ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) জেনারেল এডুকেশন বিভাগ (জিইডি) এবং মাত্রা গবেষণা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ‘মণিপুরি সংস্কৃতি: সমাজ, উৎসব ও পরিবেশনশিল্প’ শীর্ষক একাডেমিক কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। ‘ইনট্রোডাকশন টু ড্রামা’ কোর্সের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইউল্যাব ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেনারেল এডুকেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুসনে জাহান। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত শিক্ষক এবং বিশিষ্ট অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
কর্মশালার একাডেমিক অধিবেশন পরিচালনা করেন বিশিষ্ট মণিপুরি গবেষক সুকান্ত সিনহা। তিনি মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সমাজজীবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, উৎসব, সংগীত, নৃত্যধারা এবং সমৃদ্ধ শিল্প-ঐতিহ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং বিষয়ভিত্তিক নানা প্রশ্নের মাধ্যমে আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অর্ণব শর্মার পরিবেশনায় পুং (মণিপুরি মৃদঙ্গ) বাদন এবং শাস্ত্রীয় মণিপুরি নৃত্য। তাঁর পরিবেশনা অংশগ্রহণকারীদের মণিপুরি পরিবেশনশিল্পের নান্দনিকতা, আধ্যাত্মিকতা, তাল-লয় এবং শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের ছিল উৎসাহী অংশগ্রহণ। একাডেমিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে কর্মশালাটি শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি আরও সমৃদ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউল্যাবের জেনারেল এডুকেশন বিভাগ ও মাত্রা গবেষণা সংস্থা দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে ভবিষ্যতেও এ ধরনের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।