নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিলের (৩২) জানাজা নামাজের পর ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় দোকানের মালামাল। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে ওই হামলা চালানো হয়। এ সময় শহরে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।
ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা ইউনিয়নের খাকরাদহ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রবিউল করিমের ছেলে। তবে হামলার নেতৃত্বে কারা ছিলেন পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি। নিহত শাকিল পৌরসভার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লার রবিউল মিস্ত্রির ছেলে।
স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বিকালে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড দেন। মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল। মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের সখ্যতা রয়েছে। তারা দুজনে মিলে গুরুদাসপুরে একটি সশস্ত্র গ্যাং তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শাকিল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে সন্দেহে জানাজায় অংশ নেওয়া উৎসুক জনতা দোকানপাট ভাঙচুর করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই লাশটি শাকিলের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে আগত মুসল্লিদের একাংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। সেখানে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীদের দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
শাকিলের পিতা রবিউল মিস্ত্রি বলেন, ১৪ অক্টোবর তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে দুর্বৃত্তরা। ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। সে সময় এমপির নির্দেশেই আমেরিকা প্রবাসীর রাসেলের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আবার এমপির নির্দেশেই রাসেলের নামটি কেটে দেওয়া হয়। এমপির ছেলে মিন্টুকে গ্রেফতার করা ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ অন্য কোনও অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তার ধারণা মিন্টুর সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলও তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে জানাজায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, জানাজা শুরুর আগে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ শাকিলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নিহত শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় জানাজায় উপস্থিত লোকজন ভুয়া ভুয়া স্লোগান শুরু করেন। তাৎক্ষণিক উপস্থিত মুসল্লিদের রসানলে পড়েন এমপি আব্দুল আজিজ।
শাকিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সন্তান জড়িত থাকলেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান মোবাইল ফোন না ধরায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।