বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আস্থা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও গবেষক যেন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে মূল্যায়নকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ইমপ্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (আইসিএসইটিইপি)’-এর আওতায় গবেষণা উপপ্রকল্প মূল্যায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়। গবেষকরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রস্তাবিত প্রকল্পকে সর্বোত্তম মনে করেন। তবে যৌক্তিক কারণে কোনও প্রকল্প নির্বাচিত না হলে অনেক সময় হতাশা তৈরি হয় এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও জন্ম দেয়। এ কারণে মূল্যায়নকারীদের ব্যক্তিগত প্রভাব, পক্ষপাত কিংবা বিভ্রান্তির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এখানে কোনও লুটপাট বা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ নেই। গবেষণা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মূল্যায়নকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের গবেষণা খাতে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনামের কারণেই এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাই গবেষকদের পরিচয়, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার বিবেচনা না করে প্রকল্পের গুণগত মান, সম্ভাব্য প্রভাব এবং জাতীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণার মান এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বড় বা ছোট বিশ্ববিদ্যালয়, সিনিয়র বা জুনিয়র গবেষক—এসব বিষয় নয়; বরং প্রকল্পের মেধা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাবনাই মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের চাপ, প্রভাব বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে কমিশন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত এ প্রকল্প এবং হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে গবেষণার সুযোগ, অবকাঠামো এবং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর নজরুল ইসলামসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিএসইটিইপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।