ঢাকাWednesday , 28 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একুশে বইমেলা কি ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য হারাচ্ছে?

UttorbongoBD
October 18, 2026 8:10 pm
Link Copied!


অমর একুশে বইমেলা মানেই ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। অথচ গত দুই বছরের বইমেলার সময়সূচি নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, প্রকাশকদের আপত্তি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এবার ২০২৭ সালের মেলা ৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলা একাডেমি। এ সিদ্ধান্তের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, একুশের বইমেলা কি ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য থেকে সরে যাচ্ছে?

গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের বইমেলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বাংলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

বাপুসের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা বইমেলার সঙ্গে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক যোগসূত্র ধরে রাখতে চান।  তিনি বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই। বইমেলা তো একুশে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিষয়।

বাংলা একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলার কথা বলা হলেও সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চালানোর কথা হয়েছে বলে দাবি করেন বাপুস সভাপতি। তিনি বলেন, এক মাসের বেশি হোক, অসুবিধা নাই। কিন্তু আমরা ফেব্রুয়ারির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই।

মেলার সময়সূচি নির্ধারণে প্রকাশকদের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, মেলা আয়োজন করতে গিয়ে প্রকাশকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার রমজানের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সময়সূচি নির্ধারণে প্রকাশকদের স্বার্থ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রমজানের মধ্যে বইমেলা জমে না, এতে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে তাদের পক্ষ থেকে মেলা এগিয়ে আনার প্রস্তাব ছিল। তার মতে, সে কারণেই জানুয়ারির শুরুতে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০২৬ সালের মেলা নিয়েও টানাপোড়েন

২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলার সময়সূচি নির্ধারণেও একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলা একাডেমি ঘোষণা করে, মেলা ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজন করা হবে।

কিন্তু এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন লেখক ও প্রকাশকদের একাংশ। পরে ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বইমেলা আয়োজনের কথা বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি স্থগিত করে বাংলা একাডেমি।

দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনার পর ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল বেলা ১১টা।

তবে রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রকাশকদের একাংশ আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা ছিল, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও রমজানের কারণে ক্রেতা-সমাগম কমলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এ নিয়ে মেলা পেছানোর দাবিও ওঠে।

শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়। চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। সময়সূচির ধারাবাহিক পরিবর্তন ও রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজনের কারণে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ এবং বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ সামনে আসে।

প্রকাশকদের আর্থিক ঝুঁকি

প্রকাশকদের কাছে বইমেলা বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিক্রির উপলক্ষ। মেলায় অংশ নিতে স্টল, কর্মী, পরিবহন ও বই প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে প্রস্তুতি ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। আবার রমজান বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্রেতার উপস্থিতি কম হলে লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ে।

প্রকাশকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বই বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের আর্থিক চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় অনুপযুক্ত সময়ে মেলা আয়োজন করলে বিনিয়োগের বড় অংশ উঠে না আসার ঝুঁকি থাকে। তাই মেলার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রির বাস্তবতা ও প্রকাশকদের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পাক, এমনটাই চান তারা।

অপরদিকে, অমর একুশে বইমেলার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ফেব্রুয়ারির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা এ আয়োজনকে কেবল বই বিক্রির অনুষ্ঠান হিসেবে দেখেন না লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের বড় একটি অংশ। তাদের কাছে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে বইমেলার যোগসূত্র বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের মেলা নিয়ে সময়সূচির টানাপোড়েন এবং ২০২৭ সালের মেলা জানুয়ারিতে শুরু করার সিদ্ধান্তের পর আবারও সামনে এসেছে একই প্রশ্ন—প্রকাশকদের আর্থিক বাস্তবতা ও আয়োজনের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা যায়?





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html