ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি


September 14, 2026 6:10 pm
Link Copied!


ইয়েমেনের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ঝুঁকি বেড়েছে। এতে জ্বালানি তেল আমদানিতে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রভাব দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এখনই পড়ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সরকার আগেই জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাব আল-মানদেব নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের সময় দীর্ঘ হলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানান, মোখায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তরল জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানান, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে আরও ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঠিক এই সময়ে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু বৈশ্বিক তেলের বাজারেই নয়, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও এখনই তা ভোক্তার কাঁধে বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসেও একই দাম বহাল রাখা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেও দাম অপরিবর্তিত থাকায় টানা চতুর্থ মাসে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানো বা কমানো হয়নি।

লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে সরু জলপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি। হরমুজের পর তেল পরিবহনে বিকল্প জলপথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিন্তু গত শুক্রবার বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। তারা বন্দরনগর মোখা দখল করেছে।

গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর এক সপ্তাহে এখন তেলের দামের সবচেয়ে বড় উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার ক্ষেত্রে বাব আল-মানদেব গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারকে এই প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এতে যেখানে বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে আসতে প্রায় ১৬ দিন লাগতো, সেখানে ঘুরপথে সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। এভাবে একটি ট্যাংকারে বাড়তি ব্যয় হতে পারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বলে জানিয়েছে জাহাজের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানির প্রধান নৌপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে তেল আনার পথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন বাব আল-মানদেবেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামনে বাড়বে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার।

তবে বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল আমদানির সময় ও ব্যয় কতটা বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে পড়বে কিনা, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানির পরবর্তী ব্যয়ের ওপর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, এর ফলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাবে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এমনিতেই ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। এই দাম আরও বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হলো। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এখনই আমেরিকায় গ্যালনপ্রতি ডিজেলের দাম ছয় ডলার ছাড়িয়েছে, যা সর্বোচ্চ। এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ে কাজ করে আসা অয়েল ডটকম তাদের এক খবরে জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছিল তেলের দাম। বর্তমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি আবার চলে যেতে পারে তেলের দাম।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html