চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ৮০ বছরের ইতিহাসে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার তার প্রচেষ্টা শেষ হলো।
৭৪ বছর বয়সী ব্যাশেলেট শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করেছি যে জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থিতা আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, এমনকি ‘সময়টি উপযুক্ত না হলেও’ তিনি যে এই ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করেছিলেন, সে জন্য তার কোনও আফসোস নেই। তিনি যে ধরনের প্রার্থিতার প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলেন, তার জন্য হয়তো সময়টি উপযুক্ত ছিল না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
ব্যাশেলেটের এই সিদ্ধান্তের আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোট বা ‘স্ট্র পোল’ প্রকাশ করে। সেখানে ব্যাশেলেট মাত্র ১টি ‘উৎসাহিত’ ভোট, ১১টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট এবং ৩টি ‘মতামত নেই’ ভোট পান। জুলাইয়ের ভোটে তিনি ৬টি উৎসাহিত ভোট এবং আগস্টে ২টি উৎসাহিত ভোট পেয়েছিলেন।
একই ভোটে বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রধান কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান ৯টি উৎসাহিত ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, যিনি ৮টি উৎসাহিত ভোট পান।
এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা।
নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রার্থীকে সুপারিশ পেতে হলে ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে এবং পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের—কোনও একটি দেশের ভেটো এড়াতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ফেব্রুয়ারিতে চিলি ব্যাশেলেটকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। ব্রাজিল ও মেক্সিকোও তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছিল। গত ৮০ বছরে মাত্র একজন লাতিন আমেরিকান—পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েয়ার—জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছেন। এ দফায় অনানুষ্ঠানিক আঞ্চলিক পালাবদলের হিসাব অনুযায়ী লাতিন আমেরিকার পালা আসার কথা ছিল।
যিনি বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হবেন, তার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। নতুন মহাসচিব এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন, যখন জাতিসংঘ একাধিক জটিল সংকটের মুখোমুখি।
গুতেরেস চলতি বছরের শুরুতে সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘জাতিসংঘ আসন্ন আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।’ ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য দেশগুলোর কাছে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল এবং মাত্র অল্প কয়েকটি দেশ তাদের নির্ধারিত অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ করেছিল।
আগামী সপ্তাহে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হবেন। অধিবেশন মঙ্গলবার শুরু হবে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য হলো— ‘আস্থা পুনঃস্থাপন, পরিবর্তন মোকাবিলা’।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন জাতিসংঘকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, এসব বড় শক্তির কয়েকটি দেশ নিজেরাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং নিরাপত্তা পরিষদে বসে আছে। গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংকটে জাতিসংঘের অচলাবস্থা স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা