ঢাকাSaturday , 18 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইয়োন ফসের গল্প ‘ভাইম হোটেল’

UttorbongoBD
July 18, 2026 9:40 am
Link Copied!


আমি ভাইম জেনারেল স্টোরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হাতে একটা মাছ ধরার সেট, আর ভাবছিলাম, পৃথিবীতে কী ভেবে আমি মাছ ধরার ছিপ কিনলাম, না, মাছ ধরার সরঞ্জাম কেনার কথা আমার মাথায় একবারও আসেনি, কারণ আমি ওটা দিয়ে করবই বা কী, সত্যি বলতে, ছোটোবেলায় মাছ ধরতে আমার ভালো লাগত, কিন্তু, হ্যাঁ, সেটা তো অনেক আগের কথা, তবু কে জানে, ঘাটের ধারে দাঁড়িয়ে ছিপ ফেলে আবার টেনে তুলতে হয়তো মজাই লাগবে, ভাবলাম, আর যাই হোক, দোকানদারটা ছিল ভীষণ ভালো বিক্রেতা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, একবার তার দোকানের দরজা দিয়ে ঢুকলে তার হাত থেকে আর রেহাই নেই, হ্যাঁ, ভাবলাম, এখন তাহলে কী করা যায়, আমি ভাবছিলাম রেস্তোরাঁয় যাব, রাতের খাবার খেতে, হ্যাঁ, কারণ কয়েক দিন ধরে ভালো গরম খাবার খাওয়া হয়নি, তাই নিশ্চয়ই ভালো লাগবে, ভাবলাম, আর তাছাড়া, ওই রেস্তোরাঁটা কেমন, সেটা দেখার কৌতূহলও আমার কম ছিল না, কিন্তু এই মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে ভেতরে কি ঢুকতে দেবে, এখনই ওটা নিয়ে রুমে যেতে চাচ্ছি না, কে জানে, আবার যদি হোটেল মালিকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়, হয়তো ব্রিটার অতিরিক্ত কৌতূহলের কারণে সে আবার আমার ঘরে ঢুকে আমার সুটকেস ঘাঁটাঘাঁটি করেছে, হ্যাঁ, সম্ভবত করেছে, নিশ্চিতভাবেই, যদিও আমার লুকানোর কিছুই ছিল না, সে চাইলে ভেতরের প্রতিটি জিনিস দেখতে পারে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না, তবু ব্যাপারটা একটু হাস্যকর ছিল, ব্রিটা নামের মহিলাটা পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, মনে হলো, এর মধ্যেই খেয়াল করলাম, আমি ঘাটের দিকে হাঁটতে শুরু করেছি, এখনই মাছ ধরতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু আগে হোক পরে হোক, আমার এক-দুবার ছিপ ফেলে দেখতেই হবে, ভাবলাম, তবে আপাতত আমি শুধু ঘাটের দিকে যেতে চেয়েছিলাম, চারপাশটা একটু দেখার জন্য, তারপর রেস্তোরাঁয় ঢুকব, ভাইম রেস্তোরাঁয়, হ্যাঁ, ভাবলাম, তারপর থামলাম, দাঁড়িয়ে ঘাটে বাঁধা নৌকাটার দিকে তাকালাম, নৌকাটা খুব সুন্দর, ওই ধরনের অন্যান্য নৌকার তুলনায় বেশ বড়ো, ছাদটা প্রায় পুরো নৌকাটাকেই ঢেকে রেখেছে, আর সেটা সম্ভবত ভালোই, কারণ দেশের এই অংশে বৃষ্টি খুব বেশি হয়, নৌকাটার সুন্দর করে বার্নিশ করা কাঠ এত চকচকে যেন ঝিলমিল করছিল, হ্যাঁ, নৌকাটা সত্যিই দেখার মতো ছিল, আর এর নাম, এলিন, নামটাও খুব সুন্দর, কিন্তু এখন সত্যিই কিছু খাওয়ার সময় হয়েছে, ভাবলাম, তারপর পার্কিং লট পেরিয়ে ভাইম রেস্তোরাঁ লেখা দরজার দিকে গেলাম, দরজা খুললাম, আর দেখলাম ভেতরটা উজ্জ্বল আর আরামদায়ক, একেবারে কোণের টেবিলে একজন লোক বসে ছিল, আমারই বয়সি হবে, তার সামনে একটা বিয়ারের বোতল আর গ্লাস রাখা, সে যেন শূন্যে তাকিয়ে বসে ছিল, কেউ যে রেস্তোরাঁয় ঢুকেছে, সেটা তার খেয়ালই হলো না, আগের মতোই বসে শূন্যে তাকিয়ে রইল, রেস্তোরাঁয় খুব বেশি টেবিল ছিল না, কিন্তু সবগুলোই সুন্দর পুরোনো কাঠের টেবিল, আমার ঘরে যে ধরনের কাঠের চেয়ার ছিল, সেরকম চেয়ার প্রতিটি টেবিলের চারপাশে রাখা, প্রতি টেবিলে চারটি করে কাঠের চেয়ার, বামদিকে একটা কাউন্টার, তার ওপর ক্যাশ রেজিস্টার, কাউন্টারের পেছনের দেয়ালে ঝোলানো একপদের কালো বোর্ডে মেনু লেখা, খাবারের জন্য তিনটি পদ ছিল, মিটবল, ফিশকেক আর স্ট্যু, তার নিচে লেখা ছিল, ডেজার্ট হিসেবে ফলের ককটেল আর আইসক্রিম, এটাই সব, আর কাউন্টারের ওপর সত্যিই একটা ভেড়ার গলার ঘণ্টা রাখা ছিল, ঠিক যেমনটা ব্রিটা বলেছিল, আমি মাছ ধরার সেটটা দরজার সবচেয়ে কাছের টেবিলের পেছনের দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখলাম, অর্থাৎ, বিয়ার খেতে খেতে শূন্যে তাকিয়ে থাকা লোকটার থেকে সবচেয়ে দূরের জায়গায়, তারপর কাউন্টারের কাছে গিয়ে ভেড়ার ঘণ্টাটা তুলে ঝাঁকালাম, আর বাপরে কী জোরে শব্দ, তাই তাড়াতাড়ি আবার কাউন্টারে নামিয়ে রাখলাম, লোকটা তখনও গ্লাস হাতে বসে শূন্যে তাকিয়ে আছে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি তখন ভাবলাম আর আন্দাজ করলাম যে বোধহয় আমাকে শুধু কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে, সব মিলিয়ে ব্যাপারটা সত্যিই একটু অদ্ভুত, ভাবলাম, ভাইম হোটেল, ভাইম রেস্তোরাঁ, ভাইম জেনারেল স্টোর, হ্যাঁ, সবকিছুই যেন কেমন অদ্ভুত, আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না, এটা আমার ভালো লাগছে কি না, না, পুরো ব্যাপারটার মধ্যে যেন অবাস্তব কিছু একটা আছে, আর আমার গাড়ি, দোকান থেকে বেরোনোর সময় দেখেছিলাম তো, নাকি, না, হয়তো দেখিনি, মনে হলো দরজার বাইরে গিয়ে দেখে আসা উচিত, আমি দরজার কাছে গেলাম, খুলে বাইরে বেরোলাম, হ্যাঁ, গাড়িটা ঠিক যেখানে রেখে গিয়েছিলাম, সেখানেই আছে, যতদূর দেখতে পাচ্ছি, সব ঠিকঠাক, তারপর গাড়ির কাছে গিয়ে নিশ্চিত হলাম, সব দরজা লক করা আছে কি না, ছিল, প্রতিটাই, তাই এবার সম্ভবত আবার রেস্তোরাঁয় ফিরে যাওয়া উচিত, কারণ আমাকে খাবার পরিবেশন করার মতো কারো শিগ্‌গির আসতেই হবে, ভাবলাম, আর আবার রেস্তোরাঁয় ঢুকলাম, আর দরজা পেরিয়েই দেখি ব্রিটা দাঁড়িয়ে আছে, আর সে আমার মাছ ধরার সেটটা হাতে তুলে ধরে রেখেছে, সে আমার দিকে তাকাল

হ্যালো, সে বলল

তো, আপনি রেস্তোরাঁটা দেখতে এসেছেন, সে বলল

হ্যাঁ, শুভ সন্ধ্যা, আমি বললাম

হ্যাঁ, সন্ধ্যা হতে আর বেশি দেরি নেই, সে বলল

আমি দেখলাম, ব্রিটা আমার মাছ ধরার সেট হাতে নিয়ে কাউন্টারের পেছনে চলে যাচ্ছে, দ্রুত কোণের টেবিলে বসা অন্য অতিথির দিকে তাকালাম, দেখলাম, তার টেবিলে এখন তিনটি বিয়ারের বোতল, মনে হলো, ব্রিটা আমার মাছ ধরার সেটটা নিয়ে যাচ্ছে কেন, সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল যে নিশ্চয়ই আমি কিছু খেতে চাই, তারপর মাছ ধরার সেটটা ক্যাশ রেজিস্টারের পেছনের দেয়ালে, মেনু বোর্ডের নিচে ঠেস দিয়ে রাখল

কিন্তু আপনি, আমি বললাম

হ্যাঁ, ওটা, আমি বললাম

হ্যাঁ, সে বলল

ওই মাছ ধরার সরঞ্জামটা, হ্যাঁ, আমি তো সবে কিনেছি, আমি বললাম

কিন্তু আপনি যখন ঢুকেছিলেন, সেটটা তখনই এখানে ছিল, ব্রিটা বলল

হ্যাঁ, আমি বললাম

আমি তো মাত্র এক মিনিটের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম, আমি বললাম

কিন্তু পুরুষদের টয়লেট তো ওদিকে, ব্রিটা বলল

সে রেস্তোরাঁর পেছনের দিকে ইশারা করল

আমি সেটা বলতে চাইনি, আমি বললাম

তারপর দুজনেই চুপ করে রইলাম। আর ব্রিটার মধ্যে আমার মাছ ধরার সেটটা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে বলে মনে হলো না।

কিন্তু ওটা তো আমার মাছ ধরার সেট, আমি বললাম

এটা আপনার? ব্রিটা বলল

হ্যাঁ

কিন্তু আপনি, আচ্ছা, হ্যাঁ, সে বলল

আমি অনুভব করলাম, একটু একটু করে বিরক্ত হয়ে উঠছি

আমি এখানে ঢুকেছিলাম, আর ওটা ওখানে রেখেছিলাম, আমি বললাম

আমি আঙুল তুলে দেখালাম, কোথায় সেটটা রাখা ছিল

আপনি ঢুকেই আবার বাইরে চলে গিয়েছিলেন, ব্রিটা বলল

না, আমি অনেকক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কেউ আসেনি, আমি বললাম

আপনি এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, সে বলল

কারণ ঘণ্টার শব্দ শোনার পরই আমি চলে এসেছিলাম, তারপর অন্য অতিথি আরেকটা বিয়ার অর্ডার করল, সে বলল

আমি মনে মনে ভাবলাম, আমি সত্যিই অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু ব্রিটার সঙ্গে তর্ক করে কোনো লাভ নেই, অন্তত এটুকু বুঝতে পারছিলাম

তাহলে, আপনিই ডাকছিলেন, সে বলল

হ্যাঁ, আমি ঘণ্টা বাজিয়েছিলাম, আমি বললাম

আপনি কী খাবেন, স্যার, সে বলল

আমি মেনুর দিকে তাকালাম

হয়তো মিটবল, আমি বললাম

ব্রিটা জানালো পছন্দটা খারাপ নয়, মিটবলটা সে নিজেই বানিয়েছে, বহু পুরোনো এক রেসিপি মেনে, রেসিপিটা সে পেয়েছে তার মায়ের কাছ থেকে, তার মা পেয়েছিলেন নিজের মায়ের কাছ থেকে, আর কে জানে, তার নানিও হয়তো পেয়েছিলেন তার নিজের মায়ের কাছ থেকে

তাহলে এক প্লেট মিটবল, সে বলল

আপনি যেকোনো টেবিলে বসতে পারেন, যেখানে খুশি, সে বলল

আমি ভাবলাম, সত্যিই মনে হচ্ছে না যে সে আমার মাছ ধরার সেটটা ফিরিয়ে দেবে, তবে আমি ওটা ফেরত পাব, একটু অপেক্ষা করতে হবে শুধু

কোথায় বসবেন? ব্রিটা বলল

আমি ঘুরে সেই চেয়ারটার দিকে ইশারা করলাম, যার পাশে মাছ ধরার সেটটা আগে রাখা ছিল আর ব্রিটা বলল, সেটা ঠিক আছে

কিন্তু কিছু পান করবেন না? সে বলল

আচ্ছা, এক গ্লাস বিয়ার দিতে পারেন, আমি বললাম

 

আসলে আমি শুধু পানি খেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যেহেতু অন্য লোকটাও বিয়ার খাচ্ছে, হ্যাঁ, তাহলে আমিও এক গ্লাস খেতে পারি, ভাবলাম

তাহলে এক বোতল বিয়ার, ব্রিটা বলল

কারণ আমাদের শুধু বোতলই আছে, সে বলল

আমি মাথা নাড়লাম, তারপর সবচেয়ে কাছের টেবিলে গিয়ে বসলাম, কাঁধের ব্যাগটা মেঝেতে রাখলাম,

দেখলাম, ব্রিটা একটা বিয়ারের বোতল খুলল, একটা গ্লাস নিল, তারপর আমার টেবিলের কাছে এসে গ্লাসটা কাত করে বিয়ার ঢেলে দিল, গ্লাস আর বোতল দুটোই আমার সামনে রেখে দিল

এই নিন, সে বলল

আশা করি ভালো লাগবে, সে বলল

ধন্যবাদ, আমি বললাম

এটা খুব ভালো বিয়ার, সে বলল

এরপরই সে আবার কাউন্টারের পেছনে চলে গেল,

তাহলে সত্যিই সে আমার মাছ ধরার সেটটা ফেরত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না, ভাবলাম, জিনিসটা খুব দামিও ছিল না, কিন্তু তবুও ব্যাপারটা ভীষণ বিরক্তিকর, আর প্রয়োজন হলে আমি তাকে বলতে পারি যে দোকানদার সাক্ষ্য দেবে, মাছ ধরার সেটটা আমি তার কাছ থেকেই কিনেছি, আমি বিয়ারে চুমুক দিলাম, আসলে বিয়ারের স্বাদ কখনোই বিশেষ পছন্দ করতাম না, কিন্তু এটা খারাপ নয়, ভাবলাম, গ্লাস নামিয়ে কিছুক্ষণ শূন্যে তাকিয়ে রইলাম, এই মাছ ধরার সেট নিয়ে কী ঝামেলা, ভাবলাম, কিন্তু ধুর, ভাবলাম, কে পরোয়া করে, আমি রেস্তোরাঁর পেছনে বসা লোকটার দিকে তাকালাম, দেখলাম, সে তিনটা খালি বিয়ারের বোতল টেবিলের কিনারায় সরিয়ে রেখেছে, সামনে একটা অর্ধেক ভর্তি আর একটা পূর্ণ বোতল আছে, সে আমার দিকে তাকাল

আপনার মাছ ধরার জিনিসটার ওপর নজর রাখা উচিত ছিল, সে বলল

আমি ভাবিনি, সে আমার সঙ্গে কথা বলবে, এমনকি আমি আছি, সেটাও খেয়াল করবে, তাই এখন সম্ভবত আমাকে কিছু একটা উত্তর দিতেই হবে

আপনার তাই মনে হচ্ছে, আমি বললাম

হ্যাঁ, সে বলল

একবার সে ওটা নিয়ে নিলে, আর কখনো ফেরত পাবেন না, সে বলল

আপনি কি আমাকে ওটা নিয়ে ঢুকতে দেখেছিলেন, আমি বললাম

হ্যাঁ, সে বলল

তাহলে আপনি তাকে বলতে পারেন, ওটা আমার, আমি বললাম

তাতে কোনো লাভ হবে না, সে বলল

এবারও মনে হলো কিছু একটা বলা উচিত, কিন্তু কী বলব, বুঝলাম না

 এরকম ঘটনা আমি আগেও দেখেছি, সে বলল

ব্রিটা যে কতটা ধূর্ত, সেটা অবিশ্বাস্য, সে বলল

আর মাছ ধরার সেটটা আপনাকে সম্ভবত দোকানদারই বিক্রি করেছে, সে বলল

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন, আমি বললাম

ওই মাছ ধরার সেট বহুবার বিক্রি হয়েছে, সে বলল

এবার আমি বুঝতেই পারলাম না, সে কী বলতে চাইছে,

আমি দেখলাম, সে দৃঢ় পায়ে হাঁটতে হাঁটতে কাউন্টারের পেছনে গেল, তারপর মাছ ধরার সেটটা তুলে নিয়ে আবার নিজের টেবিলে ফিরে এলো, এরপর পুরুষ লেখা টয়লেটের দরজার দিকে গেল এবং ভেতরে ঢুকল, মুহূর্ত পরই বেরিয়ে এলো, তবে মাছ ধরার সেটটা আর তার সঙ্গে নেই

ওটা রাখার জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, সে বলল

কারণ ব্রিটা পুরুষদের টয়লেটে ঢোকে না, অন্তত কেউ দেখছে, এমন অবস্থায় নয়, সে বলল

তারপর সে চুপ করল, আমি ভাবলাম, এসবের কিছুই প্রায় বুঝতে পারছি না, তবে অন্তত এটুকু বুঝলাম যে কোনো এক কারণে মাছ ধরার সেটটা এখন পুরুষদের টয়লেটে রাখা হয়েছে

এভাবেই হয়, সে বলল

আর আমার দিকে তাকাল

এভাবেই হয়, আবার বলল

সে আরও বলল, নতুন অতিথিরা হোটেলে এসে জেনারেল স্টোরে যায়, তারপর দোকানদার তাদের ওই মাছ ধরার সেট কিনতে রাজি করায়, অতিথি সেটটা নিয়ে হোটেলে ফিরে যায়, সাধারণত নিজের ঘরে রেখে দেয়, তারপর অতিথি বাইরে গেলে ব্রিটা সুযোগ বুঝে ঘরের তালা খুলে ঢুকে মাছ ধরার সেটটা নিয়ে যায়

সব সময় এভাবেই হয়, সে বলল

তারপর অতিথি যখন হোটেল ছাড়ে, ব্রিটা সেটটা আবার দোকানদারের কাছে ফিরিয়ে দেয়, আর দোকানদার সেটা আবার পরের অতিথির কাছে বিক্রি করে, যে হোটেলে এসে দোকানে ঢোকে, আমি ভাবলাম, সে এসব জানে কীভাবে, সম্ভবত মাতালের প্রলাপ, কিন্তু কিছু বললাম না

ঈশ্বরের কসম, সত্যি কথা বলছি, সে বলল

কিন্তু আজ, হ্যাঁ, আজ সে সহজেই সুযোগ পেয়ে গেছে, আপনি বাইরে বেরোতে সেটটা এখানেই পড়ে ছিল, সে বলল

সে মাথা নেড়ে আমার পেছনের দেয়ালের দিকে ইঙ্গিত করল, বলল, ঠিক একই ঘটনা সে আগেও দেখেছে, কোনো অতিথির জরুরি দরকার পড়ে টেবিল ছেড়ে গেছে, আর সেই সুযোগে ব্রিটা খাবার বা অন্য কিছু নিয়ে এসে মাছ ধরার সেটটা সরিয়ে নিয়েছে, সাধারণত সে সঙ্গে সঙ্গে রেস্তোরাঁর বাইরে নিয়ে যায়, কাউন্টারের পেছনে ঠেস দিয়ে রাখে না, অন্তত সে আগে কখনো তা দেখেনি, তবে সম্ভবত আজ তাকে তার বিয়ার পরিবেশন করতে হচ্ছিল বলেই এমন করেছে

ধূর্ত, তাই না, সে বলল

আর আমি কীভাবে জানি যে এটা একই সেট, সে বলল

আচ্ছা, হ্যাঁ, সে বলল

প্রথমবার যখন আমি এটা দেখেছিলাম, অতিথি কেবল পুরুষদের টয়লেটে গিয়েছিল, পরদিন আমি জেনারেল স্টোরে গিয়ে মাছ ধরার সেটের কার্ডবোর্ড প্যাকেটটায় ছোট্ট একটা খাঁজ কেটে দিয়েছিলাম, তারপরের দিন সেটটা উধাও, তার পরের দিন আবার ফিরে এলো, সে বলল

দোকানদার ওটা বিক্রি করে, কোনোভাবে ব্রিটা সেটা হাতিয়ে নেয়, তারপর সে আবার দোকানদারের কাছে ফিরিয়ে দেয়, এরপর তারা সম্ভবত লাভটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়, সে বলল

আমি ভাবলাম, এখন সে নিশ্চয়ই বেশ মাতাল, কারণ এসব সত্যি হতে পারে না, এখন সে শুধু গল্প বানাচ্ছে

হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য, তাই না, সে বলল

ব্যাপারটা এতটাই পাগলামি যে নিজের চোখে দেখার পরও আমি নিজেই ঠিক বিশ্বাস করতে পারি না, বলতে গেলে, সে বলল

বেশিরভাগ সময় আমার মনে হয়, তারা মজা করার জন্যই এসব করে, সে বলল

যাই হোক, সবাই আমাকে নাবিক বলে ডাকে, সে বলল

তারপর একটু থামল

কিন্তু, সে বলল

দোকান বা হোটেল, কোনোটাই খুব বেশি টাকা আয় করে না, তাই যেখান থেকেই হোক, একটু বাড়তি আয়ের চেষ্টা করতে হয়, সে বলল

আর দোকান, রেস্তোরাঁ আর হোটেল, সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে তো আরও খারাপ হতো, সে বলল

তাই একদিক দিয়ে দেখলে, হয়তো ঠিকই আছে, সে বলল

ঠিক তখনই দেখলাম ব্রিটা কাউন্টারের পেছন থেকে বেরিয়ে আসছে, তার হাতে এক প্লেট মিটবল, সঙ্গে ছুরি, কাঁটা আর একটি ন্যাপকিন, সে তাড়াতাড়ি আমার টেবিলের কাছে এসে সবকিছু নামিয়ে রাখল

এই নিন, সে বলল

আশা করি ভালো লাগবে, সে বলল

ধন্যবাদ, আমি বললাম

আর তখনই শুনতে পেলাম, অন্য সেই অতিথি, যাকে বোধহয় নাবিক বলে ডাকা হয়, সে বলছে যে তাকে আরও দুটো বিয়ারের বোতল এনে দেওয়া যায় কি না, আর ব্রিটা বলল, অবশ্যই পারে, আর আমি দেখলাম, আমার সামনে বেশ উদার পরিমাণের খাবার এসে পড়েছে, চারটে বড়ো মিটবল, চারটে আলু, তার ওপর ঘন বাদামি গ্রেভি, বেশ বড়ো এক ভাগ মটরশুঁটির মাখা, আর পাশে উজ্জ্বল লাল রঙের লিঙ্গনবেরি জ্যামের বড়ো এক চামচ, দেখতে খুব ভালো লাগছিল, তারপর শুনতে পেলাম, ব্রিটা বলছে, সবকিছুই ঘরে তৈরি, শুধু মিটবল নয়, লিঙ্গনবেরির জ্যাম আর মটরশুঁটিও, আর অবশ্যই গ্রেভিও, আর আলুগুলো সে সবচেয়ে কাছের খামারের কৃষকের কাছ থেকে কিনেছে, আর সেগুলোর খোসাও সে নিজে ছাড়িয়েছে, সে বলল, আর আমি দেখলাম, সে ইতোমধ্যে তিন বোতল বিয়ার নিয়ে অন্য অতিথির দিকে, অর্থাৎ নাবিকের দিকে যাচ্ছে, হ্যাঁ, তারপর আবার তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল, আর আমি খেতে শুরু করলাম, সবকিছুর স্বাদই অসাধারণ, সত্যি কথা বলতে কী, এর চেয়ে ভালো মিটবল আমি কখনো খেয়েছি বলে মনে পড়ে না, ভাবলাম, সবকিছুই ভালো, গ্রেভি, মটরশুঁটির মাখা, লিঙ্গনবেরির জ্যাম, অন্তত রান্না করতে ব্রিটা সত্যিই জানে, এটুকু তাকে স্বীকার করতেই হবে, ভাবলাম, আর আমি শুনতে পেলাম, অন্য অতিথি জিজ্ঞেস করছে, আমি কি খেয়াল করেছি যে রাতের খাবারের পাশে কোথাও কোনো দাম লেখা নেই, আর তার একটা কারণ আছে, সে অনেক বেশি দাম নেয়, আর যদি খদ্দের আগে থেকেই জানত যে খাবার আর বিয়ারের জন্য তাকে কত টাকা দিতে হবে, তাহলে সম্ভবত সে এগুলো কিনত না, সে বলল, তবে এটা নির্ভর করে কে এসেছে তার ওপর, নিজের লোকদের সে দেখাশোনা করে, তার নিজের সঙ্গে ব্রিটার একটা চুক্তি আছে, বিয়ারের দাম যুক্তিসংগত, হ্যাঁ, ভাইম জেনারেল স্টোরের চেয়ে এখানে তাকে খুব বেশি বাড়তি দিতে হয় না, সে বলল, আর সেই কারণেই সে এখানে বসে বিয়ার খাওয়ার সামর্থ্য রাখে, সে বলল, আর আমি ভাবলাম, কথাটা সত্যি, হোটেলে এক রাত থাকার খরচ কত, ব্রিটা তা বলেনি, রাতের খাবারের দাম কত, তাও বলেনি, এমনকি বিয়ারের দামও বলেনি, আর কোথাও আমি দাম লেখা দেখিনি, তাহলে এখন ব্রিটা চাইলে আমার কাছ থেকে যত খুশি ততই নিতে পারে, ভাবলাম, তবে দাম নিশ্চয়ই এতটা পাগলাটে হবে না, ভাবলাম, আর সবশেষে সে তো বলেছিল, দীর্ঘদিন থাকা অতিথিদের জন্য সে ভালো ছাড় দেয়, ভাবলাম

অন্যদিকে, অতিথিরা যদি কিছুদিন থাকে আর নিয়মিত এখানে এসে খায়, তাহলে ব্যাপারটা তেমন ব্যয়বহুলও হয় না, সে বলল

এটুকু তার ব্যাপারে স্বীকার করতেই হবে, সে বলল

আর আমি খেতে থাকলাম, কারণ তখন পর্যন্ত আমি সত্যিই খুব ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর খাবার সত্যিই অসাধারণ, ভাবলাম, মাঝেমধ্যে একেক লোকমার ফাঁকে আমি বিয়ারে চুমুক দিচ্ছিলাম, আর খাবারের সঙ্গে বিয়ারের স্বাদও বেশ ভালো লাগছিল, ভাবলাম,

তারপর শুনতে পেলাম, নাবিক বলছে যে আমার মধ্যে যেন একটা পরিচিত ব্যাপার আছে, নিশ্চয়ই আমাদের আগে কোথাও দেখা হয়েছে, হয়তো আমি আগে ভাইমে এসেছিলাম, কারণ সে নিশ্চিত যে আমাকে আগে দেখেছে, আর আমি বললাম, আমার তা মনে হয় না, অন্তত যতদূর মনে পড়ে, আমি আগে কখনো ভাইমে আসিনি,

আর সে বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমার মধ্যে একটা পরিচিত ভাব আছে, তবে এমনও হতে পারে, সে এমন কারও কথা ভাবছে, যে দেখতে আমার মতো, হয়তো এমন কেউ যার সঙ্গে সে কোনো এক সময় একটা নৌকায় ছিল, কিংবা এরকম কিছু, সে বলল,

আর ঠিক তখনই দেখলাম, ব্রিটা রেস্তোরাঁয় ঢুকল, সে মাছ ধরার সেটটা খুঁজতে লাগল, তারপর আমাকে কড়া চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি কি মাছ ধরার সেটটা সরিয়েছি, হ্যাঁ, সে সরিয়েছি কথাটাই বলল, আর আমি বললাম, আমি কোনো মাছ ধরার সেটে হাত দিইনি, যদিও ওটা আমারই সেট, আমি সবে ভাইম জেনারেল স্টোর থেকে সেটা কিনেছি, বললাম, আর ব্রিটা বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, তারপর সে দেয়ালের পাশে বসা লোকটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, সে কি কাউকে মাছ ধরার সেটটা নিয়ে যেতে দেখেছে

না, সে বলল

আমি শুধু এটুকুই দেখেছি যে আপনি যাকে একটু আগে খাবার দিলেন, সে যখন রেস্তোরাঁয় ঢুকেছিল তখন তার সঙ্গে একটা মাছ ধরার সেট ছিল, সে বলল

আর ব্রিটা মাথা নাড়ল, যেন জীবনে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু সে কখনো শোনেনি, আর আমি ভাবলাম, এর চেয়ে বড়ো অশোভনতা, কিংবা যাই বলা হোক না কেন, এর চেয়ে অযৌক্তিক আচরণ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি, ভাবলাম,তারপর ব্রিটা আমার দিকে হেঁটে এলো

খাবার ভালো লেগেছে, সে বলল

হ্যাঁ, খুব, আমি বললাম

এর চেয়ে ভালো মিটবল কখনো খেয়েছেন? সে বলল

না, আমিও ঠিক সেটাই ভাবছিলাম, মনে হয় না খেয়েছি, আমি বললাম

আর আমি ভাবলাম, সম্ভবত তাকে বলার জন্য এটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মতো কথা, আর ভেবে দেখলে, এগুলো সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো মিটবলগুলোর মধ্যে পড়ে, এটা সত্যি, যদিও হয়তো তার একটা কারণ এই যে আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলাম

এগুলো আমার খাওয়া সেরা মিটবলগুলোর মধ্যে পড়ে, আমি বললাম

হয়তো একেবারে সেরাটাই, সে বলল

হ্যাঁ, হয়তো, আমি বললাম

আর আমি ভাবলাম, এখন যদি নাবিক মাছ ধরার সেটটা নিয়ে গিয়ে পুরুষদের টয়লেটে না রাখত, হ্যাঁ, তাহলে অবশ্যই আমাকে তাকে আবার বলতে হতো যে ওটা আমার মাছ ধরার সেট, আর আমি সেটা ফেরত চাই, আর হয়তো আমি এখনো তাকে সেটা বলতে পারি, কিংবা বলা উচিত

ওটা আমার মাছ ধরার সেট ছিল, আমি বললাম

হ্যাঁ, ব্রিটা বলল

হ্যাঁ, ওটা আমার, তাই এখন আমি সেটা ফেরত চাই, আমি বললাম

আপনার, তাই নাকি, সে বলল

আমি সবে ভাইম জেনারেল স্টোর থেকে সেটা কিনেছি, আমি বললাম

তাই নাকি, সে বলল

হ্যাঁ, তাই, আমি বললাম

আর আমি দেখলাম, সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ছে

দোকানদার সেটা নিশ্চিত করতে পারবেন, আমি বললাম

দোকানদার, সে বলল

আর সে যেন প্রায় গলা সপ্তমে তুলে চিৎকার করেই কথাটা বলল

হ্যাঁ, আমি বললাম

দোকানদার, দোকানদার, সে বলল

তাহলে আমাকে বলুন তো, মাছ ধরার সেটটা কোথায়? সে বলল

আর আমি দেখলাম, সে সামনের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল, আর শুনতে পেলাম, নাবিক বলল,

অবশ্যই, কেন নয়, সে বলল

না, আমারও তাই মনে হয়, আমি বললাম

কিন্তু অন্তত মিটবলগুলো ভালো ছিল, তাই না? সে বলল

খুব ভালো, আমি বললাম

হ্যাঁ, সে দারুণ মিটবল বানায়, সে বলল

আর সেসব কথা বলতে গেলে, তার ফিশকেকও ভালো, আর স্ট্যুও, হ্যাঁ, সে বলল

আর সে চুপ করে গেল, আর আমি শান্তভাবে খেতে থাকলাম, আর ভাবলাম, আহা, পেটে কিছু খাবার পড়েছে, কী ভালোই না লাগছে, তারপর ভাবলাম, আর কীই বা ভাবতে পারি, কিছু খেতে পেরেছি, এই একটাই ভাবনাই যেন মাথায় আসছিল, আর নাবিক বলল, ব্রিটা, হ্যাঁ, ওর নাম তো ব্রিটাই, সে বলল, যদিও সম্ভবত সে ইতোমধ্যেই আমাকে সেটা বলেছে, ব্রিটা যেভাবে সবকিছুর পরেও হোটেল আর রেস্তোরাঁ দুটোই চালায়, আর তাও একা হাতে, হ্যাঁ, গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে স্কুলপড়ুয়া একটা মেয়ে এসে তাকে সাহায্য করে, কিন্তু সেটা তো আর সাধারণত হয় না, নাবিক নিজেও এটা বুঝতে পারে না, সে বলল, আর রান্না করতে নাবিক সত্যিই পারে, হ্যাঁ, সে বলল, কিন্তু তার কাছে যেহেতু পৃথিবীর সব টাকা নেই, তাই তাকে মূলত বিয়ার আর খাবারের মধ্যে একটা বেছে নিতে হয়, আর যেহেতু নিজের প্রয়োজনমতো খাবার সে নিজেই সহজে রান্না করতে পারে, তাই সে বরং তার টাকাটা বিয়ারের পেছনেই খরচ করে, সে বলল, আর আমি আরেক চুমুক বিয়ার খেলাম, আমি কখনোই সত্যিকারের বিয়ারখোর হব না, ভাবলাম, বিয়ারের স্বাদ মোটামুটি, এর বেশি কিছু নয়, আর এটা যে নেশা ধরায়, না, সেটাও আমার কখনো খুব পছন্দ হয়নি, ভাবলাম, আমার শুধু মাথাটা গরম আর ঝাপসা ঝাপসা লাগে, ভাবলাম, আর সেই অনুভূতিটা আমার খুব একটা ভালো লাগে না, তাই আমি খুব একটা পান করি না, হ্যাঁ, প্রায় করি না বললেই চলে, তবে সেটা নাবিককে বলার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সে যে বিয়ার খুব ভালোবাসে, তা স্পষ্টই বোঝা যায়

ঘাটের ধারে বাঁধা নৌকাটা কি আপনার নজরে পড়েছিল, সে বলল

হ্যাঁ, আমি বললাম

ওটা আমার নৌকা, সে বলল

তারপর সে বলল, সে একজন পুরোনো নাবিক, যদিও খুব বেশি বুড়ো নয় আসলে, কিন্তু অবসর নেওয়ার পর খুব বেশি সময় যায়নি, এর মধ্যেই সে ঘাটের ধারে বাঁধা সেই নৌকাটা কিনে নিয়েছে, হ্যাঁ, প্রায় পানির দামে, বলা যায় বিনা মূল্যে, সে বলল

আর তার গলায় একটা গর্বের সুর ছিল

হ্যাঁ, খুব সস্তায় পেয়েছিলাম, সে বলল

এরকম একটা নৌকা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু কখনো কিনতে পারিনি, হ্যাঁ, বুঝতেই পারছেন, এত বিয়ার খাওয়ার খরচও তো কম নয়, কিন্তু বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, সার্তোরের একজন স্ট্রিলেল্যান্ডার এখানে এসে হাজির হয়েছিল একটা শিয়ার্ক নিয়ে, সম্ভবত কোনো নারীর কারণে, তার নাম ছিল এলিন, হ্যাঁ, এক রাতে আমরা বসে একটু পান করছিলাম, তখন সে আমাকে তার আরেকটা নৌকা যুক্তিসংগত দামে বিক্রি করার প্রস্তাব দিল, হ্যাঁ, যেহেতু তার কাছে ইতোমধ্যে একটা শিয়ার্ক ছিল, তাই অন্য নৌকাটা সে আমাকে যুক্তিসংগত দামে ছেড়ে দেবে, এই ছিল তার কথা, আসলে সে ওটা থেকে মুক্তি পেতেই চাইছিল, তাই আমি নৌকাটা প্রায় বিনা পয়সায় পেয়ে গেলাম, নাবিক বলল, তারপর সে বলল, যে লোকটা তাকে নৌকাটা বিক্রি করেছিল, সে তার শিয়ার্ক নিয়ে আবার সার্তোরে ফিরে গিয়েছিল, আর সে বলল, এর চেয়ে বড়ো সৌভাগ্য তার জীবনে আর কখনো হয়নি, এর চেয়ে ভালো লেনদেনও নয়, কারণ নৌকাটা খুব ভালোভাবে তৈরি করা ছিল, আর খুব যত্ন করে রাখা হয়েছিল, এর ইঞ্জিনে কখনো একটা সমস্যাও দেখা দেয়নি, শুনেছে, হার্ডেন্জার ফিয়র্ডের দিকের কোনো এক নৌকা নির্মাতা এটা তৈরি করেছিলেন, আর তিনি নিশ্চয়ই ভীষণ দক্ষ একজন কারিগর ছিলেন,

নৌকাটার একমাত্র সমস্যা ছিল এর নাম, এলিন, আর সম্ভবত আগের মালিকই এই নাম দিয়েছিল, মনে হয়, সে তার প্রেমিকা, কিংবা স্ত্রী, কিংবা যেই হোক না কেন, তার নাম অনুসারে নৌকাটার নাম রেখেছিল, ঠিক যেমন নাবিকেরা যে মেয়েটিকে তখন ভালোবাসে, তার নাম হাতের পেছনে উলকি হিসেবে আঁকিয়ে নেয়, তারপর সারা জীবন সেটা বয়ে বেড়াতে হয়, কারণ পরে যদি সে বিয়ে করে, তাহলে স্ত্রীর নাম তো সাধারণত অন্য কিছু হয়, এভাবেই হয়, সে একসময় এমন অবস্থায় পড়া অনেক লোককেই চিনত, নাবিক বলল, আর সবাই জানত, নৌকার নাম বদলানো নিশ্চিত দুর্ভাগ্যের লক্ষণ, তাই নৌকাটার নাম এলিনই রয়ে গেছে, সে বলল

ওটা এক অসাধারণ নৌকা, আমি বললাম

হ্যাঁ, এই নৌকার সঙ্গে আমার সত্যিই একটা টান তৈরি হয়েছে, নাবিক বলল

আমি এখান থেকে একটু পশ্চিমে একটা দ্বীপে থাকি, সে বলল

আর সেই দ্বীপ থেকে কোথাও যেতে হলে আমার একটা নৌকা দরকার, সে বলল

আর বহু বছর ধরে এই নৌকাটাই আমার সঙ্গে আছে, সে বলল

হ্যাঁ, যখন আমি তরুণ ছিলাম, তখন বড়ো হয়ে প্রথম যে জিনিসটা কিনতে চেয়েছিলাম, হ্যাঁ, সেটা ছিল একটা নৌকা, সে বলল

আর আমি অনেক আগে থেকেই এই নৌকাটাকে লক্ষ্য করতাম, সে বলল

এর বার্নিশের এমন সুন্দর চকচকে আভা ছিল, সে বলল,

আর যেদিন থেকে এটা আমার হয়েছে, প্রতি বসন্তেই আমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা আর মেরামতের কাজ খুব যত্ন নিয়ে করে আসছি, সে বলল

তাই এর তলার জন্য আলকাতরা আর পাশের দিকের জন্য বার্নিশ কিনতে গিয়ে বছরের পর বছর আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে, সে বলল

হ্যাঁ, অনেক টাকা আর অনেক পরিশ্রম, সে বলল

আর আমরা দুজনেই চুপ করে রইলাম

হোটেলের সামনে যে গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে, ওটা কি আপনার, সে বলল

হ্যাঁ, আমি বললাম

দেখতে তো ভালো গাড়ি মনে হচ্ছে, সে বলল

হ্যাঁ, ভালোই চলে, আমি বললাম

তবে খুব বেশি দিন হয়নি, গতকালই কিনেছি, আমি বললাম

আর ঠিক তখনই সামনের দরজাটা খুলে গেল, ব্রিটা ভেতরে ঢুকল, আর তার পেছনে হাঁটতে হাঁটতে আসছে দোকানদার, তবে এবার সে কাজের অ্যাপ্রন খুলে ফেলেছে, এখন তার গায়ে সাধারণ একটা কোট, আর মাথায় একটা টুপি, আমি দোকানদারের দিকে মাথা নাড়লাম, সেও মাথা নেড়ে উত্তর দিল

এই যে, যাঁর কাছ থেকে আপনি নাকি মাছ ধরার সেট কিনেছেন, তিনি এসে গেছেন, এখন তাকে জিজ্ঞেস করুন, ব্রিটা বলল

আর আমি দোকানদারকে বললাম, নিশ্চয়ই তার মনে আছে যে একটু আগেই আমি তার দোকানে গিয়েছিলাম আর একটা মাছ ধরার সেট কিনেছিলাম, সে আমার দিকে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাকাল

মাছ ধরার সেট, সে বলল

হ্যাঁ, আমি বললাম

না, আমার তো তা মনে পড়ছে না, দোকানদার বলল

আর আমি বিস্ময়ে তার দিকে তাকালাম, পাগল কি আমি, নাকি সে, ভাবলাম, কারণ এ সবকিছু, না, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না

হ্যাঁ, শুনলেন তো, ভদ্রলোক কী বলছেন, ব্রিটা বলল

আর দোকানদার ব্রিটার দিকে তাকাল

তাহলে সব হয়ে গেছে? সে বলল

হ্যাঁ, ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ, সে বলল

তারপর দোকানদার আমাকে সম্ভাষণ জানিয়ে শুভরাত্রি বলল, আমিও বললাম আপনাকেও, তারপর সে নাবিকের দিকে তাকিয়ে তাকেও শুভরাত্রি জানাল, আর নাবিক একটা হাত তুলে বলল আপনাকেও শুভরাত্রি, তারপর ব্রিটা দোকানদারের জন্য দরজা খুলে দিল, দোকানদার বেরিয়ে গেল, আর ব্রিটা আমার দিকে তাকাল

এই তো, আপনি নিজেই শুনলেন, উনি কী বললেন, সে বলল

ইংরেজি ভাষান্তর : দামিওন সিয়ার্লস





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html