ঢাকাFriday , 12 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি


June 12, 2026 1:15 pm
Link Copied!


২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি। সংস্থাটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাসহ প্রায় সব প্রধান অর্থনৈতিক সূচকই চাপের মুখে রয়েছে। ফলে বাজেটের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং ব্যাংকিং খাতের সংকট অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেটে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিপিডির মতে, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে প্রতিবছর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। একইভাবে রফতানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সরকারের অধিক ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিবর্তে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং জ্বালানি সংকট বিবেচনায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জিং হবে। একইভাবে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশ থাকার পর এক বছরের মধ্যে তা সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সহজ হবে না।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তবে বাজেটের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিপিডি। বিশেষ করে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর ছাড়, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বরাদ্দ ও প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে সংস্থাটি।

সিপিডির মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।





Source link

🔴 LIVE html