সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দসংক্রান্ত অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি জানিয়েছে, এসব প্রতিবেদনে গবেষণা অর্থায়নের সামগ্রিক চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গবেষণা খাতের বরাদ্দ নিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে ইউজিসি এক বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে ইউজিসি ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। কাজেই গবেষণা খাতে কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন পদ্ধতি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গবেষকবান্ধব করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা, গবেষণার অগ্রাধিকার ও বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র ক্ষুণ্ন হবে না।
ইউজিসি জানায়, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দের উদ্দেশ্যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের গবেষণা পরিকল্পনা, উপখাতভিত্তিক অর্থের চাহিদা এবং বাজেট প্রাক্কলন দ্রুত কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ২ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি তিনটি বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ইউজিসি। এগুলো হলো—আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; জ্যেষ্ঠ গবেষকদের সঙ্গে উদীয়মান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া; এবং গবেষণা প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজনীয়তা ও সরকারের অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় রাখা।