ঢাকাMonday , 13 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামে ১৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, দুই উপজেলা পানির নিচে


July 13, 2026 2:45 am
Link Copied!


চট্টগ্রামে ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নে এখনও পানিবন্দি ৬ লাখের বেশি মানুষ। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর, ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। আহত হয়েছেন ১২ জন। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা শনিবার দিনভর কিছুটা কমলেও শনিবার রাত থেকে রবিবার দিনভর বৃষ্টির কারণে বন্যার পানি আবার বেড়েছে। বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। এই দুই উপজেলার পাঁচ লাখ লোক এখনও পানিবন্দি বলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। বন্যায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গত লোকজন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় ১৬ টি উপজেলার মধ্যে ১৭৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ২২ হাজার ৬০০ জন অবস্থান করছেন। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর, ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৪৫টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৫৫৭ টন চাল এবং ৩০ লাখ ৪০ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৫৬৫ টন চাল, নগদ ৮৮ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার ৩৫০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা রয়েছে।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাঁশখালীর সব এলাকা এখনও পানির নিচে। নৌকা ছাড়া বেশিরভাগ এলাকায় যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শনিবার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে বৃষ্টিতে আবার পানি বেড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার ছনুয়া, খানখানাবাদ, বাহারছরা, সরলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকার মানুষ পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে। বন্যার পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে।

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, ঢেমশা, খাগরিয়া, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনও উপায় নেই। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিতে শুরু করেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সাতকানিয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে। সার্বিক পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে ডলু নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি।

এদিকে চট্টগ্রামসহ বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। বন্যাকবলিত পাঁচটি জেলা হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৬২ হাজার, কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, রাঙামাটি জেলায় ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ৩৪ হাজার ৪১৭ জন এবং বান্দরবান জেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন।

জেলাভিত্তিক হতাহতের মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয় জন, রাঙামাটিতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকা। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কর্ণফুলী, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও পটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা। জেলায় ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলায় বন্যায় ২৮ জন নিহত, ২৪ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ৪০৫ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৩০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২৪ মেট্রিক টন চাল, ৩৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ছয় জন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটির ৯টি উপজেলায় তিন জন নিহত হয়েছেন। সেখানে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে ৯টি উপজেলায় একজন আহত হয়েছেন। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩২ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল, ৪৮৭ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং পুরো ৪০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

/এএম/এফআর/





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html