ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উদ্দেশ্য নিয়ে কাব্যিক ছবি বানাই না, কাব্যিক হয়ে উঠলে আনন্দ পাই—মেজবাউর রহমান সুমন

UttorbongoBD
June 12, 2026 7:30 pm
Link Copied!


মেজবাউর রহমান সুমন ‘হাওয়া’ থেকে ‘রইদ’ প্রতিটি কাজেই প্রচলিত আখ্যানকে নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্পাঠ করেছেন, উত্থাপন করেছেন নানা প্রশ্ন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন মিথের প্রতি তার ভাবনা, লোকবিশ্বাস, বাউলদর্শন, চলচ্চিত্রের ভাষা এবং তার সৃজনশীল ভাবনার নানা দিক নিয়ে।

শুরুতে জানতে চাই, মিথ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আপনার মধ্যে কখন এবং কীভাবে তৈরি হলো?

কেন আগ্রহ হলো সেটা বলা তো মুশকিল! কারণ শুরুর দিকে আমি যখন টেলিভিশনের ফিকশন বানাচ্ছিলাম তখন থেকেই কোনো না কোনোভাবে মিথের ব্যাপারগুলো আমার গল্পে চলে এসেছে। যখন ‘পারুলের দিন’ করেছি কিংবা ‘আঙ্গুর লতা’ করেছি। যদিও টেলিভিশনে খুব কম কাজ করেছি, কিন্তু যে ধরনের কাজ করেছি এগুলোর মধ্যে এই ব্যাপারটা নানাভাবে চলে এসেছে। সেটা যে খুব সচেতনভাবে এসেছে তা বলা যায় না। যখন গল্প ভেবেছি তখন সেই গল্পের অনুষঙ্গ হিসেবে এসব এসেছে।

একটা হতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় থেকেই মিথ নিয়ে পড়াশোনার করার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। পেইন্টিংয়ে পড়াশোনার ফলে আমাদের একাডেমিক পড়াশোনার ভেতরেও তো এটা ছিল। আই থিঙ্ক এসব নানান কারণে মিথ আমার মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। 

‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে মনসা ও ‘রইদ’ চলচ্চিত্রে লিলিথ—দুই ক্ষেত্রেই প্রচলিত আখ্যানের চরিত্রকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন। কাউন্টার-ন্যারেটিভ বলতে পারি কি, আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমার মনে হয় প্রচলিত মিথকে আমরা যেভাবে পড়েছি বা জেনেছি, আমার জায়গা থেকে আমি ওইটাকে কানেক্ট করার চেষ্টা করেছি। মিথের অনেক চরিত্রের সাথে আমার গল্পের চরিত্রের অন্তঃমিল থাকতে পারে।

এখন ‘রইদ’-এ এসে অ্যাডামের গল্প কিংবা আদম-হাওয়া বা আপনি যেটাকে মিথ বলছেন—এই সমস্ত কিছুই, কিংবা মরিয়ম-মেরি যেটাই বলি; ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার জায়গা থেকে আমি আমার গল্পের প্রয়োজনে এটা  ব্যবহার করেছি। 

প্রথমত, গল্প আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গল্পটা বলতে যেয়ে হয়তো নানান মেটাফোর কিংবা মিথ ঢুকে পড়েছে, কিংবা আমিও এটার সাথে অন্তঃমিল খুঁজে পেয়েছি। মানে আমি ঠিক জানি না কেন আমার মাথায় আসলো এটা। তবে এই ব্যাপারটা খুব সচেতন না। আমি বারবার বলি, এটা খুব সচেতন না। যেহেতু এ বিষয়গুলো নিয়ে আমার এক ধরনের জানার ইচ্ছা আছে, কাজ করতে চাই কিংবা বোঝার চেষ্টা করি সব সময়, তাই আমি গল্প নিয়ে যখন ভাবি তখন হয়তো ওই ব্যাপারগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে।

মানুষজন অনেকভাবে ব্যাখ্যা করছে, সেটা মানুষের ব্যাখ্যা। আমি আসলে কেন কিভাবে করছি এটা আসলে খুব একটা বলতে চাই না। কারণ আমার কাছে মনে হয় এটা সিনেমার ভেতর দিয়েই মানুষ দেখবে।

