ঢাকাWednesday , 10 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যে হাটে দিনে বিক্রি হয় ১৫ কোটি টাকার লিচু


June 10, 2026 9:10 am
Link Copied!


স্বাদ, গন্ধ ও মিষ্টতায় আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকায় দিনাজপুরের লিচু দেশ-বিদেশে বেশ সমাদৃত। তাইতো এই জেলার লিচুর প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে একটু বেশিই। দিনাজপুরের বেদেনা জাতের লিচু জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতিমধ্যে এই জাতের লিচুতে বাজার ভরে উঠেছে। শুধু কি বেদেনা জাত, মাদ্রাজী, বোম্বাই, চায়না থ্রি, চায়না ফোর, গোলাপী, হাড়িয়াসহ নানান জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। যার দামও হাতের নাগালে।

দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজারও বসে দিনাজপুরের কালিতলা ফল মার্কেটে। যেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার লিচুর বেচাকেনা হয়। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন বাগানগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি লিচু কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন।

কৃষি অধিদফতর বলছে, চলতি বছরে জেলায় ৭০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার লিচুর বেচাকেনা হবে।

চলতি মৌসুমে মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দিনাজপুরের কালিতলার নিউমার্কেট এলাকায় এই লিচুর হাট বসেছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে শুরু করে লিচু ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতারা। এ ছাড়া রয়েছে এই বাজারের মূল আকর্ষণ বিখ্যাত দিনাজপুর সদরের মাসিমপুরের লিচু। এ ছাড়াও বিরল উপজেলার মাধববাটী এলাকার লিচুরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শুরু হয় দিনাজপুরের কালিতলা নিউমার্কেটের লিচুর বাজার। সকাল থেকেই জেলার সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, কাহারোলসহ আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে শতশত ভ্যান ও ইজিবাইকে করে বাগানি ও কৃষকরা লিচু নিয়ে এই বাজারে হাজির হন। সেই লিচুর বেচাকেনা চলে রাত অবধি। জাত, আকৃতি ও মানভেদে দরদাম শেষে এসব লিচু যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

যে হাটে দিনে বিক্রি হয় ১৫ কোটি টাকার লিচু

বর্তমানে বাজারে বেদেনা জাতের লিচু প্রতি একশ’ পিস ৬০০ থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চায়না থ্রি জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে শুরু করে ১৪০০ টাকা দরে। বোম্বাই লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। আর হাড়িয়া জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। এ ছাড়াও মোজাফফরী ও গোলাপী জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের ছুটির পর জমে উঠেছে লিচুর বাজার। তবে এবারে আবহাওয়াজনিত কারণে লিচুর ফলন কম হয়েছে। এ জন্য তাদের আশা ছিল, দাম বেশি হবে। কিন্তু যে দামে লিচু বেচাকেনা হচ্ছে তাতে লোকসান না হলেও খুব একটা লাভ হবে না।

বিরলের মাধববাটী এলাকার লিচু চাষী রহিম উদ্দিন বলেন, আমার ৫০টি লিচু গাছ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক বোম্বাই ও মাদ্রাজী জাতের। আর বাকিগুলো বেদেনা। তবে এবারে বেদেনার ফলন একেবারেই কম এসেছে। বোম্বাই ও মাদ্রাজীর ফলন ভালো হলেও দাম কম। যে পরিমাণে মুকুল এসেছিল, সেই পরিমাণে লিচু ধরেনি।

সদরের উলিপুর এলাকার লিচু চাষী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমাদের লিচু দেশে-বিদেশে বিখ্যাত। এ জন্য দাম ভালো থাকে। কিন্তু এবারে দাম কম। এমনিতেই ফলন কম, তার ওপর দাম কম হওয়ায় খুব একটা লাভবান হতে পারবো না। কারণ লিচু উৎপাদনে প্রচুর ব্যয় করতে হয়।

সদরের মাসিমপুর এলাকার বাগানী আজগার আলী বলেন, আমাদের এবারে ফলন কম হয়েছে। তবে এবারে লিচু ফেটে যাওয়া রোগ কম। ফলে লিচু যা ধরেছে সেটা টিকেছে, নষ্ট হয়নি। এ জন্য মোটামুটি লাভবান হতে পারবো।

লিচু কিনতে আসা ঢাকার বনানী এলাকার সুমি আক্তার বলেন, দিনাজপুরে আমার আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলাম বেড়াতে। এখন ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। এ জন্য নিজের চোখে দেখে লিচু কিনলাম। দোকানি ভাই আমাকে দুইটা লিচু খাইয়েছে। অনেক স্বাদ, অনেক মিষ্টি।

যে হাটে দিনে বিক্রি হয় ১৫ কোটি টাকার লিচু

দিনাজপুর শহরের সুইহাড়ী এলাকার রিপন চন্দ্র বলেন, বাড়ির জন্য লিচু নিলাম। ৪টি জাতের ৫০টি করে মোট ২০০টি লিচু নিয়েছি। এবারে দাম কম, আমাদের নাগালের মধ্যে।

ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী ফিরোজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন আমি ১৫০-২০০ থেকে ক্যারেট (প্লাষ্টিকের বক্স) ঢাকায় পাঠাই। সেখানে আড়ত আছে। ঢাকায় দিনাজপুরের লিচুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। তবে এবারে মোটামুটি চাহিদা কম, তাই দামও কম। কারণ এখন দেশের বিভিন্ন স্থানেই লিচুর চাষাবাদ হচ্ছে। অনেক জেলা থেকে ঢাকায় লিচু যায়।

আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুরের লিচু ভালো। এ জন্য দিনাজপুরের লিচুর দাম বেশি। অন্য জেলার লিচুর চেয়ে দাম বেশি দিয়েই নিচ্ছি। এবারে লিচুর দাম কম না। এখন আমদানি বেশি তাই দাম কম, কয়েকদিন পর দাম বেড়ে যাবে।

দিনাজপুরের লিচু ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম বলেন, ঈদের সময় দাম কম ছিল। এখন দিন দিন দাম বাড়ছে। আর কয়েকদিন পর আরও দাম বাড়বে। কারণ বাগানগুলোতে খুব বেশি লিচু নাই।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. এজামুল হক বলেন, এই বছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবছর প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছিল। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে পরাগায়নে সমস্যা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা বেশি ছিল এবং রাতের তাপমাত্রা কম ছিল। এরপরও যে পরিমাণ লিচু ধরেছিল কালবৈশাখী ঝড়েও বেশ লিচু ঝড়ে পড়েছে। এতে করে গত বছরের তুলনায় এবারে ফলন কম হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি, যে পরিমাণে লিচু এসেছে সেগুলো যাতে টিকে থাকে। এখন লিচু বাজারে উঠছে। এই জেলায় বোম্বাই লিচু আবাদ হয় ৪৯ ভাগ, মাদ্রাজী লিচু আবাদ হয় ২৫ ভাগ, আর ঐতিহ্যবাহী বেদেনা লিচু আবাদ হয় ১০ ভাগ। বাকি ১৫ শতাংশ লিচু আবাদ হয় অন্য জাতের। ইতিমধ্যেই বেদেনা জাতের লিচু জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতি বছর এখানে ৭০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার লিচুর বেচাকেনা হয়। এখন যে বাজার আছে এই বাজার আরও বাড়বে। এতে করে এই বেচাকেনা আরও বাড়তে পারে। এই বছরও ৭০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার লিচুর বেচাকেনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।





Source link

🔴 LIVE ```html ```