ঢাকাSaturday , 20 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চকলেট থেকে আলু, কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন আর কোনটি নয়


June 20, 2026 9:45 am
Link Copied!


চকলেট কি ঠান্ডা করে খেলে বেশি ভালো লাগে? কলা কি নরম ও পচে যায়? আর অ্যাভোকাডোর কথাই বা কে ভাববে? এসব খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো নাকি আলমারিতে—এই চিরন্তন দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান এখন খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতে পরিষ্কার হচ্ছে।

ঠান্ডা করলে অনেক খাবারের স্বাদ আরও বেশি ফুটে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অম্লতা (টকভাব) কিছুটা বেশি অনুভূত হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক চার্লস স্পেন্স বলেন, “আমরা খাবার বেশি উপভোগ করি যখন সেটিতে কিছুটা ‘ক্রাঞ্চ’ বা শব্দ থাকে। ফ্রিজে রাখা চকলেট ভাঙলে আরও ভালো ‘স্ন্যাপ’ পাওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, নিম্ন তাপমাত্রা তেতো ও মিষ্টির মতো তীব্র স্বাদকে কিছুটা নরম করে দেয়, ফলে খাবার আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সতেজ লাগে, যেখানে ক্রিমি টেক্সচার বেশি স্পষ্ট হয়।

এই বিতর্কই এখন আবার নতুন করে আলোচনায় এনেছে ফ্রিজ বনাম আলমারির চিরন্তন লড়াই—যেখানে কেচাপ, ডিম বা টমেটো নিয়েও পরিবারের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ দেখা যায়। এখানে খাদ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কঠিন সত্য তুলে ধরছেন।

মাখন (Butter)

গৃহস্থালি খাদ্য অপচয় বিশেষজ্ঞ ও ‘দ্যা ফুল ফ্রিজার মেথড’ বইয়ের লেখক কেট হল বলেন, মাখন সাধারণত ফ্রিজে রাখাই স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু এতে চর্বির পরিমাণ বেশি ও পানির পরিমাণ কম হওয়ায় এটি আলাদা।

তিনি বলেন, “যদি মাখন নরম রাখতে চান এবং আবহাওয়া খুব গরম না হয়, তাহলে কাউন্টারে বাটার ডিশে রাখা যেতে পারে।”

তবে কয়েক দিনের ব্যবহারের জন্য যতটুকু প্রয়োজন শুধু সেটুকু বাইরে রেখে বাকি অংশ ফ্রিজ বা ফ্রিজারে রাখা ভালো।

রুটি (Bread)

হল বলেন, রুটি ফ্রিজে রাখলে ছাঁচ (ফাঙ্গাস) পড়তে দেরি হলেও দ্রুত বাসি হয়ে যায়। টোস্টের জন্য চললেও স্যান্ডউইচের ক্ষেত্রে এটি ভালো নয়। বরং আলমারি বা কাউন্টারে রাখা উচিত। প্রয়োজনে ফ্রিজারে রেখে পরে ডিফ্রস্ট করে ব্যবহার করা যায়।

 

ডিম (Eggs)

ডিম সংরক্ষণ নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। এ বিষয়ে গুড ফুড স্টুডিও নামের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার গ্যাব্রিয়েল ব্রে বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্যে ডিম ফ্রিজে রাখা বাধ্যতামূলক নয়, কারণ খামার পর্যায়ে যেভাবে ডিমের ব্যবস্থাপনা করা হয় তাতে আলাদা করে ফ্রিজে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিম ফ্রিজে রাখা হয়। কারণ সেখানে ডিম ধোয়া হয়, যার ফলে ডিমের বাইরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরটি চলে যায়।

অনেক কিছুই নির্ভর করে তাপমাত্রার ওপর, বিশেষ করে রান্নাঘরের তাপমাত্রার ওপর। ব্রিটিশ এগ ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিলের অফিসিয়াল পরামর্শ হলো, ডিম ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৬৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নিচে রাখা উচিত, তাই সাধারণত ফ্রিজই সবচেয়ে ভালো জায়গা।

অন্যদিকে হল বলেন, ডিমের খোসা ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এটা খুব বড় ঝুঁকি নয়, তবে ফ্রিজে রাখলে এগুলো বেশি দিন ভালো থাকে।

তিনি আরও বলেন, ডিমের খোসা ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় তা আশপাশের গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া শোষণ করতে পারে। তাই ফ্রিজে ডিম অবশ্যই কার্টন বা বক্সে রাখা উচিত।

অলিভ অয়েল (Olive oil)

কিছু মানুষ মনে করেন অলিভ অয়েল ফ্রিজে রাখলে বেশি দিন তাজা থাকে। কিন্তু আর্টিজান অলিভ অয়েল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন আমোর বলেন, “ফ্রিজে রাখলে কোনও বিশেষ সুবিধা নেই বরং স্বাদ কমে যেতে পারে। আলো, তাপ ও অক্সিজেন থেকে দূরে অন্ধকার জায়গায় রাখাই সবচেয়ে ভালো।

টমেটো (Tomatoes)

ব্রের মতে, টমেটো যতটা সম্ভব ফ্রিজের বাইরে রাখা ভালো। এগুলো খুবই সংবেদনশীল, তাই ফ্রিজে রাখলে এর টেক্সচার (গঠন) এবং স্বাদ দুটোই পরিবর্তিত হতে পারে। তবে একবার টমেটো পেকে গেলে, তখন ফ্রিজে রাখা ভালো—এতে এর মেয়াদ কিছুটা বাড়ে।

কলা (Bananas)

ব্রে বলেন, কলা ফ্রিজে রাখলে খোসা কালচে বা ধূসর হয়ে যায়, তবে ভেতরের অংশ ঠিক থাকে। বেশি পাকা কলা ফ্রিজে জমিয়ে স্মুদি বা বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়।

হল বলেন, যদি এগুলো আরও এক-দুই দিন সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে এবং বাইরের চেহারাকে খুব বেশি গুরুত্ব না দেওয়াই ভালো।

সাইট্রাস ফল (Citrus fruits)

লেবু ও লাইম ফ্রিজে রাখা ভালো। তবে পেঁয়াজ ও রসুন আর্দ্রতায় নষ্ট হতে পারে। ঠান্ডা পরিবেশ পুষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদ এবং ‘নো ননসেন্স নিউট্রিশিয়ন’ বইয়ের লেখক ডোমিনিক লুডউইগ বলেন, ঠান্ডা পরিবেশে পুষ্টি উপাদানের ক্ষয় ধীরে হয়। কারণ এতে এনজাইমের কার্যকলাপ কমে যায়। ঠান্ডা তাপমাত্রা ভিটামিন সি এবং ফোলেটের মতো পুষ্টি উপাদান বেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ঠান্ডা পরিবেশ উপকারী উদ্ভিদ যৌগ যেমন পলিফেনল সংরক্ষণেও সাহায্য করে।

কনডিমেন্ট ও সস (Condiments and sauces)

কেচাপ ও সস সাধারণত খুলে ফ্রিজে রাখা ভালো। তবে ব্যবহার কম হলে ফ্রিজে রাখাই উত্তম।

হল বলেন, এগুলো সাধারণত চিনি বা ভিনেগার দিয়ে ভরা থাকে, তাই এগুলো বেশ স্থিতিশীলভাবে সংরক্ষণযোগ্য। আপনি যদি ঠান্ডা সস পছন্দ না করেন, তাহলে আলমারিতে রাখলেও সাধারণত ঠিক থাকে। আর যদি এগুলো নিয়মিত ব্যবহার না করেন, তাহলে অবশ্যই ফ্রিজে রাখা উচিত।

আপেল

বেশিরভাগ ফল ও সবজির মতোই, ফ্রিজে রাখলে আপেল বেশি দিন ভালো থাকে।

হল বলেন, কিছু মানুষ মনে করেন ফলের ঝুড়িতে রাখলে আপেলের স্বাদ ভালো লাগে, আবার কিছু মানুষ সংবেদনশীল দাঁতের কারণে ফ্রিজের ঠান্ডা আপেল খেতে চান না। দুইভাবেই আপেল ভালো থাকে। এটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।

অ্যাভোকাডো

হল বলেন, যদি এগুলো ফ্রিজে রাখা হয়, তাহলে ঠিকভাবে পাকে না। তাই এগুলো পাকা না হওয়া পর্যন্ত বাইরে রাখা সবচেয়ে ভালো। তারপর যদি আপনি তখনই খেতে না চান, তাহলে ফ্রিজে রাখতে পারেন।

জ্যাম, মধু এবং মার্মালেড

মধু আলমারিতে রাখা উচিত, যাতে এটি জমাট বেঁধে স্ফটিক না হয়ে যায়। কিন্তু বাকি সবগুলো সাধারণত ঠান্ডা জায়গায় রাখা ভালো।