‘রইদ’ একটা খুবই সিম্পল প্রেমের গল্প, দুইটা মানুষের প্রেম। আমি সেই দুইটা প্রেমের গল্প বলতে যেয়ে প্রথম নর-নারীর প্রেমের আবেগকে খুঁজে পেয়েছিলাম। সেই অনুভূতিটাকে হাজার বছরের যে ন্যারেটিভ, তার সাথে আমার আখ্যানকে জুড়ে দিয়েছি। যারা নানাভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করছেন, এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা। আমার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আমার গল্পের পুরো গ্রাউন্ডে আমি সাদু এবং পাগলিকেই রাখতে চাই, লিলিথকে কিংবা অন্য কোনো কিছুকে আমি সামনে রাখতে চাই না।

মিথকে কেন্দ্র করে সমকালীন গল্প বা একটা সমকালীন মিথই তৈরি করতে চেয়েছেন?

আমি একটা অনুভূতির বর্তমান তৈরি করতে চেয়েছি। মিথ আমাদেরকে যেই অনুভূতির ভেতরে নিয়ে যায় তাতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের পারসেপশন তৈরি করে, আমাদের একটা জায়গা তৈরি করে। মিথ দিয়ে ওই সময়ের সোসাইটি, চিন্তা, মানুষের মনোজগতকে বোঝা যায়। এইটা বারবার ঘুরেফিরে আসে। এক হাজার বছরের পুরনো আইডিয়ায়ও কিন্তু আপনি বর্তমান  সোসাইটিতে দেখতে পান। কিন্তু সেটাকে প্রশ্ন করা যেতে পারে।

আমি মরিয়মকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছি, সেটা যদি দর্শক দেখতে চায় তাহলে বুঝতে পারবে যে, মাতা মরিয়মের ওই যে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রেগন্যান্সি, সেটা আমি কীভাবে ইন্টারপ্রেট করলাম। সেটা আমি আর বলতে চাই না। কিন্তু আমার মনে হয় দর্শক একটু সচেতন হয়ে আরেকবার ভাবলেই বুঝতে পারবে। সেই প্রশ্নটাই আমি রেখে যেতে চেয়েছি। সাদু আসলে কে? সাদু তো পিতা-মাতাহীন। সাদুর ওয়াইফের পেটে যে নবজাতক শিশু, সেটা তো সাদুর বাচ্চা না—তাহলে এই বাচ্চাটা কোত্থেকে আসলো? তাহলে পাগলি কেন বললো এটা আল্লাহ দিছে? তাহলে কি ঈশ্বর দিছে এটা আসলেই সত্যি, নাকি কোনটা? আমিও প্রশ্ন করেছি এবং নির্মাতা হিসেবে বোঝার চেষ্টা করেছি।
মেজবাউর রহমান সুমন
‘রইদ’ শুরু হয় লালনের “যেও না আন্দাজি পথে মন-রসনা। কুপথে কুপ্যাঁচে প’লে প্রাণে বাঁচবে না” উদ্ধৃতি দিয়ে। তাছাড়া বাউল-সাদু চরিত্র, গান ও দেহতত্ত্বের আলাপও দেখা যায়। এই আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক জায়গাটি চলচ্চিত্রে কীভাবে কাজ করেছে? আপনার ভাবনা কি ছিল?

কিছু প্রশ্ন তৈরি করার জন্য আমার একটা চরিত্রের দরকার ছিল, সেটা হচ্ছে টুটুল ফকির। উনি লালন দর্শন অনুসারী। এটা হচ্ছে একধরনের দেহতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। গরুর ব্রিডিং সিন যেটা আমাদের গ্রামে হরহামেশা হয় সেই সিনটা কেন করলাম । কেন তারপরে দুটো গরুর ফাইট দেখিয়েছি, একটু বিশ্লেষণ করলেই দেখবেন যে পৃথিবীর আদি যুগ থেকে এটাই ঘটে আসছে আমাদের সোসাইটিতে, আমাদের মানব সমাজে। মানে নারীকে পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সেখান থেকেই আবার সোসাইটিতে দ্বন্দ্ব, পুরুষে পুরুষে মুখোমুখি হয়ে যাওয়া আমি মেটাফোরিক জায়গা থেকে এটা নির্বাচন করেছি। 

