ঢাকাThursday , 25 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শুধু আদ-দ্বীন না, ঢাকায় ‘মৃত্যুফাঁদ’ অনেক!

UttorbongoBD
June 25, 2026 10:25 am
Link Copied!


সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর আরেক বেসরকারি শিশু হাসপাতাল ‘শ্যামলী বেবি কেয়ার’-এ অক্সিজেন লাইনে লিকেজের কারণে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—স্বাস্থ্যসেবার সংকট কি শুধু একটি-দুটি হাসপাতালকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ? নাকি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা চিকিৎসা অবহেলা, ভুল চিকিৎসা, সেবার ঘাটতি, পরিবেশগত সমস্যা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ এসব ঘটনা?

আদ-দ্বীন হাসপাতাল

বাস্তবতা হলো, সমস্যাটি কোনও একক প্রতিষ্ঠানের নয়। বরং ঢাকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, তদারকির ঘাটতি ও জবাবদিহির অভাব রোগীদের জন্য একের পর এক ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি করছে। ফলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৮২৭। এছাড়া নিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১ হাজার ৫৪৪টি এবং ব্লাড ব্যাংক রয়েছে ১৫২টি।

বিপুল সংখ্যক এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কতগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হচ্ছে, কতগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে এবং কতগুলো প্রতিষ্ঠানে রোগীর নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন নতুন করে সামনে এসেছে।

নিবন্ধিত এসব হাসপাতালের তালিকায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের নামও রয়েছে। কিন্তু নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটির অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগের মধ্যে দেশকে সাক্ষী হতে হয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনার। তবে শুধু আদ-দ্বীন হাসপাতালই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নানা ধরনের অনিয়মের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষ একদিকে যেমন জীবনঝুঁকিতে থাকছেন, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও পাচ্ছেন না প্রত্যাশিত মানের সেবা।

সরেজমিন রাজধানীর মিরপুর এলাকার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে নানা অনিয়মের চিত্র। অনেক প্রতিষ্ঠানই বাণিজ্যিক কিংবা আবাসিক ভবনের সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও হাসপাতালের পাশাপাশি একই ভবনে রয়েছে মাদ্রাসা, গার্মেন্টস কারখানা বা আবাসিক ফ্ল্যাট। আবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি বিভাগ থাকলেও তা কেবল নামমাত্র; হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উপযুক্ত পরিবেশের ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথে দৃশ্যমান স্থানে স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করার কথা। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। কোথাও লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয়নি, আবার কোথাও তা এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নজরে আসে না।

বিএমডিসি’র নাম ব্যবহার করে হাসপাতালের ‘নিবন্ধন’

মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনে ৬তলা ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে করা হয়েছে বিএমআই হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে মাদ্রাসা, আর আর ওপরের তলায় আবাসিক ভবন। এখানে চিকিৎসকরাও রোগী দেখেন।  হাসপাতালের বাইরে টানানো রয়েছে বিভিন্ন বিভাগের ১৫ জন চিকিৎসকের নামের তালিকা। তবে হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদের মধ্যে তিন থেকে চারজন চিকিৎসক এখানে নিয়মিত সন্ধ্যায় রোগী দেখেন। বাকিরা অন কলে এসে রোগী দেখেন। হাসপাতালে নেই কোনও জরুরি বিভাগ। হাসপাতালের রিসিপশনে জিজ্ঞেস করলে তারা একটি রুম দেখিয়ে দেন এবং জানান সেটিই তাদের ইমার্জেন্সি বিভাগ। কথিত সেই জরুরি বিভাগে নেই কোনও চিকিৎসক। রিসিপশন থেকে জানানো হয়, এই দুই ফ্লোরের মধ্যেই তাদের হাসপাতাল এবং ডায়গনেস্টিক সেন্টার। আবার এর মধ্যেই আছে প্যাথলজি ল্যাব। হাসপাতালের বাইরে লাগানো ব্যানারে লেখা রয়েছে, হাসপাতালটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। সেখানে উল্লেখ রয়েছে- “বি.এম.ডি.সি রেজিঃ নং- HSM 91356″। অথচ বি.এম.ডি.সি কেবল মাত্র চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন  দেয়, কোনও হাসপাতালের না। 

এই হাসপাতালে কেমন রোগী আসে সে বিষয়ে আশপাশের বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোগীর সংখ্যা মোটামুটি, সন্ধ্যার দিকেই বেশিরভাগ লোক আসেন। তাদের দাবি, এই হাসপাতালে সি-সেকশন বেশি হয়।

মেডি হোম হসপিটাল

একই বিল্ডিংয়ে গার্মেন্টস আর হাসপাতাল

মিরপুর ১ নম্বরের শাহ-আলী মাজারের অপরদিকে অবস্থিত ৭ তলা ভবনে রয়েছে ‘মিরপুর হলি ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনেস্টিক কমপ্লেক্স’। বিল্ডিংটির নিচতলায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আউটডোর সেবা ও রিসিপশন। দোতলায় ডায়গনেস্টিক সেন্টার আর তিন তলায় রোগীর বেড আর কেবিন। আর বাকি চারটি ফ্লোরে গার্মেন্টস। যেখানে প্রতিনিয়ত উচ্চ গান বাজছে আর মেশিনের শব্দে ভবন কাঁপছে। এরমধ্যেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়েই গার্মেন্টসের ভারী মালামাল উঠানামা করতেও দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের এখানে টোটাল বেড ২৬-২৭টি হবে। সব বেডই মোটামুটি ফিল আপ থাকে। মাঝেমধ্যে খালি থাকে কিছু কিছু।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ নেই। এখানে তিনটি ফ্লোর আমাদের আর বাকিগুলো একটা ফ্যাক্টরিকে ভাড়া দেওয়া। আমরা এখান থেকে চলে যাবো নতুন ভবনে। সেখানে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ সব থাকবে।”

নিবন্ধন না থাকলেও হাসপাতাল দিচ্ছে দক্ষতার সার্টিফিকেট

‘মিরপুর হলি ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনেস্টিক কমপ্লেক্স’ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের নাম ব্যবহার করে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন (এনএসডিএ) কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার লিফলেট বিতরণ করছে। লিফলেটে বলা হয়েছে– সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ৫ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে; প্রশিক্ষণার্থীদের ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি এবং দক্ষতা সাপেক্ষে প্রতিমাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে; দক্ষতা সাপেক্ষে প্রত্যেককে যাতায়াত ভাতা হিসেবে দৈনিক ১০০ টাকা প্রদান করা হবে; ভর্তির ক্ষেত্রে নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; এবং প্রশিক্ষণ শেষে এনএসডিএ কর্তৃক সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

অথচ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন (এনএসডিএ) কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট খুঁজে দেখা গেছে, সেখানে ৩০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও নেই ‘মিরপুর হলি ক্রিসেন্ট হসপিটাল এন্ড ডায়গনেস্টিক কমপ্লেক্স’র নাম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন থাকা এই সংস্থা এক বিজ্ঞপ্তিতে নকল/জাল জাতীয় দক্ষতা সনদ ও ফান্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণা থেকে সাবধান থাকতে সতর্ক করেছে।

তাদের মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নাম ব্যবহার করে নকল/জাল জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদান করছে। অনেক ক্ষেত্রে জাল সনদে কিউআর কোড সংযুক্ত করে ভেরিফিকেশনের ভুয়া সুযোগও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া, ন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এনএইচআরডিএফ) হতে ফান্ড সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

তারা বলছে, জাতীয় দক্ষতা সনদ শুধুমাত্র এনএসডিএ অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং তা কেবল ন্যাশনাল স্কিলস পোর্টাল (www.skillsportal.gov.bd) থেকে ইস্যুকৃত ও যাচাইযোগ্য। অপরদিকে, এনএইচআরডিএফ’র আবেদন থেকে চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের সব কার্যক্রম এনএসডিএ’র মাধ্যমে হয়ে থাকে। এতে কোনও পর্যায়েই কোনও ধরনের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। এনএসডিএ’র নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণার্থী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলে চিকিৎসা

মিরপুর ১ নম্বর বাস স্ট্যান্ডের কাছেই অবস্থিত ডা. আমানত খান হাসপাতাল ও ডায়গনেস্টিক সেন্টার। ৬ তলা ভবনের সব ফ্লোরই হাসপাতাল ও ডায়গনেস্টিক সেন্টারের জন্য ব্যবহার করা হয়। নিচতলায় রিসিপশন, জরুরি বিভাগ ও ফার্মেসি। ওপরের তলাগুলোতে অপারেশন থিয়েটার, ডায়গনেস্টিক সেন্টার, ল্যাব, আর রোগীদের ওয়ার্ড ও কেবিন।

সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, এখানে ডায়গনেস্টিক সেন্টার ও ল্যাব থাকলেও প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা তারা বাইরের আরেকটি ডায়গনেস্টিক সেন্টার থেকে করিয়ে আনে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের সুবিধা নেই।

অনিক হোসেন নামের স্থানীয় একজন অভিযোগ করে বলেন, “এই হাসপাতালে টাকা বেশি নেয়, কিন্তু সার্ভিস ভালো না। নার্সরা ঠিক মতো দেখভাল করে না এবং ভেতরের পরিবেশও পরিষ্কার না।”

মিরপুর ১ নম্বরের লতিফা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের চিত্রও একই রকম। পাঁচতলা ভবনের পুরোটাই ব্যবহৃত হয় হাসপাতালের জন্য। তবে ভেতরে দেখা গেছে অন্ধকার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এই পরিবেশেই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসক এলে পরিষ্কার করা হয় বহির্বিভাগ

তিনটি ফ্লোর নিয়ে মিরপুরের ৬০ ফিট রোডের কামাল সরণিতে করা হয়েছে মেডিহোম হাসপাতাল। নিচতলায় ঢুকতেই দেখা যায় অন্ধকার পরিবেশ। নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের চলাচল। ছোট একটি রুমের সামনে লেখা রয়েছে ‘জরুরি বিভাগ’। দোতালায় রয়েছে হাসপাতালটির ল্যাব ও বহির্বিভাগ যা পুরোটাই অন্ধকার।

হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, চিকিৎসক এলে সেখানে আলো জ্বালিয়ে পরিষ্কার করা হয়। হাসপাতালটির তিনতলায় রয়েছে কেবিন ও ওয়ার্ড। সেখানে গিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী দেখা পাওয়া যায়। তবে এই ফ্লোরের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নেই আলো-বাতাস চলাচলের জায়গা, অন্ধকার গুমোট এক পরিবেশ। রোগীদের থাকার জায়গা যেখানে হওয়ার কথা আলো-বাতাসে পরিপূর্ণ, শীতল ও পরিচ্ছন্ন সেখানে এই হাসপাতাল পুরোই উল্টো; স্যাঁতসেঁতে, অপরিচ্ছন্ন, গুমোট, অন্ধকার, দমবন্ধ পরিবেশ।

হাসপাতালের এক রোগী বলেন, “আমরা সাভারের খাগান থেকে এসেছি। আমাদের পরিচিত এক ওষুধের দোকানদার এখানে আসতে বলেছে। তিনি বলেছিলেন, এখানে খরচ কম। তবে এসে দেখলাম খুব একটা কম না। পরিবেশও তেমন ভালো না, দম বন্ধ হয়ে আসে। ফ্যান চলে তাও প্রচণ্ড গরম।”

হাসপাতালের কর্মীরা জানান, এখানে ওয়ার্ড ও কেবিনসহ মোট ১৩টি বেড আছে। ভবনের তিনটা ফ্লোরে হাসপাতালের কার্যক্রম চলে। চতুর্থ তলার একপাশে অন্য একটি অফিস, আরেক পাশে থাকেন বাড়িওয়ালা।

বিআইএম হসপিটাল

কীভাবে অনিয়ম মনিটরিং করে কর্তৃপক্ষ

হাসপাতালে কোনও দুর্ঘটনা কিংবা ‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলেই কেবল নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এছাড়া তেমন কোনও অভিযান বা তদারকি দেখা যায় না এসব মানহীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে।

হাসপাতালগুলোর এসব অনিয়ম এবং অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে কয়েকবার কল করে পাওয়া যায়নি।

গত মার্চে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে মানহীন ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে পরিচালিত তিন দিনের অভিযানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে। গত ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ রাজধানীতে মোট ১৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মান উন্নয়নে কোনও ধরনের অননুমোদিত ও মানহীন ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না। যদি কোনও ক্লিনিক ন্যূনতম চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই তদারকি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

মানহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না, তেমনটি নয়। কিন্তু প্রথম এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি মনে করি, আমরা যারা পারমিশন দিয়েছি আমাদের হেলথ মিনিস্ট্রি থেকে এই পারমিশনগুলো আমাদের দেওয়া উচিত হয়নি। এগুলো ব্যবসার জন্য এগুলো করেছে, সেবা দিতে নয়। কাজেই ওখানে আমাকে হাত দিতে হবে। আমরা পুনরায় চিন্তা করবো হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর ব্যাপারে। আমাদের অভিযান চলবে।”





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html