ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বলিউডে ‘পেইড ট্রলিং’, তারকাদের ভাবমূর্তি নষ্টে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা


September 6, 2026 8:20 am
Link Copied!


বলিউডে তারকাদের জনপ্রিয়তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তাদের ভাবমূর্তি। আর সেই ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে পরিকল্পিত অনলাইন ট্রলিং। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী তারকা কিংবা তাদের শিবিরের পক্ষ থেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চালানো হচ্ছে সমন্বিত প্রচারণা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই জগতের নানা অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা।

কীভাবে কাজ করে পেইড ট্রলিং?

একেবারেই নিরীহ কোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে ঘটনাটি শুরু হতে পারে। ধরা যাক, কোনও জনপ্রিয় অভিনেতা বিদেশে ছুটি কাটানোর একটি ছবি দিলেন। একই সময়ে অন্য কোনও তরুণীর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেল। এরপর কেউ দুটি ছবির পেছনে মিল খুঁজে বের করলেন। শুরু হলো জল্পনা। রেডিট, এক্স কিংবা ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ল নানা দাবি।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে কার্তিক আরিয়ানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একটি পক্ষ প্রশ্ন তোলে—‘কার্তিক আরিয়ান কি অপ্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন?’ ওই তরুণীর প্রোফাইলে বয়স ১৭ লেখা ছিল। পরে আরেকটি ট্রল গ্রুপ দাবি করে, তার বয়স আসলে ১৮। তরুণী নিজেই ইনস্টাগ্রাম বায়োতে জানিয়ে দেন, কার্তিককে তিনি চেনেন না। কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়ে গেছে বিতর্কের নিজস্ব গল্প।

প্রতিবেদনটির মতে, ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এই ধরনের প্রচারণা এখন ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

চলচ্চিত্রের বাজেটের অংশ হয়ে গেছে ট্রলিং

একজন অভিজ্ঞ জনসংযোগ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন এটি অনেক সিনেমার বাজেটেরই অংশ হয়ে গেছে। তার ভাষায়, এই চর্চা পুরোপুরি নতুন নয়। আগে প্রতিদ্বন্দ্বী তারকারা কোনও বড় সংবাদপত্রে অর্থের বিনিময়ে বেনামে কোনও খবর বা গুজব প্রকাশ করাতেন। যার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হতো, তিনি অন্য কোনও সংবাদপত্রে নিজের বক্তব্য দিতেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসার পর জায়গার সীমাবদ্ধতা যেমন নেই, তেমনি জবাবদিহিও অনেক কমে গেছে।

অভিনেত্রী রিধিমা কাপুর বলেন, বিনোদন জগতে অনেক সময় এক তারকার প্রচারণা বাড়ানোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির অর্থ খরচ করে। ফলে প্রকৃত ভক্তদের ক্ষোভ আর অর্থের বিনিময়ে তৈরি করা ক্ষোভের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তার ভাই রণবীর কাপুর এবং ভাবি আলিয়া ভাটও বিভিন্ন সময়ে কথিত পেইড ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলিয়া, দীপিকা, কৃতি—নারী তারকারাও টার্গেট

আলিয়া ভাটকে চলতি বছর ব্যাপক ট্রলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার অভিনীত শিব রাওয়াইলের স্পাই থ্রিলার ‘আলফা’ মুক্তির পরও ট্রলিং হয়েছে বলে একজন টেকনিশিয়ান জানান।

তার দাবি, তিনজন শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীর পিআর সংস্থা থেকে এই প্রচারণা শুরু করা হয়েছিল। তবে ওই অভিনেত্রীরা নিজেরা এর মাত্রা সম্পর্কে জানেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। ট্রলিংয়ের মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়ানো হয়—আলিয়া অ্যাকশন তারকা হিসেবে যথেষ্ট ভালো নন, তাকে ভুলভাবে কাস্ট করা হয়েছে কিংবা তার উচ্চতা নিয়েও মন্তব্য করা হয়।

আলিয়াই অবশ্য একমাত্র নন। চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে আট ঘণ্টার কর্মঘণ্টার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর দীপিকা পাড়ুকোনও ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কৃতি শ্যাননের একটি রাখিবন্ধন বিজ্ঞাপন নিয়েও ব্যাপক অনলাইন ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। পেইড ট্রলিংয়ের কারণে পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয় যে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

পুরুষ তারকারাও বাদ পড়ছেন না

নারী তারকাদের বিরুদ্ধে ট্রলিং অনেক বেশি কদর্য হলেও পুরুষ তারকারাও এর বাইরে নন।

চলতি বছর ‘বর্ডার ২’-এর সহপ্রযোজক নিধি দত্ত পেইড ট্রলদের ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। বরুণ ধাওয়ানের একটি নির্দিষ্ট হাসির ভঙ্গিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর পোশাককে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

গত ডিসেম্বরে ‘ধুরন্ধর’-এর পর রণবীর সিংয়ের একটি বিমানযাত্রার প্রসঙ্গও বিতর্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিনেতা-নির্মাতা অংশুমান ঝা জানান, একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন—এক তারকার পক্ষ থেকে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্যাপক হারে রিপোর্ট করা হয়েছিল, যাতে তার পোস্টের রিচ কমে যায়।

অংশুমান বলেন, ‘ওই তারকার লাখ লাখ অনুসারী, আর তার নিজের অনুসারী কয়েক হাজার। তাই এমন পদক্ষেপ তার কাছে অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়েছে।’

পেইড ট্রলিংয়ের বাজার কতটা বড়?

একসময় পেইড ট্রলিং ছিল বিলাসী ধরনের প্রচারণা। এখন তা অনেক বেশি সংগঠিত ও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোন ধরনের প্রচারণা চালানো হবে এবং কত বড় পরিসরে হবে—তার ওপর নির্ভর করে খরচ।

শুধু কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ব্যাপক হারে রিপোর্ট করানোর খরচ কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। আবার সমন্বিতভাবে ১ হাজার পোস্ট করানোর খরচ হতে পারে প্রায় ১ লাখ রুপি।

আর বড় ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ বা নেতিবাচক প্রচারণার জন্য খরচ ৫০ লাখ রুপিরও বেশি হতে পারে।

এক সাবেক পেইড ট্রল জানান, বটের তুলনায় মানুষের মাধ্যমে ট্রলিং করাতে খরচ বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এই কাজকে আরও সাশ্রয়ী করেছে। তবে মানুষের স্বাভাবিক আচরণের মতো দেখাতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।

তার মতে, প্রথমে মানব ট্রল দিয়ে প্রচারণা শুরু করে পরে বট ব্যবহার করে সেটিকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

বট ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের ব্যবহার

রিদ্ধিমা কাপুরের দাবি, এখন এই প্রচারণার বড় একটি অংশই বটনির্ভর। বিপুল পরিমাণ পুরোনো বা ‘এজড’ অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে কেনা হয়। পাশাপাশি সিম ফার্মের মাধ্যমে তৈরি করা হয় অসংখ্য ভুয়া প্রোফাইল।

এরপর নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোনও পোস্টের কমেন্ট সেকশন ভরে দেওয়া কিংবা কোনও হ্যাশট্যাগকে ট্রেন্ডিংয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে পুরো ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মানুষের প্রতিক্রিয়া বলে মনে হয়। কয়েকজন প্রকৃত পেইড ট্রল প্রথমে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়। এরপর শত শত বট সেই বক্তব্যকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং সাধারণ দর্শকের কাছে সেটিকে প্রকৃত জনমত বলে মনে হতে পারে।

তবে এসব অ্যাকাউন্টে ঢুকলে প্রায়ই দেখা যায়, প্রোফাইল ছবির অভাব, অস্বাভাবিক নাম এবং খুব কমসংখ্যক অনুসারী রয়েছে—কখনো মাত্র এক থেকে পাঁচজন।

এই কৌশলকে বলা হয় ‘সকপাপেট্রি’—অর্থাৎ জনমতকে প্রভাবিত বা পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক ভুয়া অনলাইন পরিচয় তৈরি করা।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ভুয়া প্রচারণা যখন বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে এবং সেখানেও খবর হিসেবে জায়গা পায়, তখন সেই মনগড়া বয়ান আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে একটি পরিকল্পিত অনলাইন প্রচারণা নতুন করে জীবন পায় এবং তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় পরিসরে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html