জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা এখনও সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। প্রতিমাসে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। এ জন্যই জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে শুনানি করে না বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
প্রসঙ্গত, বিইআরসি আইন অনুযায়ী বিইআরসির সব ধরনের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির দাম নির্ধারণ করার কথা। এজন্য বিইআরসি আইনের পশাপাশি বিধি তৈরি করতে হয়। আর এই বিধি তৈরি করার কথা জ্বালানি বিভাগের। এখানে অতিপ্রয়োজনীয় অর্থাৎ সাধারণ ভোক্তা সরাসরি সম্পৃক্ত সেসব তেলের দাম নির্ধারনের বিষয়টি সরকারের হাতে রাখা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের গণশুনানি করলে মজুত বেড়ে গিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির শঙ্কায় এমনটি করা হয় না বলে বরাবর জ্বালানি বিভাগের তরফ থেকে বলা হয়। এজন্য তেলের দাম বৃদ্ধি কার্যকরের এক বা দুই ঘণ্টা আগে ঘোষণা দেওয়া হয়। যাতে বিষয়টি ব্যবকভাবে জানাজানি না হয়। এক বা দুই ঘণ্টা আগে মজুত করা কারও পক্ষে কঠিন হয় বলে মনে করা হয়।
এদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্য জ্বালানি গুলোর দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পাশাপাশি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করে। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং জুনে সেই আইনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়। অন্তবর্তী সরকারের আওয়ামী লীগ সরকারের করা আইনটি বাতিল করে দেয়। এতে বিইআরসি এককভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য গনশুনানি আয়োজেনের আগের ক্ষমতা ফিরে পায়। বর্তমান সরকারের সময় গত জুনে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের জন্য শুনানি করে বিইআরসি। একইভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানিও তারা করে। এর বাইরে এলপিজি, জেট ফুয়েল ও ফার্নেল অয়েলের দামও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিমাসে নির্ধারণ করে কমিশন।
বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে মন্ত্রণালয়। ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে বিইআরসি শুনানি করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করে থাকে।”