আমি এই বিষয়ে আর কোথাও কোনো ডায়ালগেও বলতে চাইনি। এই মোটিভগুলো কেন আমি হাজির করেছি গল্পে এর ব্যাখ্যা দিতে চাই না। এটার আরো অনেকগুলো পার্সপেক্টিভ আমার কাছে আছে। এই মোটিভগুলো হাজির করার কারণ হচ্ছে দর্শকের যে সুপ্ত চিন্তা, সিনেমাটা দেখে যখন সিনেমাটাকে ভাবতে চেষ্টা করেন, তখন এই লেয়ারগুলোকে আবিষ্কার করবেন।

বাউল দর্শন ওটা প্রাসঙ্গিক। আপনি দেখবেন আমাদের লালন দর্শন অনুসারী যখন কাঠের দোকানে বসে কথা বলতে থাকে, তখন সে কিন্তু কোনো কঠিন বাক্যালাপে যায় না। এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করে না যেটা রিলেট করা যায় না। যেটা খুব সহজ এবং আঞ্চলিক,মনে হয় যে তার একান্ত ব্যক্তিগত দর্শন। আমি চাই নাই এমন কোনো প্রাসঙ্গিক আলাপ সেখানে জুড়ে দিতে যার অর্থ খুঁজতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। টুটুল ফকির যে তার জীবনের জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে এত সহজে ব্যাখ্যা করে আদম-হাওয়ার আখ্যানটাকে, “এমন একটা ফল আছে পৃথিবীতে যা জালিতে ছোঁয় না, ডাকরে থোয় না, পাইকলে আর কেউ খায় না, এমন একটা ফল, সেই ফলটাই গন্ধম।” এটা কি আসলে?

আমি চেয়েছিলাম এমন একটা জায়গা থেকে উনি এই কথাগুলো বলুক, কথাগুলো যেন তার জীবনবোধ হয়ে উঠুক। কথাগুলো আরো দশজন মানুষ যেন রিলেট করতে পারে। আমি যে রিয়েলিটির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, সাদু এবং পাগলির জীবন সেই জীবনের ভেতর দিয়ে বাউলের যে জীবনদর্শন, তার যে দেহতাত্ত্বিক জ্ঞান, এই সমস্ত বিষয় অতি সহজেই যেন সে কানেক্ট করতে পারেন। একটা বিবেক চরিত্র হিসেবে সে সাধুর সাথে কমিউনিকেট করে দর্শকের মাধ্যমে, দর্শক কমিউনিকেট করে সাদুর মাধ্যমে। 

অনেক কিছু বাদ দিয়ে ছোট একটা জায়গাতে এসে শেষ করি—সাদু যে তার পাগলির জন্য এখন ব্যাকুল হচ্ছে, সে যে চলে যায় ফিরে আসে না, অবশেষে বলে যে “আমি কি গন্ধম ফল খাইছি?” তাহলে তার জীবনে, আমাদের জীবনে এটাই একমাত্র পাপ না, আমাদের জীবনে অসংখ্য পাপ জমা হয়ে আছে। ও কি গন্ধম খাইছে? তখন বাউল ওকে প্রশ্ন করে, “এখন যদি ও গন্ধম খেয়েই থাকে, এখন উপায়?” দর্শক এই বিষয়টা একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারবেন যে আমি কি বলতে চাচ্ছি।
নাজিফা তুষি পাগলী চরিত্রে
তাল, তালের পিঠা, জবা ফুল ও আনারস, কবিরাজি চিকিৎসা, মিয়াভাই, ঝগড়াঝাটি—চলচ্চিত্রটিকে বহুমাত্রিকভাবে স্থানীয় করে তোলে। এই লোকজ জগৎ নির্মাণের পেছনে আপনার ভাবনা কী ছিল?

এটা তো আমাদের জীবন। হয়তো আমাদের এই নাগরিক জীবনের সাথে সেই বোঝাপড়াটা নেই, কিন্তু আমি আমার ছোটবেলায় আমার নানু বাড়িতে তো এগুলোই দেখেছি। বাতের ব্যথা হলে, কোনো একটা অসুখ হলে কিংবা পাগলের রোগ সারাতে কবিরাজের কাছেই যেতে দেখেছি। স্কুলের বড় ফুটবল খেলার মাঠের পাশে আমি এই গরুর ব্রিডিং সিন দেখেছি। সব গৃহস্থবাড়ির গরু নিয়ে এসে ব্রিড করাতো। আনারস, জবা ফুল গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে খাওয়ানো হতো। যদিও দেখিনি কিন্তু শুনেছি গ্রামে কেউ প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়লে তাকে ওটা খাওয়ায়। মিথ আছে যে এতে প্রেগন্যান্সি নষ্ট হয়ে যায়। মেডিকেল সায়েন্সে হয়তো এটা সঠিক না কিন্তু আমি তো সেটাকে জাস্টিফাই করি নাই। বরঞ্চ গ্রামের যেই প্রচলিত ধারণা, সেই ধারণাগুলোই আমি বলতে চেয়েছি।

