ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় সুশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।’ বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত ও টেকসই করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক রেগুলেটরকে স্বাধীন এবং রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।
‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনীতি নিরপেক্ষভাবে অর্থনীতির স্বার্থেই পরিচালিত হবে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকটিতে আর্থিক কোনও অনিয়ম হলে বা সুশাসনের কোনও ঘাটতি হলে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দল পুরো তর্কটাকে রাজনীতিকরণ করেছে।
‘জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি ব্যাংককে কেন্দ্র করে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। একদল ব্যাংকের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছে, আরেক দল তা সাব্যস্ত করতে চাইছে। আমরা মনে করি, এটি অহেতুক একটি বিতর্ক, যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে জাতির মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংককে ব্যাংক হিসেবেই কাজ করতে দিতে হবে। কোনও দলের কর্মী তোষণ বা নির্বাচনি ফান্ড হিসেবে নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককেও বিষয়টি সুরাহা করতে হবে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনও রাজনৈতিক দৃষ্টিতে নয়।
‘দেশের আর্থিকখাত ভঙ্গুর হয়ে আছে। বৈশ্বিক জটিলতায় জ্বালানি খাত মহাসংকটে নিপতিত। দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে না, কর্মসংস্থানে কোনও আশাবাদ নেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুকতার চুড়ান্ত সীমা স্পর্শ করেছে। আর সীমান্তে পুশ ইনের মতো বহুরাষ্ট্রীয় সমস্যা আমাদের সামনে। এমন সময় একটি ব্যাংকের রাজনৈতিক দখল ও প্রতি দখল নিয়ে সংসদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা জাতি প্রত্যাশা করে না।’