ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যাংক খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, অর্থনীতি নদীতে পড়ার শঙ্কা: মাহবুব উল্লাহ


October 29, 2026 9:35 pm
Link Copied!


দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন, ঋণখেলাপি, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। অধিকাংশ ব্যাংক এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যে লাইনচ্যুত হয়েছে। ভবিষ্যতে শুধু লাইনচ্যুতই নয়, অর্থনীতি হয়তো নদীতে গিয়ে পড়বে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ধনীদের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রবণতা বন্ধ না হলে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের শেষ দিনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত দুর্বল, ভঙ্গুর। এটি প্রায় বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।’

আস্থার সংকটে ব্যাংক খাত

ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করেন মাহবুব উল্লাহ। তার মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অধিকাংশ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কিছু ব্যাংক ভালোভাবে পরিচালিত হলেও সামগ্রিক খাতের দুর্বলতা কাটেনি।

তিনি বলেন, বাজারের নিয়ম মেনে চললে সংকটে থাকা অধিকাংশ ব্যাংক এত দিনে বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু নানা উপায়ে সেগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে কয়েকটি ব্যাংক এখনও ভালো করছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরো খাতের সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন এই জাতীয় অধ্যাপক।

অলিগার্কদের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিযোগ

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থকে দায়ী করেন মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই শোষণের সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না; বরং স্বল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তা ভোগ করছেন। রাষ্ট্র নিজেই এ ধরনের অলিগার্ক গোষ্ঠীর জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা রাষ্ট্রকে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সাম্রাজ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ফলে তাদের সমর্থক, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।

মাহবুব উল্লাহর মতে, রাষ্ট্রের এই চরিত্র পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। অল্প কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বের করে আনতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

বেসরকারি খাত ঋণবঞ্চিত হচ্ছে

বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মনোযোগ অতিরিক্তভাবে সরকারের দিকে চলে গেছে বলেও মন্তব্য করেন মাহবুব উল্লাহ। তার মতে, বেসরকারি খাতের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর মনোযোগ কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছেন।

এতে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের ঋণের বোঝা বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

ব্যাংক ও শিল্পকারখানার বেসরকারীকরণ নিয়ে আলোচনা হলেও সুশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন না এলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি।

ব্যাংকে অলস তারল্য ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে বিপরীতমুখী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে, অন্যদিকে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে অলস বা অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বরকত-এ-খোদার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে অলস তারল্যের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ পরিমাণ বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।

ব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে থাকার বিপরীতে কিছু ব্যাংকের তারল্যসংকট অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার বৈষম্য তুলে ধরে।

খেলাপি ঋণের পেছনে তিন কারণ

বরকত-এ-খোদা অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেন। এগুলো হলো রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল সুশাসন, নমনীয় নীতিমালা এবং বারবার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া, আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি।

তিনি বলেন, অর্থ পাচার ও ব্যাপক আর্থিক আত্মসাৎ ব্যাংকিং খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার উপস্থাপনায় দাবি করা হয়, ভুয়া ঋণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে আনুমানিক পাঁচ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি আড়াই লাখ কোটি থেকে তিন লাখ কোটি টাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বরকত-এ-খোদার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের কিছু পরিচালক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী উপযুক্ত জামানত কিংবা ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছা ছাড়াই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নেটওয়ার্ক ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে গেছে।

তার মতে, এসব অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করা, ঋণ অনুমোদন ও আদায়ে জবাবদিহি বাড়ানো এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

সম্মেলনে বিআইবিএমের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব স্বাগত বক্তব্য দেন। ব্যাংকিং খাতের সংকট, সুশাসন, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html