একজন সাদু তার ওয়াইফের প্রেগন্যান্সি নষ্ট করার জন্য কী করতে পারে? সে কিন্তু জবা ফুল বা আনারসই আনবে। সে কিন্তু  শহরে গিয়ে ওষুধ কিনে আনবে না। আমি আসলে ওই এলিমেন্টগুলোই দেখাতে চেয়েছিলাম, যেটা সাদু আর পাগলির চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য লাগে। আমি এমন কিছু করতে চাইনি যাতে দর্শকের ঘোর কেটে যায়। যদি সাধু ওষুধ আনতে ওষুধের দোকানে যেত  তাহলে দর্শকের সিনেমাটিক ঘোর কেটে যেত।

এমন নয় যে আমি একশ বছর আগের কোনো সময়ের গল্প বলেছি। আমি  সেখানে বিদ্যুৎ দেখাচ্ছি, টেলিভিশন দেখাচ্ছি—এমন কিছু দেখাচ্ছি না যেটা আধুনিকতার বাইরে। হতে পারে এটা পনেরো বছর আগের গল্প, বিশ বছর আগের গল্প। কিন্তু এটা তো আপনি বলতে পারবেন না যে এটা পঞ্চাশ বছর আগের গল্প—তাহলে তো আর ইলেকট্রিসিটি থাকতো না। ওখানে ইলেকট্রিসিটিও আছে। দেখা যাচ্ছে সাদুর বাসায় কখনো ইলেকট্রিসিটি থাকে, আবার থাকে না। হারিকেনের আলো দেখাচ্ছি, কখনো বিদ্যুতের আলো দেখাচ্ছি। কিন্তু মিয়া ভাইয়ের বাসায় আবার সবসময় বিদ্যুৎ আছে।

আমি আসলে এমন একটা সিচুয়েশন তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে আমি কখনোই দর্শককে বোঝাতে চাইনি এটা ঠিক এই সময়ের গল্প। আমি সাদু এবং পাগলির যে জীবন রচনা করতে চেয়েছি যেটা ওই লোকালিটিতে সাদু এবং পাগলি কী করতে পারে, সেইগুলোই আমি তুলে ধরতে চেয়েছি এই ছবিতে। এমন কিছু আমি ছবিতে দেখাইতে চাই নাই, যেটা সাদু আর পাগলি হয়তো করবে না। কারণ যখন দাইমা বলছেন  ওকে শহরে নিয়ে যেতে, শহরের বড় ডাক্তার দেখাতে তখন আমি কিন্তু পাগলিকে শহরে নিয়ে যাইনি। কী জন্য যাইনি? নিশ্চয়ই কারণ আছে। আমি গল্পের চারপাশে যে দেয়াল তৈরি করেছি সেই দেয়ালের বাইরে আমি আমার চরিত্রদের নিতে চাইনি।

মোস্তাফিজ নূর ইমরান সাদু চরিত্রে
আপনার চলচ্চিত্রের ভাষায় বাস্তবতা, লোকবিশ্বাস, স্বপ্ন ও প্রতীকের একধরনের খেলা দেখা যায়। আপনি নিজে আপনার ন্যারেটিভ স্টাইলকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? 

সিনেমা বানানোর সময় তত্ত্বগত জায়গা থেকে আমি খুব একটা দেখি না। আমি আমার নিজের মতো করেই বানাই। সেটাকে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, মিস্ট্রি ড্রামা, অনেকেই অনেক রকমভাবে ভাবতেই পারে। আমরাও ভাবতাম। আমি মনে করি এরকমই কিছু।  আমি নিজে মনে করি বা মনে হয় আমি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে বেশি আগ্রহী। সেটা সম্পর্ক হোক আর যেটাই হোক। আমি মনস্তত্ত্বের জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করতে হয়তোবা পছন্দ করি। আমার পূর্বের কাজগুলোতে আমি নিজে বিশ্লেষণ করলে, ওইটাকেই বেশি প্রাধান্য দেই।

আপনার চলচ্চিত্রে একধরনের কাব্যিক ও প্রতীকী ভাষা দেখা যায়। দীর্ঘদিনের কবিতা, গান ও চিত্রকলার চর্চা কি এই চলচ্চিত্রভাষা নির্মাণে প্রভাব ফেলেছে?

