পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত নির্ধারণ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এখন থেকে অনুদানপ্রাপ্ত কোনও চলচ্চিত্রের ৮০ শতাংশ শুটিং সম্পন্ন না হলে তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে না।
বুধবার (৯ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা-২০২৫ (সংশোধিত) অনুযায়ী ১১ সদস্যের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের অনুমোদন দেবে এই কমিটি। তবে তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের আগে সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের অন্তত ৮০ শতাংশ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করবে কমিটি।
এছাড়া চলচ্চিত্র বাছাই ও তদারক কমিটির সুপারিশকৃত গল্প, চিত্রনাট্য, প্রস্তাব ও আবেদনপত্র নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে অনুদান প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে এই কমিটি। কোনও বছরে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন প্রস্তাব না পাওয়া গেলে ওই বছরের অনুদান স্থগিত রাখার সুপারিশ অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকবে তাদের। পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুদান বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনুমোদিত চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ও পরিচালকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেবে কমিটি।
১১ সদস্যের এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক বিশেষ সহকারী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সরকার মনোনীত বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, অভিনেত্রী হুমায়রা ইসলাম মুক্তিসহ সংশ্লিষ্টরা। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (চলচ্চিত্র)।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।