গালে, চোয়ালে কিংবা মুখের ভেতরে হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে অনেকেই মনে করেন, দাঁত বা মাড়ির কোনও সমস্যা হয়েছে। কেউ আবার সাইনাসের সমস্যাকে এর কারণ বলে ধরে নেন। কিন্তু দাঁতে কোনও দৃশ্যমান সমস্যা না থাকলেও কখনও কখনও মুখের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ব্যথার নেপথ্যে থাকে স্নায়ুর সমস্যা। তাই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
মুখের বিভিন্ন অংশে ব্যথার একটি সম্ভাব্য কারণ ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া। ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু মুখের অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এই স্নায়ুতে চাপ বা অন্য কোনও সমস্যা হলে মুখের এক পাশে হঠাৎ বিদ্যুতের ঝটকা কিংবা সুচ ফোটানোর মতো তীব্র ব্যথা হতে পারে। গাল, চোয়াল, ঠোঁট এমনকি দাঁতেও সেই যন্ত্রণা অনুভূত হয়। দাঁতের ব্যথার সঙ্গে এর লক্ষণের মিল থাকায় অনেক সময় বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হয়। মুখে হালকা স্পর্শ, কথা বলা, দাঁত ব্রাশ করা কিংবা খাবার চিবোনোর মতো সাধারণ কাজেও ব্যথা শুরু হতে পারে।
মাথার পেছনের দিকে ব্যথার একটি সম্ভাব্য কারণ অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া। ঘাড়ের ওপরের অংশ থেকে মাথার পেছনে ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুতে সমস্যা হলে এই ধরনের ব্যথা হতে পারে। সাধারণত মাথার পিছনে তীক্ষ্ণ বা বিদ্যুতের ঝটকার মতো যন্ত্রণা অনুভূত হয়। কখনও ব্যথা মাথার ওপরের অংশে বা চোখের আশপাশেও ছড়াতে পারে। তবে গাল ও চোয়ালের ব্যথার সব ক্ষেত্রে এই সমস্যাকে দায়ী করা যায় না। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
দাঁত বা মাড়ির সমস্যা ছাড়াও চোয়ালের সন্ধি ও পেশির সমস্যায় মুখে ব্যথা হতে পারে। চিবোনোর সময়ে যন্ত্রণা, চোয়ালে টান, মুখ খুলতে অসুবিধা কিংবা চোয়াল নড়ানোর সময়ে শব্দ হলে সেই সম্ভাবনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। আবার মাইগ্রেনসহ কিছু ধরনের মাথাব্যথার প্রভাবেও মুখ বা চোখের আশপাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
ব্যথার ধরন ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণ খেয়াল করা জরুরি। মুখের নির্দিষ্ট অংশে বারবার তীব্র ব্যথা, চিবোতে অসুবিধা কিংবা মুখের পেশিতে অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দাঁতের সমস্যা মনে হলে দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। তবে ব্যথার কারণ স্পষ্ট না হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে স্নায়ুর রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে মুখ হঠাৎ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা, দৃষ্টির আকস্মিক পরিবর্তন কিংবা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এগুলি স্ট্রোকসহ গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তীব্র বা নতুন ধরনের মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা চোখে তীব্র ব্যথা হলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
মুখের ব্যথাকে শুধু দাঁতের সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপ।