ঢাকাTuesday , 27 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫১% শেয়ার আর একটি গ্যারেজের স্কুল

UttorbongoBD
October 10, 2026 4:10 pm
Link Copied!


প্রথম পর্বে কৌশিক বসুর একটি আশঙ্কার কথা লিখেছিলাম। অতি ধনীরা সংবাদপত্র আর সংবাদমাধ্যম কিনে সম্পদকে প্রভাবে রূপান্তর করছেন, আর তাতে তৈরি হচ্ছে কণ্ঠস্বরের বৈষম্য।

সাজিদা ফাউন্ডেশনের সিম্পোজিয়ামে সারাদিন বসে থেকে বুঝলাম, যার নামে এই আয়োজন, তিনি সারাজীবন ঠিক উল্টো কাজটি করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পদকে তিনি রূপান্তর করেছেন জবাবদিহিতায়। আর সেটা একবার নয়, দুবার।

যে মানুষটি নিজের নামটুকুও রাখেননি

মানুষটিকে নিয়ে কিছু কথা আগে বলে নেওয়া দরকার, কারণ তার সিদ্ধান্তগুলোর ভেতরেই পুরো যুক্তিটা আছে।

সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের জন্ম ১৯৩১ সালে, কলকাতায়। মাকে হারান চার বছর বয়সে। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর স্কটল্যান্ডের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবন শুরু ১৯৫৭ সালে, সিলেটের রশিদপুর চা-বাগানে, সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন ফাইজার বাংলাদেশে, আর ধাপে ধাপে উঠে আসেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষে। পরে রেনাটার চেয়ারম্যান ছিলেন একুশ বছর।

এ পর্যন্ত গল্পটা একজন সফল কর্পোরেট কর্তার। কিন্তু তার দায়িত্বগুলোর তালিকাটা পাশাপাশি সাজালে অন্য একটা ছবি ফুটে ওঠে।

তিনি দুই দফায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চেম্বারে।

১৯৮৮ সালে আমেরিকান বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম গড়েছেন, যেটি পরে অ্যামচেম হয়। ব্যবসার জগতের এসব পদ স্বাভাবিক। কিন্তু একই মানুষ ১৯৭২ সাল থেকে ব্র্যাকের পর্ষদে ছিলেন, আর চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন প্রায় দুই দশক। আর ১৯৯৭ সালে যখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে, তার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও তিনিই। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ট্রাস্টি ছিলেন, বিআইডিএসের সিনিয়র ফেলো ছিলেন।

তালিকাটার দৈর্ঘ্য নয়, গড়নটা লক্ষ্য করার মতো। একজন ওষুধ কোম্পানির চেয়ারম্যান দেশের দুর্নীতিবিরোধী নজরদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি হচ্ছেন সেই মানুষ, যিনি একই সময়ে দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থার পর্ষদ সামলাচ্ছেন। আমাদের দেশে ব্যবসা আর জবাবদিহিতা সাধারণত দুই শিবিরে বসে, একে অপরের দিকে সন্দেহ নিয়ে তাকায়। জনাব হুমায়ুন কবির সারাজীবন দুই শিবিরেই বসেছেন, আর কোনোটিকেই ছাড় দেননি।

তার ব্যক্তিগত দিকটাও ছোট নয়। ১৯৮৭ সালে নিজের বাড়ির গ্যারেজে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটি স্কুল শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে ফাউন্ডেশনটি যখন দাঁড়ায়, সেটি ছিল স্ত্রীর প্রতি পঁচিশতম বিবাহবার্ষিকীর উপহার। নামও হয় তার স্ত্রীর নামে, সাজিদা। নিজের নামটি তিনি কোথাও বসাননি! 

২০১৫ সালে ৮৩ বছর বয়সে তিনি চলে যান। যে আয়োজনে বসে এই লেখাগুলোর উপকরণ জোগাড় করেছি, সেটির গায়ে এখন তাঁর নাম। নামটি বসিয়েছেন অন্যরা, তাঁর চলে যাওয়ার পর।

তিনি রেখে গেছেন একটি ব্যবস্থা, কোনো স্মৃতিসৌধ নয়। পার্থক্যটা এই লেখার বাকিটুকুর মূল কথা।

গ্যারেজ থেকে শুরু

গল্পটা শুরু ১৯৮৭ সালে, একটি গ্যারেজে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ছোট একটি স্কুল। ১৯৯১ সালে ফাইজার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ হুমায়ুন কবির প্রতিষ্ঠানটির ৫১% শেয়ার সাজিদা ফাউন্ডেশনকে দিয়ে দেওয়ার সমঝোতায় পৌঁছান। ১৯৯৩ সালে রেনাটা লিমিটেড গঠিত হলে সেই শেয়ার হস্তান্তরিত হয়।

