জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়নি। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় দেশে ৩ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট, বিকাল ৩টায় ৩ হাজার ৪৮৮ মেগাওয়াট এবং বিকাল ৪টায় ২ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে বিকাল ৩টার লোডশেডিং ছিল চলতি সপ্তাহের সর্বোচ্চ।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সচিবালয়, বিদ্যুৎ ভবন ও হাইকোর্টসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে পিজিসিবি জানায়, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র চালু করা হয়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার কথা জানায় সংস্থাটি। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং কমে আসবে বলেও জানানো হয়।
ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সূত্রের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট। গ্রিড লাইনে ত্রুটির পর উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে। এ সময় ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।
পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক এবং কিছু পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিবিয়ানা ও সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি পিডিবির দুটি কেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। বন্ধ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করতে সময় প্রয়োজন।
ফলে জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, পান্থপথ, শান্তিনগর ও গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার বলেন, দুপুরের পর থেকে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ এলেও আবার চলে যাচ্ছে। এভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক বিদ্যুৎ থাকছে না।
একই অভিযোগ করেন কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা নাজমুল হক। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে গেছে।