ঢাকাTuesday , 22 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেলের মূল্যবৃদ্ধি: পরিবহন থেকে নিত্যপণ্যে বাড়তি খরচের শঙ্কা


September 22, 2026 12:25 am
Link Copied!


গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এমনিতেই বাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের ব্যয়ের বোঝা। এরই মধ্যে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে প্রধান চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাদের মতে, এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে এবং কমবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যা সোমবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসানের পরিমাণ ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

ভর্তুকির চাপ ও মূল্যস্ফীতি

সম্প্রতি সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে; যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির চেয়ে অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। একইসঙ্গে দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে। এর ফলে বিমার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে। এ অবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না। আমরা বারবারই বলেছিলাম যে উপায়হীন না হলে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তটি সরকার নিতে চাইবে না, কিংবা নেবে না।

এদিকে আগস্টে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক কম হলেও তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তা বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

আন্তর্জাতিক সংকট ও সরকারের উভয় সংকট

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট এখন বিশ্বজুড়ে। যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ প্রাথমিকভাবে নিজেদের মজুত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এখন সবার মজুত কমছে। ফলে সবাই তেল কেনা শুরু করেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করলে দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের কিছু করার নেই। সরকার উভয় সংকটে পড়েছে। একদিকে ভর্তুকির চাপ, অন্যদিকে রাজস্ব ধরে রাখার বিষয় রয়েছে। ফলে বিকল্প কিছু করার সুযোগ নেই।

ম. তামিম আরও বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। একদিকে পরিবহন খরচ বাড়বে, এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। মানুষের আয় তো বাড়বে না। ফলে জনগণের ত্রাহি অবস্থা হবে।

পরিবহন ব্যয় বাড়লে প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতে। ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।

পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্য, কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য বাজারজাত করার খরচও বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচ পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সরকার নিরুপায়। তবে এটাও ঠিক যে এর সবচেয়ে বড় ভোগান্তির শিকার হবেন সাধারণ মানুষ। শুধু খাদ্য নয়, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, সরকার পে স্কেল ঘোষণা করেছে, সেখানে সরকারকে বাড়তি ৩৭ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। সব ক্ষেত্রেই সরকারকে বাড়তি খরচের দিকে যেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার একটি কাজই করতে পারে; পরিবহনে ভাড়া বাড়ার ক্ষেত্রে যাতে ন্যায্য পরিমাণে বাড়ে, তা নিশ্চিত করা। সব সময় দেখা যায়, তেলের দাম বাড়ার পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। সেটি বন্ধ করা জরুরি।

এদিকে কৃষিতেও যে দাম ধরা হবে, সেটিই যেন রাখা হয়, তা মনিটরিং করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক কাঠামোতে যেতে হবে। একটি স্বয়ংক্রিয় মূল্যকাঠামোতে যাওয়া গেলে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুবিধা পাবে। সে যদি জানতে পারে আগামী সপ্তাহে দাম কেমন থাকতে পারে, তাহলে সে অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নিতে পারবে।

কমবে ক্রয়ক্ষমতা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পড়বে। আয় অপরিবর্তিত থাকলেও দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবারগুলোর সঞ্চয় ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমতে পারে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষকে বাড়তি ব্যয় সামলাতে বেশি চাপের মুখে পড়তে হবে।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহম্মদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও একটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতো। এখন সরকারও একই কাজ করছে। যখন সারা বিশ্বের সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তখন এই সময়ে পে-স্কেল দেওয়া বা মেগা প্রকল্প কি জরুরি ছিল?

তিনি বলেন, লোকসানের নানা কথা বলা হলেও আগে যখন তেলের দাম কম ছিল, তখন বিপিসি লাভ করেছে। তাহলে এখন লোকসান হলেও সেটি দাম না বাড়িয়েও পোষানো যেতো। সব কিছু জনগণের ঘাড়ে চাপানোটা সরকারগুলোর একটি নিয়মে পরিণত হচ্ছে।

আনু মুহম্মদ বলেন, এখনই এসব করা সমুচিত হয়নি। মনে হচ্ছে, সরকার নিজেই নিজের জনপ্রিয়তা কত দ্রুত কমানো যায়, সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ইমপ্যাক্ট বিবেচনা করা হচ্ছে না একেবারেই। অন্য দেশের সঙ্গে যে তুলনা করা হয়, সেটিও ঠিক নয়। কারণ অন্য দেশের তুলনায় আমাদের আয় অনেক কম।

সামনে কী হবে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, সরকারের ভর্তুকির চাপ এবং বিপিসির লোকসানের দাবি, দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর প্রভাব পরিবহন খরচ, পণ্যের দাম ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কোন দিকে যায়, তার সঙ্গে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের নীতি কীভাবে কার্যকর হয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে সরকার কী উদ্যোগ নেয়; এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমনিতেই গ্যাস, বিদ্যুতের সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এরপর এই তেলের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা হাফিজুর রহমান গুলশানের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটি বিষয়, যার সঙ্গে সবার সংযোগ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মানে সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। খাবারের দাম বাড়বে, চালের দাম বাড়বে, মাছের দাম বাড়বে; এ রকম সব পণ্যের দাম বাড়বে। আপনি বাসা থেকে বের হবেন, রাস্তায়ও বেশি টাকা লাগবে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম নামে এক রাইড শেয়ারিং চালক বলেন, ‘এবারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো তো আমাদের ওপর একেবারে পেরেক ঠুকে মারার মতো। এমনিতেই আমাদের অবস্থা তত ভালো না, তার ওপর এভাবে দাম বাড়লে আমরা কীভাবে রাইড শেয়ারিং করবো।’

‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি। সেই কারণে জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html