ফলাফলটা সহজ ভাষায় এই: একটি লাভজনক ওষুধ কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা চলে যায় একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের হাতে। মুনাফা তাই ব্যক্তির হাতে জমা না হয়ে ফিরে আসে সমাজের কাজে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বললেন, “মুনাফা তৈরি করে তা জনস্বার্থে বিনিয়োগ করে, এমন প্রতিষ্ঠান তিনি খুব বেশি দেখেননি।”

একে তিনি হুমায়ুন কবিরের বড় ও স্থায়ী অবদান মনে করে বলেন, “এটি করপোরেট পুঁজিবাদের এক আলোকিত রূপ। ব্র্যাক আর গ্রামীণও বড় পরিসরে এ ধরনের মডেলের চর্চা করে। হুমায়ুন কবির নিজেও প্রায় দুই দশক ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।”

তবে অধ্যাপক রেহমান সোবহানের মতে, সাজিদা আর রেনাটার বাঁধন আরও এক ধাপ এগিয়ে।

গ্যারেজের সেই স্কুল থেকে আজকের হিসাবটা দেখার মতো। সাজিদার নিজেদের উপস্থাপনা অনুযায়ী বছরে প্রায় এক কোটি আট লাখ মানুষের জীবন ছুঁয়ে যাচ্ছে তাদের কাজ, ৩৬টি জেলায়, আর আফ্রিকাতেও। মাইক্রোফাইন্যান্স পোর্টফোলিও ৩২৭ মিলিয়ন ডলার, সদস্য সাত লাখ ৬৬ হাজারের বেশি, যাঁদের ৯০ শতাংশের বেশি নারী। দেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ড ইস্যু করেছে তারাই। স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেছে ৩২ লাখের বেশি মানুষের কাছে, আর মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তা পেয়েছেন দুই লাখের বেশি মানুষ।

দ্বিতীয়বার এই সিম্পোজিয়ামেই আমার জন্য নতুন একটি তথ্য এল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানালেন, টিআইবির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবির।

কথাটা একটু থেমে ভাবার মতো। যে মানুষটি নিজের কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার জনস্বার্থে ছেড়ে দিলেন, তিনিই আবার গড়ে তুললেন সেই প্রতিষ্ঠান, যার কাজ ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

একদিকে সম্পদের ওপর নিজের দাবি কমানো, অন্যদিকে ক্ষমতার ওপর নজরদারির কাঠামো তৈরি। দুটো একই ভাবনার দুই পিঠ।

ইফতেখারুজ্জামানের মূল কথাটি ছিল আরও সাধারণ, আর সে কারণেই আরও জরুরি। প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতাকে ছাড়িয়ে টিকে থাকে তখনই, যখন লক্ষ্য, মূল্যবোধ, সুশাসন আর অঙ্গীকার ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে। টিআইবি গড়া হয়েছিল জনস্বার্থে কাজ করার জন্য, আর হুমায়ুন কবির জানতেন এই লক্ষ্য প্রাসঙ্গিক থাকবে, কারণ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজ শেষ হওয়ার নয়। নাগরিক সমাজ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কণ্ঠস্বর, তার জন্য দরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর নৈতিক নেতৃত্ব।

সুশাসন মানে সঠিক প্রশ্ন করতে পারা

সাজিদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান সুশাসনের শর্তগুলো গুছিয়ে বললেন। প্রথমত নেতৃত্ব, দ্বিতীয়ত জবাবদিহিতা, আর তৃতীয়ত মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা যা ফলাফলের দিকে তাকিয়ে চলে।

তার একটি পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। আমলাতন্ত্র আর রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্কটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। দরকার সমন্বয়, আর সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে বিবেচনার দৃষ্টিভঙ্গি। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও আমরা এখনো এই সমন্বয়ের জায়গাটা ঠিকঠাক গড়তে পারিনি। করপোরেট সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক আর সিকিউরিটিজ কমিশনের ভূমিকার কথা তুললেন, আর সেখানে মূল দক্ষতাটিকে চিহ্নিত করলেন এক লাইনে: সঠিক প্রশ্নটি করতে পারার সামর্থ্য। সমাজের প্রতি ব্যবসার দায় নিয়ে ভাবার জন্য ২০০৭ সালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সেন্টার ফর সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি।

কথাটা আমার পেশার একেবারে কেন্দ্রে গিয়ে লাগে। পরামর্শক হিসেবে বহু প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেছি, তথ্যের অভাবে সিদ্ধান্ত খারাপ হয় না যত, প্রশ্ন না করার সংস্কৃতিতে হয় তার চেয়ে বেশি। বোর্ড রুমে সংখ্যা উপস্থাপন করা সহজ। সেই সংখ্যার পেছনে কী আছে তা জিজ্ঞেস করার জন্য যে নিরাপত্তাবোধ লাগে, সেটি তৈরি করা কঠিন।