হল বলেন, যদিও জ্যামে থাকা চিনি এটিকে সংরক্ষণে সাহায্য করে, তবুও ব্যবহারের সময় এতে ব্রেডক্রাম্ব বা মাখনের মতো কিছু ঢুকলে দ্রুত ছত্রাক তৈরি হতে পারে। তবে ফ্রিজে রাখলে এটি আরও বেশি দিন ভালো থাকে, আর এতে স্বাদের তেমন কোনও ক্ষতি হয় না।

পিনাট বাটার

লুডউইগ বলেন, নাট বাটার বা বাদামের মাখনের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, আলো ও তাপে থাকলে এর তেল ধীরে ধীরে নষ্ট বা র‍্যান্সিড হয়ে যেতে পারে।

যেসব বেশি প্রাকৃতিক ধরনের বাটার, যেখানে তেল আলাদা হয়ে যায়, সেগুলো ফ্রিজে রাখা উচিত।

কফি (Coffee)

ক্যাফে ক্রাফট হাউস কফির প্রধান (হেড অফ কফি) হান্না হুইটন বলেন, কফি ফ্রিজে রাখা উচিত না। কারণ কফি বিন খুবই ছিদ্রযুক্ত। তাই এটি সহজেই খাবারের গন্ধ শোষণ করে। ফ্রিজ থেকে বারবার বের করা ও ঢোকানোর ফলে তাপমাত্রার ওঠানামায় জমাট বেধে যায়, যা দ্রুত কফির সূক্ষ্ম স্বাদ নষ্ট করে, কারণ কফি আর্দ্রতা শোষণ করে ফেলে।

তিনি পরামর্শ দেন, বিনগুলো একটি বায়ুরোধী পাত্রে অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত। আরও ভালোভাবে সংরক্ষণের জন্য ভ্যাকুয়াম-সিল করা পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

বীজ, বিশেষ করে গুঁড়ো বা ভাঙা বীজ

লুডউইগ বলেন, বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার ফ্রিজে না রাখাই ভালো। তবে পরিমাণে বেশি থা্কলে আর সঙ্গে সঙ্গে না খেলে তিনি ফ্রিজারে রাখার পরামর্শ দেন।

সে ক্ষেত্রে তিনি বলেন, খোলা প্যাকেটের গুঁড়ো করা ফ্ল্যাক্সসিড (তিসি বীজ) অবশ্যই ভালোভাবে সিল করে ফ্রিজে রাখতে হয়, কারণ এগুলো অক্সিডেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

একই নিয়ম প্রযোজ্য আরও সংবেদনশীল বীজের তেলের ক্ষেত্রে, যেমন হেম্প বা ফ্ল্যাক্সসিড তেল। একবার খোলা হলে এগুলো সাধারণত ফ্রিজে রাখাই ভালো।

চকলেট

মাস্টার চকোলেটিয়ার পল এ ইয়ং বলেন, চকলেট ফ্রিজে রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। চকলেট খুব সহজেই অন্য গন্ধ শোষণ করে এবং এতে এর স্বাদ খুব অদ্ভুত হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা হলো ফ্রিজের পরিবেশ—“এটি খুব ঠান্ডা, ভেজা এবং আর্দ্র। চকলেট ফ্রিজে অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়, তারপর বাইরে বের করলে এর ওপর ঘনীভবন তৈরি হয়, যা চকলেটের চিনি গলিয়ে দেয়। ফলে ‘সুগার ব্লুম’ তৈরি হয়—চকলেটের ওপর খসখসে একটি স্তর, যা এর চেহারা নষ্ট করে এবং জিভে অস্বস্তিকর লাগে।

তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে তাজা ক্রিমযুক্ত ট্রাফল অবশ্যই ফ্রিজে রাখা উচিত এবং খাওয়ার আগে ঘরের তাপমাত্রায় এনে তারপর খেতে হয়।

ইয়ং বলেন, চকলেট ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন না।

আলু

আগে পরামর্শ ছিল আলু আলমারিতে রাখা, কিন্তু এখন বলা হচ্ছে এগুলো ফ্রিজে রাখলে এর আয়ু বাড়ে এবং অঙ্কুর হওয়া কমে যায়।

তবে হল বলেন, ঠান্ডা ও অন্ধকার কোনও আলমারিতে আলু রাখা একদম ঠিক আছে। তবে তা পেঁয়াজ থেকে দূরে রাখা উচিত।

পেঁয়াজ থেকে নির্গত ইথিলিন গ্যাস—এছাড়া কলা, টমেটো ও মরিচের মতো অন্যান্য ফল-সবজি থেকেও—আলুতে দ্রুত অঙ্কুর গজাতে সাহায্য করতে পারে।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html