না, আমি এটা জানি না, অন্যরা বলতে পারবে। আমি তো আমার কাজটা করি। আমি যখন গান লিখি তখন আমার মতো লিখি। কোনটা কীভাবে কোথায় প্রভাব ফেললো সেটা নির্মাতা হিসেবে আমি কীভাবে বলি? দেখেন, আমি তো আমার ছবিটা বানাই নির্মাতা হিসেবে। সেটা কাব্যিক ছবি বানানোর জন্য আমি বানাই না। আমার তো মনে হয় আমার সব প্রিয় সিনেমাই কাব্যিক। কবিতা তো অনেক শক্তিশালী জিনিস। সিনেমা পোয়েটিক হয়ে ওঠেছে যখন কেউ বলেন, তখন তো আমি অনেক আনন্দিত হই। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি ছবি বানাই না যে, এরকম করে ভাবতে চেষ্টা করেছি কিংবা এরকম করে দেখাতে চেষ্টা করেছি।

গানের সুমন, নির্মাতা সুমনকে আমরা পেয়েছি। কবি মেজবাউর রহমান সুমনের কোনো কাব্যগ্রন্থ কি ভবিষ্যতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?

জানি না। আমি অনেকদিন ধরে লেখালেখি করি, কিন্তু আমার মনে হয় না যে আমি খুব ভালো কবিতা লিখি। যদি কখনো মনে হয় যে হ্যাঁ, আমার কবিতাগুলো নিয়ে আমি কোনো একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করব, হতেও পারে। কয়েকবার ইচ্ছা হয়নি তা না! ইচ্ছা হয়েছে, কিন্তু আবার অনেক সময় ইচ্ছা হয় নাই।

আপনার প্রথম সৃজনশীল লেখা কি কবিতা ছিল? সেই অভিজ্ঞতার কথা যদি বলতেন।

হ্যাঁ, শুরুর দিকে কবিতাই ছিল। ছোটবেলায় স্কুলে থাকতে। আমি ঠিক কখন থেকে লিখি, সেটা আমার খুব একটা মনে নাই। তবে আমি তো খুব ছোটবেলা থেকে লিখি, ক্লাস এইট-নাইন থেকে লিখি কিংবা তারও আগে থেকে। প্রথম ছড়া দিয়ে শুরু হয়েছে হয়তো। তারপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখা লিখেছি। তবে এখন বলা মুশকিল আমার জীবনের প্রথম লেখা কোনটা।

শিল্পে বহুমাত্রিক পথচলায় মেজবাউর রহমান সুমন
লেখক ও নির্মাতা হিসেবে আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন কোন কোন লেখক? কোন বই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল?

ছোটবেলা থেকে এক ধরনের লেখা পড়েছি, এখন আরেক ধরনের লেখা পড়ছি। সবাই প্রভাবিত করেছে। আমার মনে হয় যা আমার ভালো লাগে, সবই আমাকে প্রভাবিত করে। আমাকে যারা ভাবায়, তারাই তো প্রভাবিত করে। সেটা গান হোক, সেটা কবিতা হোক, একটা উপন্যাস হোক, যেকোনো একটা রাইটিং হোক বা  সিনেমা হোক সবকিছুই ভাবায়। স্পেসিফিক করে আমি বলতে চাই না। একেক সময় একেকটা বই আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে অবশ্যই। 

আমার জীবনে গান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমা মানেই যে শুধু আমাকে প্রভাবিত করে এমনটা না, আমার ক্ষেত্রে মিউজিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন সময়ে সেই সময়ের অনেকের লেখা আমার পড়া জীবনানন্দ দাশ, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, রফিক আজাদ, পরবর্তী সময়ে শক্তি, বিনয় আরো অনেকেরই লেখা। এটা তো একটা ধারাবাহিকতা। আমি সবই পড়েছি। স্কুলে পড়েছি, কলেজে পড়েছি, ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি, এখনো পড়ছি। তবে বলা মুশকিল কোন বই আমাকে বেশি প্রভাবিত করেছে। 





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html