বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এই নতুন রূপরেখা ও বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে অর্থনীতির চাকা দ্রুত সচল করা এবং প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর এক বড় ধরনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে নিয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে আটকে রাখা বেশ কঠিন ও উচ্চাভিলাষী। তবে সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন মোটেও সহজ হবে না। কারণ বর্তমানে দেশের শিল্প উৎপাদন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এর বাইরেও সামষ্টিক অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কিছু বড় ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট: দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে চলমান ক্যাশ বা তারল্য সংকট নতুন বিনিয়োগের পথকে সংকুচিত করছে।
খেলাপি ঋণের চাপ: লাগামহীন খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে, যা ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দামের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রতিনিয়ত চাপ তৈরি করছে।