গে কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার পুরোপুরি মিল নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করলেও সংকটের সময়ে সেই সহায়তা দৃশ্যমান বা কার্যকরভাবে পৌঁছায় না।

ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত মূল্যবোধের চেয়ে বাস্তব আচরণ ও সহায়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কী ধরনের সহায়তা চান কর্মীরা

গবেষণায় কর্মীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কঠিন সময়ে প্রতিষ্ঠান থেকে কী ধরনের সহায়তা তাঁরা সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন।

জবাবে ২৯ শতাংশ কর্মী নমনীয় ছুটির নীতিকে (ফ্লেক্সিবল লিভ পলিসি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটি নেওয়ার সুযোগ তাঁদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

প্রায় ২৬ শতাংশ কর্মী বলেছেন, সংকটের সময়ে কাজের চাপ কমানোর ব্যবস্থা থাকলে তা তাঁদের জন্য সবচেয়ে সহায়ক হবে।

এ ছাড়া ২২ শতাংশ কর্মী নিজেদের কাজের সময়সূচির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ বা নমনীয় কর্মঘণ্টার সুবিধাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তাঁরা শুধু বেতন ও পদোন্নতি নয়, বরং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারে এমন কর্মপরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সহানুভূতি বাড়ায় উৎপাদনশীলতা

গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি সরাসরি ব্যবসায়িক সফলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, বীমা সুবিধা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ কর্মী ধরে রাখা এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু বেতন বাড়িয়ে কর্মী ধরে রাখা সম্ভব নয়। কর্মীরা এখন এমন কর্মপরিবেশ চান, যেখানে তাঁদের ব্যক্তিগত সংকট ও মানবিক প্রয়োজনের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহানুভূতিশীল আচরণ করে, তারা কর্মীদের আস্থা অর্জনে এগিয়ে থাকে। একই সঙ্গে কর্মীদের মনোবল, সম্পৃক্ততা এবং উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়।

কর্মক্ষেত্রের নতুন বাস্তবতা

করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কর্মীরা এখন চাকরিকে কেবল আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন না; বরং এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সুস্থতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, বর্তমান সময়ের কর্মীদের প্রত্যাশা হলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিয়োগদাতারা তাঁদের পাশে থাকবেন। সেটা আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব—যাই হোক না কেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যখন কর্মীদের এমন সময়ে সহানুভূতির সঙ্গে সহায়তা করে, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি হয়, কর্মীদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও উন্নত হয়।

মানবিক কর্মপরিবেশই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুধু বেতন বা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য কতটা সহানুভূতিশীল, নমনীয় এবং মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মেটলাইফের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে এখন নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে কর্মীরা শুধু চাকরি নয়, সংকটের সময় পাশে দাঁড়ানো একটি প্রতিষ্ঠানও খুঁজছেন। আর যে প্রতিষ্ঠান এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে, তারাই দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।





Source link

🔴 LIVE ```html ```