বহুজাতিকের নিয়ম, দেশি প্রতিষ্ঠানে

সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও লিন্ডে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচালক শেহজাদ মুনিম কথা বললেন অনুবাদের সমস্যা নিয়ে। বহুজাতিক কোম্পানির সুশাসনের চর্চা কীভাবে একটি দেশি প্রতিষ্ঠানে বসানো যায়? তাঁর অভিজ্ঞতা বলে, সাজিদার ক্ষেত্রে কাজটা তুলনায় সহজ ছিল, কারণ এখানে মূল্যবোধ, লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য অন্যরকম। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সম্পদ সঞ্চয়ের দিকে তাকিয়ে চলে, সাজিদা চলে উল্টো দিকে।

আমি এই অনুবাদের কাজটাই করি, আর জানি এটা সাধারণত সহজ নয়। নিয়ম, নীতিমালা আর কমপ্লায়েন্সের কাঠামো বসানো যায় কয়েক মাসে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান যদি ভেতরে ভেতরে অন্য কিছু চায়, কাঠামোটা তখন খোলসই থেকে যায়। শেহজাদ মুনিম যে কারণে সাজিদার ক্ষেত্রে কাজটা সহজ পেয়েছেন, সেটিই আসল শিক্ষা: সুশাসন নিয়ম দিয়ে শুরু হয় না, উদ্দেশ্য দিয়ে শুরু হয়।

করপোরেট জগতের জন্য বার্তাটি তাই গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ারের একটি বড় অংশ জনসেবায় বরাদ্দ করা সম্ভব, আর তা করেও প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা সাধারণত সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বাজেটের একটা লাইন হিসেবে দেখি, মালিকানার প্রশ্ন হিসেবে নয়। হুমায়ুন কবির দেখিয়ে গেছেন, প্রশ্নটা মালিকানার স্তরেই তোলা যায়।

পরিবার, না প্রতিষ্ঠান?

এখানে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে, আর সিম্পোজিয়ামে সেটি এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। মুনিম বললেন, সাজিদা একটি পরিবার, আর কাজগুলো পরিবারের কাঠামোর ভেতর দিয়েই এগোয়। জবাবদিহিতা আর মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার আলোচনায় কথাটা একটু অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠাতার মূল্যবোধ পরিবারের হাতে থাকলে তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মে কী হবে?

দিনের শেষ অধিবেশনে উত্তরটা এল দুই দিক থেকে। পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের সরাসরি বললেন, পারিবারিক কাঠামোয় সমস্যা নেই, সুশাসনের আসল উত্তরদিশা একটাই, সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা। আর রেনাটার এমডি ও সিইও সৈয়দ এস কায়সার কবির বললেন, সমাজের সেবা করার ব্যবস্থাটা সাজিদার ভেতরে গোড়া থেকেই গাঁথা ছিল।

দ্বিতীয় কথাটি কে বলছেন, সেটাই আসল প্রমাণ। প্রতিষ্ঠাতার ছেলে, যিনি এখন কোম্পানিটি চালান। মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মে গিয়েছে কি না, তার চেয়ে ভালো সাক্ষ্য আর হয় না।

যা বাকি থাকে

দিনের একটি অধিবেশনের সঞ্চালক শেষ করেছিলেন এভাবে: কাঠামো দিয়ে প্রতিষ্ঠান টেকে না, টেকে নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতায়। প্রয়াত হুমায়ুন কবিরের রেনাটা-সাজিদা মডেল ছড়িয়ে পড়া দরকার।

কথাটা মেনে নিয়েও একটা প্রশ্ন থেকে যায়, আর সেটা আমাদের নিজেদের দিকেই ফেরানো। এই মডেল ছড়ায়নি কেন? তিন দশকে বাংলাদেশে বহু বড় শিল্পগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই দান করেন, ফাউন্ডেশন চালান, বৃত্তি দেন। কিন্তু মালিকানার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জনস্বার্থে ছেড়ে দেওয়ার দ্বিতীয় উদাহরণ আমরা ক’টা দেখাতে পারি?
দান আর মালিকানা এক জিনিস নয়। দান দাতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে, আর ইচ্ছা বদলায়। মালিকানা কাঠামোয় ঢুকে যায়, আর কাঠামো প্রতিষ্ঠাতাকে ছাড়িয়ে বাঁচে। হুমায়ুন কবিরের কাজটা উদারতা ছিল না শুধু, ছিল পথনকশা।

 

আসিফ ইকবাল, প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাচিভ কনসাল্টিং; সহপ্রতিষ্ঠাতা, ASIX বাংলাদেশ; খণ্ডকালীন শিক্ষক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গীতিকবি

প্রকাশিত মতামতটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html