ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূল অতিক্রম করেছে। এ সময় এটি ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ছিল, যার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ৮টায় ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় ওড়িশা রাজ্যজুড়ে ৩১৩টি উদ্ধার দল মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০টি ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (ওডিআরএএফ) দল, ৯টি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দল এবং ২৪৪টি ফায়ার ও জরুরি সেবা দল। ঘূর্ণিঝড়টি রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী এ তথ্য জানান।
প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যাচাইয়ে ভুবনেশ্বরের রাজ্য জরুরি অভিযান কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন পূজারী।
তিনি বলেন, রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে কাকিনাড়ায় স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের দিকে সরতে থাকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটি এখন স্থির আছে। অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে ঢোকার পর এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে মালকানগিরি পৌঁছাবে।
সরিয়ে নেওয়া মানুষকে রাখতে মোট ২ হাজার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজারী আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীদেরও নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে এবং সব মাছ ধরার নৌকা তীরে ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আইএমডির কেন্দ্রগুলোতে রেকর্ড করা বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি