ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির অভিযোগ, কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?

UttorbongoBD
September 15, 2026 8:25 am
Link Copied!


মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোর হচ্ছে সরকার। উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়া হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আইন অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়নের পর পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। বিপুল সংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, তার আওতা নির্দিষ্ট করে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে কম-বেশি নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রেখে সংশোধিত আইন পাস হয়েছে গত ৭ জুলাই। ফলে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পাশাপাশি পরবর্তী এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতি বা অনিয়ম ঠেকাতে আরও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশোধিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার পরিকল্পনা

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছি, যাতে কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে সেগুলোর আওতা নির্দিষ্ট করা যায়।’

এর আগে ১৭ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে ‘কিউএস (সাইমন্ডস কুয়াকোয়ারেল্লি) বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য অসংখ্য আবেদন জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখেরও অধিক খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। যা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়। তাই আমরা খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছি।’

এর আগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিন ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। অনলাইনে এ আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষকের গাফিলতিতে শাস্তি

উত্তরপত্র মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রেখে গত ৭ জুলাই ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সংশোধিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদানকারী পরীক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ড দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে।

সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’ হালনাগাদ করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত ওই আইনটি পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

নতুন আইনে শুধু উত্তরপত্র মূল্যায়ন নয়, পাবলিক পরীক্ষার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাতেও শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেইজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলেও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে শাস্তির আওতায় কয়েকজন পরীক্ষক

এরই মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আট পরীক্ষককে পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির অফিস আদেশের তথ্যমতে, নির্ধারিত উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ পরীক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর বোর্ড এ ব্যবস্থা নেয়। অব্যাহতি পাওয়া আট পরীক্ষকের মধ্যে চারজন এসএসসি এবং চারজন এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সামনে এসএসসি-এইচএসসিতে কী ব্যবস্থা

সরকারের পরিকল্পিত নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে পরবর্তী এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত আইনের আওতায় উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১২ লাখের বেশি পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন, পুনর্মূল্যায়ন এবং পরীক্ষকদের জবাবদিহির কাঠামো আরও নির্দিষ্ট করার দিকে যেতে পারে সরকার।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বক্তব্য

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০২৫ সালের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় পরীক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন আইন পাস হয়েছে, নীতিমালা তৈরি হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড মিলে নীতিমালা প্রস্তুত করা হবে। সরকার নীতিমালা চূড়ান্ত করে জারি করলে নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা কোনও পরীক্ষার্থীকে বঞ্চিত করতে চাই না। আবার কেউ অতিমূল্যায়িত হোক তাও চাই না। সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই চাই। কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html