আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নেবে সাড়ে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এর একদিন আগে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাও। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
এবার সারা দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ প্রয়োজন। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যুতের আলোতেই পড়াশোনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরীক্ষা সামনে রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষা উপলক্ষে আলাদা কোনও নির্দেশনা নেই। তবে সারা দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রতি বছর রমজান ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। তুলনামূলক কম তাপমাত্রার সময়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এইচএসসি পরীক্ষা হয় জুলাই মাসের তীব্র গরমে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
লোডশেডিং পরিস্থিতি
গত তিন দিনের তুলনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ২৮ জুন মধ্যরাত থেকে ৩০ জুন বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক লোডশেডিং হয়েছে।
২৮ জুন রাত ১২টায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ মেগাওয়াট। পরদিন ২৯ জুন ভোরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। দিনের বেলায় ঘাটতি কিছুটা কমলেও সন্ধ্যা ও রাতে আবারও ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা যায়। ৩০ জুন সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ১০০ থেকে ৪৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি ছিল। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন গ্রাহকরা।
প্রস্তুতিতে বাধা
দেশের অনেক এলাকায় দিন-রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
যশোরের পরীক্ষার্থী অনিক হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময়ও যদি একই পরিস্থিতি থাকে, তাহলে আমাদের অনেক সমস্যা হবে।’
চট্টগ্রামের বাসিন্দা রাশেদা বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং শুরু হলে মোমবাতির আলোতে পড়তে বসে। কিন্তু গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারা অস্থির হয়ে পড়ে।’
বৃষ্টি হলেও কমছে না গরম
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম কমছে না। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, সাধারণত বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মেঘের অপেক্ষাকৃত নিচু ও পাতলা স্তর থেকে হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানিও খুব বেশি ঠান্ডা থাকে না। এ কারণে বৃষ্টির পরও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত তাপমাত্রা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
তিনি জানান, আগামী ২ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ও বিস্তৃত পরিসরে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।