ঢাকাThursday , 11 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

সরকারি বরাদ্দে কি আসলেই বৈষম্য হচ্ছে 


June 10, 2026 11:35 pm
Link Copied!


নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে, সংসদে এমন অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ নিয়ে দুপক্ষই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। আর রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা।

সর্বশেষ গত ৮ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ নিয়ে প্রথম বিতর্কের সূচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের বরাদ্দ ‘শুধু সরকারি দলের’ সংসদ সদস্যদের আসনে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে।’’

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘‘যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, জেলা প্রশাসকদের কাছে জিআর ক্যাশ এবং জিআর রাইসের বরাদ্দ দেওয়া থাকে। টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অচিরেই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

বিরোধীদলীয় সদস্যদের অভিযোগের বিপরীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর এমন সরল ব্যাখ্যার পরও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আসলেই কি বৈষম্য হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে বিরোধী দল এমন প্রশ্ন কেন করছে? আর বৈষম্য যদি নাই হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি দলের সদস্যরা আগে পাবেন কেন? এ নিয়েও নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতেও বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। এটি অবশ্যই বৈষম্য। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী এখন এ ধরনের আচরণের সুযোগ নেই। তাই নিয়ে একটি নীতিমালা করতে হবে। কারণ একটি এলাকার সংসদ সদস্য যে দলেরই হোক, সেখানের বরাদ্দ তো হবে সাধারণ জনগণের কল্যাণে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বা থোক বরাদ্দসহ এ ধরনের সুবিধা বরাদ্দে বিরোধী দলের সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে অভাবী ও দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’’

বিরোধী এমপিদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, ‘‘দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু সরকারি দল, বিরোধী দল দেখে আসে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম, ৩০ এপ্রিলের বরাদ্দ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে।’’ বিরোধী দলের আসনগুলোর জন্য সমতাভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে চান তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ আনেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। এর বাইরেও সরকারি দলের কয়েকজন সদস্যও নিজেদের এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

এ সময় ত্রাণমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়েছে। অচিরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বরাদ্দ পৌঁছে যাবে।’’

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ২৫ লাখ টাকা এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’’

এছাড়া কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের ডিও এবং স্থানীয় চাহিদার আলোকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। আশা করি শিগগিরই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

সরকারি দল আগে, বিরোধী দল পরে কেন?

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পরে বরাদ্দ নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। বিগত দিনে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ অভিযোগ এনেছেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার পর তাদেরও দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘‘সরকারের অগণতান্ত্রিক অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একমত পোষণ করেন না। তাই তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সব সময় ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে দেওয়া হচ্ছে সবার পরে। অনেক সময় দেওয়া হচ্ছে না, আবার কম দেওয়া হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এখন আবার শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলের এমপিদের আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের বরাদ্দ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা। যাতে বিরোধী এমপিরা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে না পারেন। আমরা বলবো, এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে সবার জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’’

একই অভিযোগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘সরকার মুখে গণতন্ত্র ও উদারতার কথা বললেও বাস্তবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। যেকোনও বরাদ্দ নিজেদের দলের এমপিদের আগে দেওয়া হচ্ছে। যখন গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা হয়, তখন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। আশা করি সরকারপ্রধান এ বিষয়টিকে বিশেষভাবে দেখবেন।’’

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘‘উন্নয়ন বরাদ্দসহ যেকোনও অনুদান বরাদ্দে সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয়। হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সে অনুযায়ী হয়তো কিছু আসন একটু পরে বরাদ্দ পাচ্ছে। এটা ইচ্ছে করে করা হয় বলে মনে করি না। আশা করি আগামী দিনে এ ধরনের অভিযোগ আসবে না।’’





Source link

🔴 LIVE ```html ```