ঢাকাThursday , 11 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

৫৫ বছরের বাজেটযাত্রা, যুদ্ধকালীন অর্থনীতি থেকে ৯ লাখ কোটির বাংলাদেশ 


June 11, 2026 2:50 pm
Link Copied!


স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত এক অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। শিল্প-কারখানা বিধ্বস্ত, অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেই দেশই ৫৫ বছরের ব্যবধানে এখন প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সক্ষমতা অর্জন করেছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদে এটি তার প্রথম বাজেট। স্বাধীনতার পর বাজেট পেশকারী ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি হচ্ছেন ১৫তম। 

বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকারগুলোরও একটি ধারাবাহিক দলিল। 

যুদ্ধকালীন বাজেট থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট 

বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের ইতিহাস শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই মুজিবনগর সরকার তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তী বাজেট অনুমোদন করে। তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী।  

সেই বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। 

তাজউদ্দীনের বাজেট ছিল পুনর্গঠন, পুনর্বাসন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের রূপরেখা। তখন দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্যসংকট মোকাবিলা, উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। 

তেলের সংকট, দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা 

১৯৭৪ সালের বাজেট আসে বৈশ্বিক তেল সংকট এবং দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে। তাজউদ্দীন আহমদ তার শেষ বাজেট বক্তৃতায় সতর্ক করে বলেছিলেন, স্লোগান দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং সততা। 

এর পরের বাজেটগুলোতে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল খাদ্য নিরাপত্তা, বৈদেশিক সাহায্য এবং রাজস্ব আহরণ। 

জিয়াউর রহমানের বাজেট: বেসরকারি খাতের উত্থান 

১৯৭৬ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো বাজেট উপস্থাপন করেন। তার আমলে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতকেন্দ্রিক অর্থনীতির দিকে যাত্রা শুরু হয়। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল—বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়া।  

পরে বিভিন্ন সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অর্থমন্ত্রীরা বারবার একই ধরনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে কালোটাকা সাদা করার নীতি বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। 

আশির দশক: ঋণ, বৈদেশিক সাহায্য ও সংস্কারের যুগ 

আশির দশকে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল বৈদেশিক সাহায্য। এই সময়ের বাজেট বক্তৃতাগুলোতে বারবার উঠে এসেছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, খেলাপি ঋণ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লোকসান, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।  

আবুল মাল আবদুল মুহিত, এম সাইদুজ্জামান এবং ওয়াহিদুল হকের বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ ২০২৬ সালেও দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ব্যাংক খাতের সুশাসন ও খেলাপি ঋণ। 

নব্বইয়ের দশক: বাজার অর্থনীতি ও ভ্যাট যুগের সূচনা 

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। 

তার বাজেটের অন্যতম ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ছিল মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থা চালু করা। এই সময়ে— বাণিজ্য উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ, বিনিময় হার সংস্কার, কর কাঠামোর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও উন্মুক্ত হয়। বর্তমান রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি মূলত সাইফুর রহমানের সময়েই গড়ে ওঠে।  

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যাত্রা 

১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া প্রথমবারের মতো বয়স্ক ভাতা চালু করেন। 

মাত্র ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে শুরু হওয়া সেই কর্মসূচি আজ বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রূপ নিয়েছে। 

বর্তমানে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, বয়স্ক ভাতা, উপবৃত্তি ও নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। 

হাজার কোটি থেকে লাখ কোটি টাকার বাজেট 

স্বাধীনতার পর প্রায় তিন দশক সময় লেগেছিল বাজেটকে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঘরে নিতে। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেট ১ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে। এরপর প্রতি বছর বাজেটের আকার দ্রুত বাড়তে থাকে— ২০১১ সালে ১.৬৩ লাখ কোটি টাকা, ২০১৪ সালে ২.৫০ লাখ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে ৪ লাখ কোটি টাকা, ২০২০ সালে ৫.৬৮ লাখ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭.৬১ লাখ কোটি টাকা ও ২০২৬ সালে প্রায় ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন হয়।  

অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রথম বাজেটের তুলনায় বর্তমান বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১,৩০০ গুণ। 

মুহিত ও সাইফুর: বাজেট ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি 

বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড যৌথভাবে দুই অর্থমন্ত্রীর। প্রয়াত এম সাইফুর রহমান মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন। অপরদিকে আবুল মাল আবদুল মুহিতও উপস্থাপন করেছেন ১২টি বাজেট।  

তবে টানা বাজেট উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মুহিতের রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ণ। তিনি ধারাবাহিকভাবে ১০টি বাজেট পেশ করেছিলেন।  

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যতিক্রমী বাজেট 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রম। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।  

বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম বাজেট, যার আকার আগের বছরের তুলনায় ছোট ছিল। এতে ব্যয়সংযম, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। 

আমির খসরুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট শুধু একটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নয়, এটি অর্থনীতির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষাও। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। 

এই ঘাটতি পূরণে সরকার পরিকল্পনা করেছে—বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ, এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করার।  

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি— এই পাঁচটি ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে। 

বাজেটের ৫৫ বছরের শিক্ষা 

বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়— সরকার পরিবর্তন হয়েছে, অর্থমন্ত্রী বদলেছেন, অর্থনৈতিক দর্শন পাল্টেছে; কিন্তু কিছু চ্যালেঞ্জ একই রয়ে গেছে।  

রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা এবং বিনিয়োগ সংকট—এসব বিষয় প্রায় প্রতিটি যুগের বাজেট বক্তৃতায় ফিরে ফিরে এসেছে। 

তবে একই সঙ্গে সত্য হলো, ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট থেকে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে পৌঁছানো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিযাত্রার এক অসাধারণ অর্জন। তাজউদ্দীন আহমদের পুনর্গঠনের বাজেট থেকে শুরু হয়ে আমির খসরুর ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন—এই দীর্ঘ পথচলাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গল্প।  





Source link

🔴 LIVE ```html ```