ভারতের বেঙ্গালুরুতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে ভয় দেখিয়ে ৬ লাখ রুপি নগদ ও ১৫০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নগদ টাকা ও স্বর্ণ মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির সম্পদ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাগালাগুন্টে থানায় ১০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এফআইআরে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন প্রকাশ, সাগর, তরুণ, বীরেশ, শঙ্কর, দিগন্ত, লিখিত, প্রজ্বল, নাগরাজু ও প্রশান্ত।
ছাত্রের বাবা আদিল পাশার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে পরিবারের বাড়ির কাছে একটি খালি জায়গায় নিয়মিত যাতায়াতকারী প্রকাশ ওই কিশোরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। পরে প্রকাশ তার বৈদ্যুতিক দুই চাকার গাড়ি নষ্ট করার মিথ্যা অভিযোগ এনে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ভয়ে কিশোরটি বাবা-মায়ের আলমারি থেকে টাকা নিয়ে তাকে দেয়।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে প্রকাশ আরও টাকা দাবি করতে থাকেন এবং সাগর নামে আরেকজনকে কিশোরটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একবার তারা কিশোরটিকে জালাহাল্লি ক্রসের গিরিয়াসের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সাগর ছুরি দেখিয়ে টাকা দাবি করলে কিশোরটি আরও ৫০ হাজার রুপি দেয়।
পরে প্রকাশ ও সাগর কিশোরটিকে হুমকি দেন, তাদের সহযোগীরা তার কাছ থেকে আরও টাকা নিতে আসবে। টাকা না দিলে তাকে ও তার বাবা-মাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক মাসে আসামিদের কয়েকজন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরটির পথ আটকে টাকা দাবি করেন। এভাবে সে মোট ৬ লাখ রুপি দেয়। এর মধ্যে তরুণকে ২ লাখ, সাগরকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং প্রকাশকে ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের নগদ অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা স্বর্ণালঙ্কার দাবি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। বাবা-মাকে হত্যা করে বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার হুমকির পর কিশোরটি তার মায়ের ১৫০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, কানের দুল, চুড়ি, হার, চেইন, ব্রেসলেট ও আংটি দিয়ে দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
২ সেপ্টেম্বর কিশোরটির মা পরিবারের আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে না পেলে। বাবা-মা জিজ্ঞাসার পর কিশোর পুরো ঘটনা জানায়। ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩০৮(২) ও ১৯০ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়েছে।