সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা ও পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের কার্যসূচির শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দিনের কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের কমপক্ষে তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
তিনি বলেন, স্পিকারের তিন দিনের এই শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে কি না- তা সংসদকে অবহিত করা উচিত ছিল। এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্র্যাকটিস, পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। এটিকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করা হলে ৭৭ বিধির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হবে।
কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কী কারণে তিন দিনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
জবাবে স্পিকার (ডেপুটি স্পিকার) কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি সংসদকে জানান, বিল দুটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। ফলে সব ধরনের কার্যপ্রণালিগত শর্ত পূরণ হয়েছে।
পরে বিরোধী জোট সদস্যরা সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন।
পরে সাংবাদিকদের পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও প্রতিকার না পাওয়ায় বিরোধী দলের সামনে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
নাজিবুর রহমান নতুন বিল উত্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও জানান সাংবাদিকদের।
নাজিবুর রহমান আরও বলেন, বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে কোনও জবাব পাননি।
বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, তাদের দলের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার পালা এলেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
এর পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির অধীনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
নাজিবুর রহমান বলেন, আমাদের যদি কথা বলতেই না দেওয়া হয়, তাহলে সংসদে বসে থাকার কোনও অর্থ হয় না। তিনটি কারণে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে— প্রথমত, তাদের ন্যায্য বক্তব্যের সময় দেওয়া হচ্ছে না; দ্বিতীয়ত, যথাযথ সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুসরণ করা হচ্ছে না; এবং তৃতীয়ত, পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।