শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গ করা বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তরভাবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকায় পাঠানো বার্তা থেকে এ তথ্য জানা যায়।
শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে সম্মাননাগুলো তুলে দেন।
সম্মাননা পাওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্তো মন্ডল।
জাতিসংঘ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা দায়িত্ব পালনকালে একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। সে সময় তারা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) মিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের মরণোত্তর এই পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহাসচিব বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারের বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
চলতি বছর বিশ্বের ৩৩টি দেশের মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ছয় সদস্যও রয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে জাতিসংঘ সদর দফতরের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বৃহৎ সৈন্য ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছেন।